তালার খলিলনগরে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা রোধের দাবিতে স্মারকলিপি


557 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
তালার খলিলনগরে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা রোধের দাবিতে স্মারকলিপি
মার্চ ২৪, ২০১৬ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
তালার খলিলনগর ইউনিয়নে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা প্রতিরোধ এবং সহিংসতার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবীতে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে খলিলনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রণব ঘোষ বাবলু আ.লীগ নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহবুবর রহমান এর মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এর নিকট উক্ত স্মারকলিপি প্রদান করেন। এছাড়া একই দাবীতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও সাতক্ষীরা প্রলিশ সুপার এর নিকট অনুরুপ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, প্রণব ঘোষ বাবলু গত ১২ বছর ধরে খলিলনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গত ২২ মার্চ অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনেও তিনি আওয়ামীলীগ মনোনিত হয়ে নৌকা প্রতিক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহন করেন। কিন্তু তালা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমারের প্রকাশ্যে সমর্থনপুষ্ট আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এসএম আজিজুর রহমান রাজু নিল-নকশার মাধ্যমে প্রণব ঘোষ বাবলুকে ১৩৮ ভোটে পরাজিত দেখায়। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনে যথাযথ প্রক্রিয়ায় অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। প্রণব ঘোষ বাবলু জানান, দুঃখের বিষয় বিদ্রোহী প্রার্থী এসএম আজিজুর রহমান রাজু জামায়াত-বিএনপি-নাশকতা মামলার আসামীরা ভোটের দিন সন্ধ্যা সাত টায় নির্বাচনী ফলাফল ঘোষনার আগেই নৌকা প্রতিকের কর্মী-সমর্থকদের উপর হামলা ও বাড়ি-ঘর ভাংচুর শুরু করে। যার ধারাবাহিকতায় ২২ মার্চ সন্ধ্যায় মহান্দী গ্রামের আরশাদ মোড়লের ছেলে হাবিবুর রহমানের দোকান, বাড়ি-ঘর ভাংচুর ও লুটপাট করে বাড়ি দখল করে নেয়। এ ছাড়া মহান্দী গ্রামের বাবর আলী বিশ্বাসের ছেলে রবিউল বিশ্বাসের বাড়িতে হামলা ও একই গ্রামের সচিন ঘোষ ও ভৈরব ঘোষকে লাঞ্চিত করা হয়েছে। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম মোড়ল, তার ভাই কোহিনুর মোড়ল ও আওয়ামীলীগ কর্মী কিতাব শেখকে হত্যার উদ্দেশ্যে অস্ত্র-স্বস্ত্র নিয়ে খূজে বেড়ানো হয়েছে। খলিলনগর বাজারের নওশের সরদারের ছেলে সোহেল সরদার ও ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুল খালেকের দোকান ভাংচুর করে কয়েক লক্ষ টাকার মালামাল লুটপাট করা হয়েছে। ২৩ মার্চ বুধবার দুপুর ১২ টায় কাঠবুনিয়া গণেশ মন্ডলের ছেলে ব্রোজেন মন্ডলকে (৩৭) বেধড়ক মারপিট করেছে রাজুর প্রধান সহযোগী ডুমুরিয়া ও তালা থানার তালিকা ভূক্ত সন্ত্রাসী আনন্দ বাহিনীর প্রধান আনন্দ। একই রাতে প্রসাদপুর গ্রামের বাকি গাজীর স্ত্রী রিজিয়া বিবি (৬৫) ও রফিক গাজীর স্ত্রী সালমা বেগমকে মারপিট করে বাড়িতে আটকে রাখা হয়। পরে খলিলনগর ক্যাম্পের পুলিশ যেয়ে উদ্ধার করে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এছাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আপেল দপ্তরীর বাড়িতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও একই গ্রামের মান্দার শেখের ছেলে রহমত শেখের বাড়ি-ঘর ভাংচুর করা হয়েছে। এ গ্রামের নৌকার সমর্থকরা সন্ত্রাসীদের ভয়ে বাড়ি-ঘর ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে রয়েছে। মাছিয়াড়া গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা ইবাদুল গাজী, সাহেব আলী গাজী, জাহিদ বিশ্বাস, মোস্তফা গাজী, প্রসাদপুর গ্রামের মাসুদ বিশ্বাস, মনিরুল গাজী, সুজায়েত বিশ্বাস, করিম মোড়ল ও ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি সিরাজুল খান ও সাধারণ সম্পাদক গোলদার মিজানুর রহমান, নলতা গ্রামের যুবলীগ নেতা এখলাছ মালী, সালাউদ্দীন মালী, সৈলদ্দিন গাজী, আকবর সরদার, নাজিম মালী, রহিম গাজী, সাত্তার মোড়ল, অনন্ত বিশ্বাস, মদন বসু, শ্রীবাস বসু, মুক্তিযোদ্ধা সমর সরদারসহ অনেককেই সন্ত্রাসীরা হত্যার উদ্দ্যোশে খূঁজে বেড়াচ্ছে। এসব বিষয় প্রশাসনকে বারবার বললেও তেমন কোন ব্যবস্থা গ্রহন নেয়া হচ্ছে না। উক্ত স্মারকলিপি প্রদানকালে, উল্লেখিত সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে- উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহবুবুর রহমান এসময় জানান।