তামিমকে নিয়ে দুশ্চিন্তা


67 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
তামিমকে নিয়ে দুশ্চিন্তা
জুন ১, ২০১৯ খেলা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

সকালের সোনা চলকানো রোদ, পরিস্কার নীল আকাশ আর শান্ত ওভাল- এক কোনায় তিনটি নেট টানিয়ে বেশ চলছিল সবকিছু। কিন্তু লন্ডনের ছেঁড়া ছেঁড়া মেঘের মতোই না বলে হঠাৎ যেন অন্ধকার নেমে এলো! থ্রোয়ারে ছোড়া বলে বাঁ হাতের কবজিতে আঘাত। নেটের মাঝেই যন্ত্রণা মুখে শুয়ে পড়লেন তামিম ইকবাল। ঢাকার ক্যামেরাগুলো ঠাওর করার আগেই তাকে ঘিরে ফিজিও, ট্রেনার, ম্যানেজারের জটলা। দূরে দাঁড়িয়ে থাকা মাশরাফিও জোরে পা চালাচ্ছেন।

ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ক্যামেরাগুলোও লেন্স বাড়িয়ে জুম করতে শুরু করছে। মুহূর্তেই একটা উদ্বেগ আর আতঙ্ক যেন জড়িয়ে ধরল গোটা দলকে। দুঃসংবাদ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে, নেট থেকে ড্রেসিংরুমে ফিরতে ফিরতেই তাই ঢাকার চ্যানেলগুলোতে ব্রেকিং নিউজ- অনুশীলনে চোট তামিমের…।

ফার্স্ট এইড হিসেবে আইসপ্যাক- এরপর স্ক্যান করানোর জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু তামিম নিজেই চাননি সেখানে যেতে। কয়েক ঘণ্টা দেখতে চেয়েছেন তিনি। তার বিশ্বাস, খুব বেশি লাগেনি। ‘আমরা চেয়েছিলাম স্ক্যান করাতে। কিন্তু তামিম অপেক্ষা করতে বলেছেন। ওর ধারণা, তেমন কিছু হয়নি। যদি ব্যথাটা না কমে তাহলে হয়তো রাতের দিকে স্ক্যান বা এক্স-রে করানো হবে।’ মাঠ ছাড়ার মুখে দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন এই আপডেটটুকুই জানাতে পারলেন। এরপর মিডিয়া ম্যানেজারের হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজে অফিসিয়াল ভাষ্য ছিল- সন্ধ্যায় এক্স-রে করানো হয়েছে আঘাত পাওয়া কনুইয়ে।

আসলে তামিমের ওভাবে চলে যাওয়া দেখে মাঠে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে অনুশীলন করা দলের প্রত্যেকের মধ্যেই একটা শঙ্কা তৈরি হয়ে যায়। এমনিতেই এই বিশ্বকাপে দলের সঙ্গে চোটও পিছু নিয়েছে নাছোড়ের মতো। পিঠের ব্যথাটা এখনও পুরোপুরি সেরে ওঠেনি সাইফউদ্দিনের। গতকাল সবার সঙ্গে মাঠে এলেও জ্যাকেটটা পর্যন্ত খুলতে পারেননি। ফিজিওর সঙ্গে ওভালটা দু’পাক হেঁটেই বসে থাকতে হয়েছে তাকে। আজও তার অনুশীলনে নামার সার্টিফিকেট দেওয়া হয়নি। মাশরাফিও দুই পায়ে হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট নিয়ে ঘুরছেন। এদিন ওভালের পিচ দেখে কিছুক্ষণ কথা বলছিলেন তামিম আর হাবিবুল বাশারের সঙ্গে। এর পর পুরোটা সময়ই কোচের ভঙ্গিতে পুরো অনুশীলন পর্যবেক্ষণ করলেন। আজ অবশ্য তাকে বোলিং করার জন্য ছাড়পত্র দিয়েছেন ফিজিও। মেডিকেল বুলেটিনে একটিই ভালো খবর- তা হলো কাফ মাসলের চোট সারিয়ে মুস্তাফিজ এদিন নেটে ফিরে টানা চার ওভার বোলিং করেছেন। ছোটখাটো চোটগুলো সামলে মাঠে নামার জন্য যে মানসিক শক্তির দরকার হয়- হাবিবুল বাশার সুমন জানালেন সেটা পুরোপুরিই রয়েছে। দলের প্রত্যেকেই মুখিয়ে আছেন প্রথম ম্যাচে একাদশে থেকে খেলার জন্য। তবে প্রথম ম্যাচে শতভাগ ফিট ক্রিকেটারদেরই মাঠে নামাতে চান কোচ স্টিভ রোডস। সে কারণেই প্ল্যান-এ, প্ল্যান-বি করে রেখেছেন। এখন তামিমের চোট পাওয়ার পর বোধহয় তাকে প্ল্যান-সিও করতে হতে পারে!

এদিন নেটে তিনটি সেশন রাখা ছিল প্রত্যেকের জন্য। রুতে থ্রোয়ার দিয়ে ছোড়া বলে নকিং, তারপর পেসারদের এবং সবশেষে স্পিনারদের। লম্বা হাতলের মাথায় বল আটকিয়ে যে সেশন করা হয় সেটাই থ্রোয়ার সেশন। এমনিতে কোচ স্টিভ ছাড়াও ফিল্ডিং কোচ রায়ান কুক ও ট্রেনার মারিও এই থ্রোয়ারের ব্যবহার ভালো করতে পারেন। সময় সময় দলের সঙ্গে থাকা ‘ম্যাসাজ ম্যান’ সোহেলও কাজটা সেরে দেন। তবে সম্প্রতি বুলবুল নামের একটি ছেলে বেশ ভালো থ্রোয়ার হয়ে উঠেছেন। তাই তামিমদের অনুরোধেই তাকে শেষ বেলায় ভিসা করিয়ে বিশ্বকাপে দলের সঙ্গে আনা হয়েছে। এদিন সেই বুলবুলের ছোড়া থ্রোয়ার বলেই আঘাত পান তামিম। কবজির একটু ওপরে প্রচণ্ড জোরে বলের আঘাতটি লাগে, যা এতটাই তীব্র ছিল যে, চিৎকার করে মাটিতে পড়ে যান তামিম। দূরে দাঁড়িয়েও সেই চিৎকার শুনে দৌড়ে আসেন ফিজিও থিহান। এমনিতেই ঊরুর চোটের কারণে ভারতের সঙ্গে অনুশীলন ম্যাচ খেলতে পারেননি। আসলে ওই ম্যাচটিতে তামিমকে নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্টও ঝুঁকি নিতে চাননি। ঊরুর ব্যথাটা খানিকটা সেরে উঠতেই ফের এই চোট পেলেন তামিম।

মনের জোর নিয়েই তামিম বলেছেন কিছু হয়নি। কিন্তু এক্স-রে রিপোর্টে যদি কোনো চিড় বা ফাটল ধরা পড়ে তাহলে সেই ফাটল সামলে দল সাজানোর জন্য ঘাম ঝরাতে হবে মাশরাফিকে।