ঢাকেশ্বরী মন্দিরে সি আর দত্তকে শেষ শ্রদ্ধা


145 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
ঢাকেশ্বরী মন্দিরে সি আর দত্তকে শেষ শ্রদ্ধা
সেপ্টেম্বর ১, ২০২০ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

মুক্তিযুদ্ধকালীন ৪ নম্বর সেক্টর কমান্ডার এবং বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) চিত্ত রঞ্জন (সি আর) দত্ত বীরউত্তমের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

মঙ্গলবার সকালে জাতীয় পতাকায় মুড়ে সি আর দত্তের কফিন নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে।

ঢাকার জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলামের উপস্থিতিতে তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানো হয়। এরপর তাকে ফুলেল শ্রদ্ধা জানায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

এ সময় সি আর দত্তের ছেলে চিরঞ্জিত দত্ত সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাবাকে আমরা ভিন্নভাবে দেখেছি নানা সময়ে। এ দেশ নিয়ে তিনি সব সময় স্বপ্ন দেখতেন। কত প্রতিকূল পরিস্থিতিতে তিনি দেশের জন্য লড়াই করেছেন। বাবার স্বপ্ন ছিল এক অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের। তিনি সারা জীবন সে লক্ষ্যে কাজ করে গেছেন। কোনো কিছু নিয়ে তার কখনও কোনো আক্ষেপ ছিল না। দেশকে তিনি হান্ড্রেড পারসেন্ট ভালোবাসতেন।’

সি আর দত্তের মেজ মেয়ে চয়নিকা দত্ত বলেন, ‘বাবার সবটুকু স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশকে নিয়ে। সোনার বাংলার উন্নতি হবে কীভাবে তাই নিয়ে ভাবতেন তিনি।’

বড় মেয়ে মহুয়া দত্ত এবং ছোট মেয়ে কবিতা দাসগুপ্তও বাবাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন ঢাকেশ্বরীর প্রাঙ্গণে।

সি আর দত্ত যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় তার মেয়ের বাসায় গত ২০ আগস্ট বাথরুমে পড়ে গেলে তার পা ভেঙে যায়। এরপর তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে তার শারিরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৫ আগস্ট বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর।

সোমবার তার মরদেহ যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে পৌঁছানোর পর রাখা হয় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) হিমঘরে। মঙ্গলবার সকালে পরিবার ও স্বজনদের শেষ দেখার জন্য কফিন নেওয়া হয় তার বনানী ডিওএইচএসের বাসায়। সেখান থেকে সকাল সোয়া ৮টার দিকে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয় মরদেহ।

আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় নেতারা। এ সময় হানিফ বলেন, ‘সি আর দত্ত শুধু মুক্তিযোদ্ধাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন সংগঠক। দেশের যেকোনো ক্রান্তিকালে তিনি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন, গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। রণাঙ্গনে তার সাহসী ভূমিকা জাতি চিরদিন স্মরণ করবে। জাতির পিতার যে স্বপ্ন, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে তার অনন্য ভূমিকা জাতি চিরদিন স্মরণ করবে।’।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি, বাংলাদেশ মহিলা ঐক্য পরিষদ, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, বাংলাদেশ শিক্ষক ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকেও সি আর দত্তের প্রতি জানানো হয় ফুলেল শ্রদ্ধা।

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত বলেন, ‘সি আর দত্তের উপর যখন যে দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে, তা তিনি কর্তব্যনিষ্ঠ থেকে সততার সঙ্গে পালন করেছেন। দেশের প্রতি তার নিষ্ঠা ও দেশপ্রেম ছিলো অতুলনীয়।’

তিনি বলেন, জেনারেল এরশাদ যখন তার সামরিক ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করে দেশের মানুষকে ধর্মের ভিত্তিতে বিভক্ত করতে চেয়েছিলেন, তখন সি আর দত্ত সেখানে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। যেখানে অসত্য, অসাম্য তিনি দেখেছেন, তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। আমরা যে স্বপ্ন নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম, ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার, সেখানে সি আর দত্তের আদর্শ সামনে রেখে এগোলে আজ হোক, কাল হোল তা বাস্তবায়িত হবেই।’

সকাল সাড়ে ১০টায় সি আর দত্তের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় সবুজবাগের রাজারবাগ শ্মশানে। সেখানেই সর্বোচ্চ সামরিক সম্মাননা শেষে শেষকৃত্যানুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে।

সি আর দত্তের জন্ম ১৯২৭ সালের ১ জানুয়ারি আসামের শিলংয়ে। তার পৈতৃক বাড়ি হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার মিরাশি গ্রামে।

বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (অধুনালুপ্ত বাংলাদেশ রাইফেলস)-র প্রতিষ্ঠাতা মহাপরিচালক, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের সাবেক চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন সি আর দত্ত।

মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য চিত্ত রঞ্জন দত্ত বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত হন। এছাড়া ঢাকার কাঁটাবন থেকে কারওয়ান বাজার সিগন্যাল পর্যন্ত সড়কটি ‘বীরউত্তম সি আর দত্ত’ সড়ক নামে নামকরণ করা হয়।