তালার কুমিরা ইউনিয়নের স্থগিত থাকা ৩টি কেন্দ্রে পুনরায় ভোট গ্রহন ৩১ অক্টোবর


456 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
তালার কুমিরা ইউনিয়নের স্থগিত থাকা ৩টি কেন্দ্রে পুনরায় ভোট গ্রহন ৩১ অক্টোবর
অক্টোবর ২৯, ২০১৬ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

বি. এম. জুলফিকার রায়হান, তালা :
৩১ অক্টোবর তালা উপজেলার ৪নং কুমিরা ইউনিয়ন পরিষদের ৩টি কেন্দ্রে পুনরায় ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে। গত ২২মার্চ তালা উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে একযোগে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে সহিংস ঘটনার কারনে ৪, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের কেন্দ্রে ভোট গ্রহন স্থগিত করা হয়। নির্বাচন কমিশন স্থগিত থাকা উক্ত ৩টি কেন্দ্রে পুনরায় ভোট গ্রহনের জন্য ৩১ অক্টোবর নির্ধারন করেন।
নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীরা শেষ মুহুর্তে ব্যপক গনসংযোগ শুরু করায় ভোট সংশ্লিষ্ট এলাকা নতুন করে ভোট উৎসব শুরু হয়েয়ে। যার প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে গোটা ইউনিয়ন থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায়ে।
নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আওয়ামীলীগ দলীয় প্রার্থী শেখ আজিজুল ইসলাম নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপি দলীয় প্রার্থী গোলাম মোস্তফার চেয়ে ১ হাজার ৭৭৮ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় তিনি আছেন ফুরফুরে মেজাজে। অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে ৩টি কেন্দ্রের ভোটের হিসেব অনুযায়ী তার বিজয় নিশ্চিত হওয়ায় চেয়ারম্যান প্রার্থীর তুলনায় ইউপি সদস্য ও সদস্যাদের মধ্যে চলছে ভোটের জোর প্ররচনা।
তালা উপজেলা নির্বাচন অফিসার মনোরঞ্জন বিশ্বাস জানান, কুমিরা ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ১৭ হাজার ৫৮৯টি। এরমধ্যে স্থগিত থাকা ৩টি কেন্দ্রে মোট ভোটার রয়েছে ৬হাজার ২৭৪ টি। এরমধ্যে ৪নং ভাগবা ওয়ার্ডে ১হাজার ৯৮২ ভোট, ৮নং অভয়তলা ওয়ার্ডে ২হাজার ৫২১ ভোট এবং ৯নং দাঁদপুর ওয়ার্ডে ১হাজার ৭৭১ ভোট। ৩টি ওয়ার্ডের অনুকূলে সংরক্ষিত ওয়ার্ড ২ (৪, ৫, ৬)- এ ৪জন এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ড ৩ (৫,৬,৭)-এ  ৩জন প্রতিদ্বন্দ্বি রয়েছে। অপরদিকে ৩টি ওয়ার্ডে সাধারন সদস্য পদে ৪নং ওয়ার্ডে ৪জন, ৮নং ওয়ার্ডে ৫জন এবং ৯ নং ওয়ার্ডে ২জন প্রতিদ্বন্দ্বি রয়েছেন। এয়াড়া চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছেন ৬জন।
কুমিরা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার মো. হাদীউজ্জামান জানান, কুমিরা ইউনিয়নে ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬টি ওয়ার্ডে ২২ মার্চ শান্তিপূর্ন ভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া সহিংসতার কারনে ৩টি কেন্দ্রে ভোট স্থগিত করা হয়। ৬টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ভোটে আওয়ামীলীগ দলীয় প্রার্থী শেখ আজিজুর রহমান ৪ হাজার ৭৫৫ ভোট পান। তার সব থেকে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপি দলীয় প্রার্থী গোলাম মোস্তফা পান ২ হাজার ৯৭৭ ভোট। এছাড়া বাকি ৪ প্রার্থী মধ্যে কেহ হাজার ভোট পুরাতে পারেননি। যেকারনে আওয়ামীলীগ দলীয় প্রার্থী শেখ আজিজুল ইসলাম বিএনপি দলীয় প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান মো. গোলাম মোস্তফার তুলনায় ১ হাজার ৭৭৮ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন।
রিটার্নিং অফিসার জানান, ২২ মার্চের মত কোনও সহিংস ঘটনা যাতে আর না ঘটে, এজন্য ব্যপক পদক্ষেপ গ্রহন গ্রহন করা হয়েছে। নির্বাচন শান্তিপূর্ন করতে প্রশাসনের উদ্যোগে ৩টি কেন্দ্রের প্রত্যেকটিতে ১ জন করে ম্যাজিষ্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা শান্তিপূর্ন রাখতে ১টি মোবাইল টিম সার্বক্ষনিক কাজ করবে। আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রনে রাখতে তাছাড়া অতিরিক্ত পুলিশ ও ব্যাটালিয়ান নিয়োজিত থাকবে। এজন্য তিনি নির্ভয়ে সকল ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে এসে ভোট প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটারদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
এদিকে, ভোট উপলক্ষ্যে সরজমিন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে ভোটারদের মধ্যে ভোটের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। ভোটে আওয়ামীলীগ দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী শেখ আজিজুল ইসলাম এর বিজয় নিশ্চিত হওয়ায় মূলত ইউপি সদস্য ও সদস্যাদের মধ্যে কে হবে বিজয়ী- তা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
ভোটের ব্যপারে জানতে চাইলে আ.লীগ দলীয় প্রার্থী শেখ আজিজুল ইসলাম জানান, ২২ মার্চ নির্বাচনে নৌকা প্রতিকের বিজয় নিশ্চিত বুঝতে পেরে একটি মহল পরিকল্পিত ভাবে ষড়যন্ত্র করে ৩টি ভোট কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। কিন্তু ৩১ অক্টোবরের নির্বাচনে সকল ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে ভোটাররা নৌকা প্রতিককে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী করবে- বলে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।