তালার ইসলামকাটি সাব রেজিস্ট্রি অফিসে দাতা সাজিয়ে জাল বন্দোবস্ত দলিল ! সাব রেজিস্ট্রারের পলায়ন


494 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
তালার ইসলামকাটি সাব রেজিস্ট্রি অফিসে দাতা সাজিয়ে জাল বন্দোবস্ত দলিল ! সাব রেজিস্ট্রারের পলায়ন
জানুয়ারি ১২, ২০১৬ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার :
জনগনের ঘেরাও অবরোধ উপেক্ষা করে পুলিশের সহায়তায় মধ্যরাতে ভুয়া দাতাদের দিয়ে দুই হাজার বিঘা জমি মাছ চাষের জন্য বন্দোবস্ত দলিল করে নেওয়ার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে সাতক্ষীরার তালার ইসলামকাটি এলাকায়। জমির মূল মালিকরা জমি হারিয়ে এখন অসহায় হয়ে পড়েছেন। তারা সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এসে এক প্রতিবাদী সংবাদ সম্মেলন করে জাল বন্দোবস্ত দলিল বাতিল করে এলাকায় শান্তি শৃংখলা ফিরিয়ে আনার আহবান জানিয়েছেন।

সোমবার সন্ধ্যায় তালার ইসলামকাটীর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের সাব রেজিস্ট্রার মোঃ আসাদুজ্জামান এই বন্দোবস্ত দলিল তৈরী করে দিয়ে রাতেই ঘটনাস্থল থেকে পুলিশের সহায়তায় পালিয়ে গেছেন। এ নিয়ে এলাকাজুড়ে উত্তেজনা চলছে। সেখানে  রাত থেকে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, ইসলামকাটি ইউনিয়নের চল্লিশা বিল দীর্ঘদিন যাবত ২২০০ বিঘা জমি জলাবদ্ধ হয়ে ছিল। এই পানি সেচ দিয়ে সরিয়ে  সেখানে ধান ও মাছ দুইই চাষ হয়ে আসছে। যশোরের কেশবপুরের সুফলাকাটী ইউপি চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল ইসলাম জমির বৈধ মালিকদের বন্দোবস্তের টাকা নিয়ে এই বিলে সমবায় ভিত্তিতে মাছ ও ধান চাষ করে আসছেন। তারা আরও জানান চার বছর মেয়াদী এই বন্দোবস্ত দলিল জানুয়ারি মাসের ২৯ তারিখ পর্যন্ত বলবৎ রয়েছে। এরই মধ্যে বৈধ মালিকরা তার পক্ষে দ্বিতীয় দফায় লিখিত সম্মতি ও বন্দোবস্ত করে দিয়েছেন বলেও জানান তারা।

এদিকে এ ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকার সরকারদলীয় নেতাদের আশীর্বাদ নিয়ে যশোরের কেশবপুরের ঘেরদস্যু সামাদ সরদারের ছেলে মোশতাক ও খোরশেদ সরদারের ছেলে মধু ঘেরটি কেড়ে নেওয়ার পাঁয়তারা করতে থাকে। তারা সরকারদলীয় রাজনৈতিক সুবিধা নিয়ে ঘেরে জমি নেই এমন কিছু লোককে সোমবার  সন্ধ্যায় ইসলামকাটী সাব রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে যায়। সেখানে ২৫ জনকে দাতা সাজিয়ে ১২০ জনের সম্মতি সাক্ষর নিয়ে মোস্তাক মধু  গ্রুপ চল্লিশা বিলের রেজিস্ট্রি ডীড করে নেয়। এ খবর প্রচার হতেই সন্ধ্যায় ইসলামকাটি সাব রেজিস্ট্রি অফিস ঘিরে ফেলেন এলাকার লোকজন। শান্তি শৃংখলা রক্ষায় পুলিশও পাঠানো হয় সেখানে। সাব রেজিস্ট্রার মোঃ আসাদুজ্জামান জনগনের অবরোধ ও ঘেরাও উপেক্ষা করে পুলিশ বেষ্টিত অবস্থায় ঘেরদস্যু মধু মোশতাকের পক্ষে জাল বন্দোবস্ত দলিল সম্পাদন করেন। গভীর রাতে পুলিশের সহায়তায় তিনি এলাকা থেকে পালিয়ে  যান।
গ্রামবাসী আরও জানান, ইসলামকাটীর ঢেমশাখোলা, ইসলামকাটি, কাজীডাঙা, নারায়নপুর, গোনডাঙা, বারাত, মনোহরপুর, বাওখোলা ও সুজনশাহ গ্রাম নিয়েই এই চল্লিশা বিল। তারা জানান ঘেরটিতে তারা ধান ও মাছ দুইই চাষ করে আসছেন। এখন দুর্ধর্ষ ঘেরদস্যুরা এই চল্লিশা ঘের দখল করে নেওয়ার আয়োজন সম্পন্ন করেছে।তালা উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ স্থানীয় তিন নেতা এই জাল ডীড এবং ঘের দখলে নেপথ্য সহায়তা দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী । তারা এই জবরদস্তি ঘেরের ৫০ শতাংশ অংশীদার হয়েছেন বলেও জানা গেছে।

মঙ্গলবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মোঃ জাহিদ হোসেন, আমজাদ হোসেন, এনামুল হক, ডা. অমল দাস, ইমদাদুল হক, রবিউল ইসলাম, ইদ্রিস আলী, আব্দুল হালিম, আবুল কালাম, রেজাউল ইসলাম, সাজ্জাদ মোড়ল, আমিনুর রহমান, রাজ্জাক মোড়ল সহ অনেকেই।

এ ব্যাপারে জানতে চেয়ে সাব রেজিস্ট্রার মো.আসাদুজ্জামানের কাছে বারবার ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। তার অফিস সূত্র জানিয়েছে, এ ধরনের জালিয়াতির ডীড রেজিস্ট্রি না করার জন্য জেলা প্রশাসন থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তা সত্ত্বেও রাজনৈতিক সুবিধা নিয়ে তিনি এই জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন। এ ব্যাপারে তারাও তার শাস্তি দাবি করেন।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহবুবুর রহমান বলেন মাহবুব  মঞ্জুরুলের পক্ষে এখন পর্যন্ত বন্দোবস্ত দলিল মেয়াদ বহাল থাকায় নতুন দলিল করা আইন সম্মত নয়। এ বিষয়ে তিনি সাব রেজিস্ট্রারকে যথাযথ নির্দেশও দিয়েছিলেন এবং মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোন দলিল না করার পক্ষে যুক্তি দেখান। তা সত্ত্বেও তিনি ভুয়া দাতা খাড়া করে জমি রেজিস্ট্রি করেছেন বলে জানতে পেরেছেন। এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ সগির আহমেদ জানান, শান্তি শৃংখলা রক্ষার স্বার্থে চল্লিশা বিলের নতুন বন্দোবস্তের ডীড না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি। তা সত্ত্বেও তিনি এমন কাজটি করেছেন। তিনি জানান পুলিশ আইনশৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রেখেছে।