তথ্য বিকৃতির অভিযোগ তুললেন সু চি


334 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
তথ্য বিকৃতির অভিযোগ তুললেন সু চি
সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৭ প্রবাস ভাবনা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::
রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন দেশটির রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা নোবেলজয়ী অং সান সুচি। সু চির দাবি, রাখাইন পরিস্থিতি নিয়ে প্রচুর বিকৃত-তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এই বিকৃত তথ্য সন্ত্রাসীদের স্বার্থ রক্ষা করছে।

বুধবার বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে গতকাল মঙ্গলবারের ফোনালাপে সু চি ওই দাবি করেন।

দুই নেতার ফোনালাপের বিষয়ে আজ সু চির দপ্তর থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের নিয়ে প্রচুর ভুয়া ছবি ছড়ানো হচ্ছে। এতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। সন্ত্রাসীদের স্বার্থ উদ্ধারের উদ্দেশ্যে এসব বিকৃত-তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।

তুরস্কের উপপ্রধানমন্ত্রীর টুইটারে পোস্ট করা হত্যাযজ্ঞের ছবির প্রসঙ্গ টেনে সু চি দাবি করেন, ওই ছবি মিয়ানমারের নয়। পরে অবশ্য ছবিগুলো সরিয়ে নিয়েছেন তুরস্কের উপপ্রধানমন্ত্রী। আর বিকৃত-তথ্য ছড়ানোর জন্য সন্ত্রাসীদের দায়ী করেন সু চি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এরদোয়ানকে সু চি বলেছেন, মানবাধিকার-বঞ্চনা ও গণতান্ত্রিক সুরক্ষার অর্থ তারা খুব ভালো করেই জানেন। তাই তারা দেশের সব মানুষের অধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করছেন। এটা শুধু রাজনৈতিক নয়, সামাজিক ও মানবিক অধিকারও বটে।

তবে সহিংসতার মুখে লাখো রোহিঙ্গার মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার বিষয়ে সু চি কোনো মন্তব্য করেননি।

গত ২৪ আগস্ট রাখাইনে বেশ কয়েকটি তল্লাশিচৌকিতে হামলার পর রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যা-নির্যাতন শুরু হয়। নির্বিচারে হত্যা ও বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ায় প্রাণে বাঁচতে মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গারা দলে দলে বাংলাদেশে ঢুকছে।

এ পর্যন্ত মিয়ানমার থেকে কত রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে, তা নির্দিষ্ট করে বলা না গেলেও সংখ্যাটি ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার বলছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সূত্র। তবে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর জেনেভায় মঙ্গলবার এক ব্রিফিংয়ে জানিয়েছে, গত মাস থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে ১ লাখ ২৩ হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে।

এদিকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জয়ী সু চির নীরব ভূমিকার নিন্দায় সরব হয়েছে বিশ্ব। কেউ কেউ তার নোবেল পুরস্কার প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।