তালার কপোতাক্ষ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগে অর্ধ কোটি টাকা ঘুষ বানিজ্য’র অভিযোগ


254 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
তালার কপোতাক্ষ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগে অর্ধ কোটি টাকা ঘুষ বানিজ্য’র অভিযোগ
জানুয়ারি ২০, ২০২৩ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

প্রতিকার পেতে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের

বি. এম জুলফিকার রায়হান ::

তালার চরগ্রাম কপোতাক্ষ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নতুন করে ৪টি পদে নিয়োগ প্রদানে আবারও ষড়যন্ত্র, লুকোচুরি ও ঘুষ বানিজ্য করে অযোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ প্রদানের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সহ কতিপয় ব্যক্তি কৌশলে নির্ধারিত ব্যক্তিদের নিয়োগ দেবার সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করায় এলাকার মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। এঘটনার প্রতিকার পেতে এবং সাজানো নিয়োগ বোর্ড বাতিল করে স্বচ্ছতার সাথে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করার দাবীতে এলাকাবাসী সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক সহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, তালার কপোতাক্ষ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক, নৈশ প্রহরী, অফিস সহায়ক ও আয়া পদে নিয়োগ প্রদানের জন্য সম্প্রতি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এই বিজ্ঞপ্তি ঘোষনা করেন। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকে ঘুষ বানিজ্যের মাধ্যমে পূর্ব নির্ধারিত ব্যক্তিদের নিয়োগ প্রদানের জন্য প্রধান শিক্ষক সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন। নির্বিগ্নে নিয়োগ বোর্ড সম্পন্ন করার জন্য প্রধান শিক্ষক সব ধরনের ষড়যন্ত্র ও লুকোচুরি করে যাচ্ছেন।
এবিষয়ে এলাকার ক্ষুব্ধ গোলাম মোস্তফা, আল আমীন মোড়ল ও ইজাজ আহমেদ রাসেল সহ একাধিক ব্যক্তি জানান, কপোতাক্ষ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে জগদীশ হালদার যোগদান করার পর তার স্ত্রীকে পূর্ন বেতনে অফিস সহকারী হিসেবে নিয়োগ করান। বিগত ২০১৫ সালে আবারও গোপনে ২টি পদে নিয়োগ প্রদানের চেষ্টা চালালে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য সহ এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। একপর্যায়ে ২৫/১০/২০১৫ তারিখে তৎকালিন তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহবুবুর রহমান এক অফিস আদেশে নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত রেখে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে পত্রদেন। এরপর ওই নিয়োগ স্থগিত হয়।
এলাকাবাসী আরও জানান, প্রধান শিক্ষক ৪টি পদে গোপনে নিয়োগ দিয়ে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নেবার জন্য আবারও নানান পায়তারা শুরু করেছে। বিদ্যালয়ের সভাপতি ১মাসের বেশি সময় ধরে গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে শয্যাশায়ী আছেন। এই সুযোগে কৌশলে নিয়োগ প্রদানের কার্যক্রম শুরু করে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা ঘুষ বানিজ্য করে পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে গোপনে নিয়োগ বোর্ড বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। এঘটনায় স্বচ্ছভাবে নিয়োগ বোর্ড কার্যক্রম করা সহ পাতানো বোর্ড বাতিলের দাবীতে শতাধিক ব্যক্তি জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেছে।
এব্যপারে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জগদীশ হালদার বলেন, বিদ্যালয়ে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছিল। তা বাতিল করা হয়েছে এবং এখন কোনও নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হবেনা। আর কারা কোথায় কি অভিযোগ করেছে তা বলতে পারবোনা। বিদ্যালয়ের সভাপতি সরদার রফিকুল ইসলাম জানান, নিয়োগ কার্যক্রম বাতিলের জন্য আবেদন করা হয়েছে।
এবিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আতিয়ার রহমান জানান, কপোতাক্ষ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নিয়োগ কার্যক্রম বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই এবং এবিষয়ে এখনও কোনও অভিযোগ পায়নি।

#