তালার আইডিয়াল মহিলা কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ !


1040 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
তালার আইডিয়াল মহিলা কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ !
জানুয়ারি ২৯, ২০১৬ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

কামরুজ্জামান মোড়ল :
নন-এমপিও ভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তালার মাগুরার আইডিয়াল মহিলা কলেজে অধ্যক্ষের ঘুষ বাণিজ্য রন্ধ্রে রন্ধ্রে। প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে তার রয়েছে কমিশন ব্যবসা। অনুসন্ধানে জানা গেছে তালা উপজেলার নিভৃত পল্লী মাগুরা ইউনিয়নের কপোতাক্ষের তীরে ২০০৪ সালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি পথচলা শুরু করে। শুরু থেকেই অধ্যক্ষের অব্যহতি পরবর্তীতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানের সভাপতিকে ভূগোল পড়িয়ে সরকারের নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অধ্যক্ষ বনে যায় ঐ কলেজের কম্পিউটার বিভাগের শিক্ষক রামপ্রসাদ দাস। বর্তমান কলেজে তার একক আধিপত্য আর ক্ষমতার অপব্যবহারে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে একাধিক শিক্ষক-কর্মচারী। তথ্যানুসন্ধানে আরো জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে ১ম ও ২য় বর্ষে ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় দেড় শতাধিক। তাদের উপবৃত্তিসহ সেমিষ্টার ফি, অন্যান্য ফি দেখিয়ে প্রতি বছরই ছাত্রীদের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়া হয় বলে অভিযোগ করে বলেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক। এদিকে নির্ভরযোগ্য এক সূত্রে জানা গেছে, ঘুষ বাণিজ্য কাকে বলে, কত প্রকার কি কি তার সবই রয়েছে ঐ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। বর্তমান কলেজটিতে দেড় শতাধিক ছাত্রী নিয়োগকৃত শিক্ষক ১২-১৫ জন, কর্মচারী ৭-৮ জন। গত বৃহস্পতিবার কলেজটিতে গিয়ে লক্ষ্য করা যায় ৪ জন শিক্ষক, ২ জন অফিস সহকারী ও ১ জন আয়া কলেজটি পরিচালনা করছিল। এসময় অন্য শিক্ষকরা কোথায় জানতে চাইলে ২য় বর্ষের এক ছাত্রী এ প্রতিবেদককে জানায়, বাণিজ্য বিভাগের ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক রূপকুমার দাস দীর্ঘদিন কলেজে আসেন না। কেন আসেন না জানতে চাইলে জানা যায় ঐ শিক্ষক দীর্ঘদিন যাবৎ বেসরকারী এনজিও প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক ব্যাংকে (মাগুরা জেলায়) চাকরি করেন। অপরদিকে মানবিক বিভাগের যুক্তিবিদ্যা বিষয়ের প্রভাষক সন্দিপ কুমার দাস ঢাকাতে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত আছেন। ঐ শিক্ষকরা অধ্যক্ষকে মোটা অংকের মাশোয়ারা দেয়ায় উপস্থিত না থাকলেও তাদের নিয়োগ বজায় রেখেছে। এদিকে এর সত্যতা নিশ্চিত করার জন্য প্রভাষক সন্দিপ কুমার দাস এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, দীর্ঘদিন যাবৎ ঢাকার সাভারের একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে শিক্ষাকতা করছেন। প্রাপ্ত তথ্য সূত্রে আরো জানা গেছে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ছত্রছায়ায় এলাকার বহুল আলোচিত সুকুমারের সহযোগীতায় বালি উত্তোলণের মেশিনম্যান শিরাশুনীর সালাউদ্দীন এর মাধ্যমে কলেজের মাঠে ৬ লক্ষ টাকার বালি উঠিয়ে ২ লক্ষ টাকা কমিশন নিয়েছে ঐ অধ্যক্ষ। এছাড়াও নিয়োগ বাণিজ্য আর শিক্ষকদের অনুপস্থিতি তার কাছে ঘুষ বাণিজ্যের অন্যতম উপায় বলে জানা গেছে। এদিকে তার বিরুদ্ধে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য উদঘাটন করে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করায় তার গাত্রদাহ শুরু হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করায় সে সাংবাদিকসহ তার অপরাধ ঢাকতে দোড়ঝাপ শুরু করেছে। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান বিদ্যুৎসাহী সদস্য গোপাল চন্দ্র বসুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, পত্রপত্রিকায় ঐ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ হচ্ছে। যদি সেগুলো সঠিক না হতো তবে তিনি কেন ঐ সংবাদের গোমর ঠেকাতে দৌড়ঝাপ শুরু করেছে। সচেতন অভিভাবকসহ এলাকাবাসীর দাবি ঐ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক অবিলম্বে অপসারণ করা হোক।