‘তালার ইউএনও ফরিদকে ৪ জুনের মধ্যে প্রত্যাহার করা না হলে কঠোর আন্দোলন’


1297 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
‘তালার ইউএনও ফরিদকে ৪ জুনের মধ্যে প্রত্যাহার করা না হলে কঠোর আন্দোলন’
মে ২৬, ২০১৮ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

 

স্টাফ রিপোর্টার ::
সাতক্ষীরার তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: ফরিদ হোসেনের প্রত্যাহারের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার স্বেচ্ছাচারিতা, অসদাচারন, ঘুষ, দূর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

শনিবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন তালা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ঘোষ সনদ কুমার। এ সময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় এমপি মোস্তফা লুৎফুল্লাহসহ তালা উপজেলা পরিষদের ২ জন ভাইস চেয়ারম্যান ও ১০ জন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।

সংবাদ সম্মেলনে ঘোষনা করা হয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অসদাচরণের প্রতিবাদে তারা আগামী ৩ জুন পর্যন্ত উপজেলার পরিষদের সকল কার্যক্রম থেকে বিরত থাকবে। পরদিন ৪ জুন বেলা ১১ টায় তালা উপজেলা পরিষদ চত্বরে সমাবেশ করা হবে। এরপরও তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার বা অন্যত্র বদলী করা না হলে প্রয়োজনে লাগাতর ধর্মঘটসহ কঠোর কর্মসূচি গ্রহন করা হবে।

তালা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ঘোষ সনদ কুমার সংবাদ সম্মেলনে তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: ফরিদ হোসেন ২০১৬ সালের ৯ মে যোগদানের পর থেকে নানা ধরনের অনিয়ম, স্বোচ্ছাচারিতা ও ভ্রাম্যমান আদালতের ভয় দেখিয়ে জনগনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছেন। সরকারী, বেসরকারী, জনপ্রতিনিধিসহ যে কোন লোক তার কাছে কাজ নিয়ে গেলে তিনি আইনকানুনের তোয়াক্কা না করে তার মনগড়া সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়ে সেটি বাস্তবায়নের জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। সব মিলিয়ে তিনি তালা উপজেলা নির্বাহি অফিসটি তিনি একটি ভীতিকর দপ্তরে পরিনত করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, গত বৃহস্পতিবার (২৪-৫-১৮ তারিখ ) তালা উপজেলা সমন্বয় পরিষদের মাসিক সভায় জনপ্রতিনিধিদের সাথে যে অসম্মানজনক আচরনসহ পেশীশক্তি ব্যবহার করেছেন এতে আমরা হতবাক হয়েছি। তিনি প্রকাশ্যে মাসিক সমন্বয় সভায় তালা উপজেলার বিভিন্নœ ইউপি চেয়ারম্যাদের গালিগালাজ করে মারমুখী হয়ে ওঠেন এবং তাদেরকে পুলিশ দিয়ে গ্রেফতারের চেষ্টা করেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর আচরনে হতভম্ব হয়ে যান সকল সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা। উক্ত সভায় এ সময় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমারসহ উপজেলার সকল সরকারি কর্মকর্তা এবং ১২ টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ঠিকাদার, ব্যবসায়ী ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাড: মুস্তফা লুৎফুল্লাহ বলেন, গত ২৪ মে ইউএনও’র সাথে জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে অপ্রত্যাশিত যে ঘটনাটি ঘটেছে তা শুনার সাথে সাথে আমি উপজেলা পরিষদে ছুটে যাই। আমি সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করি। জনপ্রতিনিধিরা ইউএনও’র বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলনে নামতে চাইলে আমি তাদেরকে নিবৃত করি এবং জেলা প্রশাসকের সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা বলি। গতকাল শুক্রবার সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সাথে আমরা (জনপ্রতিনিধিরা) বৈঠক করেছি। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের করবেন বলে আমাদেরকে আশ্বস্তও করেছেন। তিনি বলেন, ২৪ তারিখের ঘটনা নিয়ে নানা ভূল বুঝাবুঝি হচ্ছে । বিধায় সংবাদ সম্মেলন করে আমরা বিষয়টি পরিস্কার করতে চেয়েছি। তিনি বরেন, আমার বিশ্বাস জেলা প্রশাসক এ ব্যাপারে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে একটি সুষ্টু সমাধান করে দেবেন।

এ ব্যাপারে তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: ফরিদ হোসেন ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে জানান, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে তা মিথ্যে ও বানোয়াট। প্রকৃত ঘটনা হলো, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা টিআর ও কাবিখা প্রকল্পের কাজ না করেই তারা প্রায় আড়াই কোটি টাকার বিল তুলে নিতে চায়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী উপজেলা পরিষদ থেকে প্রকল্প পাশ করার পর কাজ করার কথা। কিন্তু তারা আমাকে অবহিত না করেই প্রায় আড়াই কোটি টাকার প্রকল্প নিজেরা তৈরী করে কাজ শেষ করে ফেলেছে বলে দাবী করছে। আমি এসব প্রকল্প ভিজিট না করে বিল পাশ করবো বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছি। এটাই আমার অপরাধ। তিনি বলেন, গত ২৪ মে উপজেলার মাসিক সমন্বয় সভায় এনিয়ে জনপ্রতিনিধিদের সাথে আমার বাকবিতন্ডা হয়েছে। আমি চেযারম্যান জাহাঙ্গীর আলমকে মারতে উদ্যত হয়নি। তার সাথে আমার কথাকাটাকাটি হয়েছে মাত্র।
###