তাবলিগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১


264 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
তাবলিগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১
ডিসেম্বর ১, ২০১৮ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

টঙ্গীর তুরাগ নদের পাড়ে বিশ্ব ইজতেমা মাঠে তাবলিগ জামাতের কর্তৃত্ব নিয়ে বিবদমান দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন।

শনিবার দুপুরে নিহত ইসমাইল মন্ডল (৬৫) মুন্সিগঞ্জেের খলিল মন্ডলের ছেলে।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি ইমদাদুল হক সমকালকে এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দুই পক্ষের মধ্যে সকাল থেকেই চলা উত্তেজনা দুপুরের দিকে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে দুই শতাধিক মানুষ আহতের খবর পাওয়া গেছে।

আহতদের অনেককে টঙ্গী শহীদ আহসান উল্যাহ জেনারেল হসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. কমর উদ্দিন জানান, এখানে দুই শতাধিক ব্যক্তি আহত অবস্থায় এসেছেন। তাদের মধ্যে মুমূর্ষ অবস্থায় ১৮ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

তাবলিগ–সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ৩০ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫ দিনের জোড় (সম্মিলন) এবং ১১-১৩ জানুয়ারি ২০১৯ পর্যন্ত তিন দিনের ইজতেমা করার ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের তাবলিগ জামাতের মুরব্বি সাদ কান্ধলভীর অনুসারীরা।

অপরদিকে তাবলিগের হেফাজতপন্থী মাওলানা জোবায়েরের অনুসারীরা ডিসেম্বরের ৭ থেকে ১১ তারিখ পর্যন্ত জোড় এবং আগামী বছরের জানুয়ারির ১৮ থেকে ২০ তারিখ পর্যন্ত তিন দিন ইজতেমার ঘোষণা দিয়েছেন। দুই পক্ষের বিবদমান বিরোধের জেরে হেফাজতপন্থীরা মাঠ দখল করে সতর্ক পাহার ব্যবস্থা করেন।

শনিবার সকালে সাদ গ্রুপের লোকজন মাঠে প্রবেশ করতে গেলে সেখানে উত্তেজনা দেখা দেয়। জোবায়ের গ্রুপের লোকজন লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। অন্যদিকে সাদ গ্রুপের লোকজন কামারপাড়া এলাকায় রাস্তা বন্ধ করে সেখানে অবস্থান নেন। দুপুরের দিকে মাঠের গেইট ভেঙ্গে সাদ গ্রুপের লোকজন মাঠে প্রবেশ করেন। এ সময় দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

বিমানবন্দর এলাকা থেকে সমকাল প্রতিবেদক শহীদুল আলম জানান, তাবলিগ জামাতের দুটি গ্রুপের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে বিমানবন্দর সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এই যানজট ঠেকছে বিমানবন্দর সড়ক সংলগ্ন মিরপুর, কুড়িলসহ আশপাশের এলাকাগুলোতেও।

তিনি জানান, তাবলিগ জামাতের একটি পক্ষ বিমানবন্দরের মূল গেইট ও এর আশপাশের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। এতে বিদেশগামী ও বিদেশ ফেরত যাত্রীরা তীব্র ভোগান্তিতে পড়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে তাবলিগ জামাতের মারকাজ হিসেবে পরিচিত দিল্লির নিজামুদ্দিন। ওই মারকাজের প্রধান মুরুব্বিদের একজন মওলানা সা’দ। তার কিছু বক্তব্যে বছরজুড়েই কওমিপন্থিরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশে তাবলিগে ফয়সালের মধ্যে মওলানা মুহম্মদ জুবায়ের, মওলানা রবিউল হক, মওলানা ওমর ফারুক মওলানা সা’দের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।

তাবলিগের মাঠ দখলমুক্ত করার দাবিতে ২৭ নভেম্বর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সাদপন্থীরা। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, তাবলিগের অপর পক্ষটি উগ্রপন্থায় বিশ্বাসী। তারা কোমলমতি মাদ্রাসাছাত্রদের হাতে লাঠিসোঁটা দিয়ে ইজতেমা মাঠ পাহারায় বসিয়ে দিয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, এর আগেও মাদ্রাসার এসব শিশুকে মারকাজ মসজিদে হামলা, দখল, হাঙ্গামাসহ বিভিন্ন অপকর্মে ব্যবহার করা হয়েছে। এ অবস্থায় তারা (সাদপন্থী) যেন ৩০ নভেম্বর শুরু হওয়া পাঁচ দিনের জোড় ও ১১ জানুয়ারি থেকে তিন দিনের ইজতেমা সুষ্ঠুভাবে করতে পারেন, সে জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।