তথ্য-প্রযুক্তি আইনের দুটি ধারা বাতিলে উকিল নোটিস


354 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
তথ্য-প্রযুক্তি আইনের দুটি ধারা বাতিলে উকিল নোটিস
আগস্ট ২৬, ২০১৫ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকম ডেস্ক :
ইউনুছ আলী আকন্দ নামের ওই আইনজীবী বুধবার রেজিস্ট্রি ডাকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সচিব এবং তথ্য সচিবকে ওই নোটিস পাঠান।

এতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই দুটি ধারা বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়া না হলে নোটিসদাতা রিট আবেদন নিয়ে হাই কোর্টে যাবেন।

২০০৬ সালে পাস হওয়া  তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ২০০৯ ও ২০১৩ সালে দুই দফা সংশোধন করা হয়। সর্বশেষ সংশোধনে সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর থেকে ১৪ বছর কারাদণ্ড করা হয়। আর ৫৭ ধারার অপরাধকে করা হয় অজামিনযাগ্য।

৫৭ ধারায় বলা হয়েছে- ওয়েবসাইটে প্রকাশিত কোনো ব্যক্তির তথ্য যদি নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হতে উদ্বুদ্ধ করে, এতে যদি কারও মানহানি ঘটে, রাষ্ট্র বা ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়, তা হবে অপরাধ। এর শাস্তি অনধিক ১৪ বছর কারাদণ্ড এবং অনধিক ১ কোটি টাকা জরিমানা।

আর ৮৬ ধারায় বলা হয়েছে, এ আইনের অধীনে ‘সরল বিশ্বাসে করা’ কোনো কাজের কারণে কোনো ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে সে জন্য সরকারি কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা বা কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না।

ওই আইন হওয়ার পর থেকেই বিষয়টিকে ‘বাক স্বাধীনতা পরিপন্থি’ হিসেবে চিহ্নিত করে তা বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছেন অধিকার আন্দোলনের কর্মীরা।

সম্প্রতি ফেইসবুকে একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীকে নিয়ে মন্তব্যের কারণে এক সাংবাদিককে এ আইনের মামলায় গ্রেপ্তার করার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।

অধিকার আন্দোলনের কর্মীরা গ্রেপ্তারের ওই ঘটনাকে তথ্য-প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার ‘অপব্যবহার’ হিসেবে চিহ্নিত করেন। সম্পাদক পরিষদের পক্ষ থেকেও ৫৭ ধারা বাতিলের দাবি জানানো হয়।

ইউনুছ আলী আকন্দ বলছেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ও ৮৬ ধারা সংবিধানের ৭, ২৭, ৩৯ ও ৪০ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে প্রজাতন্ত্রের সকল নাগরিককে ‘সমান অধিকার’ দেওয়া হয়েছে। ৩৯ অনুচ্ছেদে দেওয়া হয়েছে ‘চিন্তা ও বিবেকের’ এবং বাক, ভাব প্রকাশ  ও সংবাদপত্রের ‘স্বাধীনতার নিশ্চয়তা’।

৪০ অনুচ্ছেদে নাগরিকদের আইনসঙ্গত পেশা বা বৃত্তি গ্রহণের অধিকারের কথা বলা হয়েছে। আর ৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ।

ইউনুছ আলীর নোটিসে বলা হয়, তথ্য-প্রযুক্তি আইনের ৮৬ ধারা বৈষম্যমূলক এবং মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থি। এই ধারায় সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে যে ছাড় দেওয়া হয়েছে তা সংবিধানের ২৭ ও ২৮ ধারারও লঙ্ঘন।

সংবিধানের ২৮ ধারায় বলা হয়েছে, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ বা অন্য কোনোভাবে রাষ্ট্র নাগরিকের প্রতি বৈষম্য করতে পারবে না।