তালার চলশের বিল নিয়ে এলাকা ফের উত্তপ্ত : এলাকায় পুলিশ মোতায়েন


321 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
তালার চলশের বিল নিয়ে এলাকা ফের উত্তপ্ত : এলাকায় পুলিশ মোতায়েন
জানুয়ারি ২৩, ২০১৬ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

বি. এম. জুলফিকার রায়হান, তালা
তালার বহুল আলোচিত ইসলামকাটী ইউনিয়নের চলশের বিলের ২৫ শ বিঘা মৎস্য ঘের নিয়ে এলাকা আবারো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ঘের দখলকে কেন্দ্র করে এলাকার দুটি পক্ষ পৃথক দুটি সমাবেশের ডাক দেয়। আহুত সমাবশেকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের আশংকায় উপজেলা প্রশাসন সমাবেশ দুটি বন্ধ করে দেয়। এতে করে জনগনের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এতে করে আইন-শৃঙ্খলা শান্তিপূর্ন রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও আনসার ব্যাটালিয়ান মোতায়েন করা হয়েছে।
সূত্রজানায়, উপজেলার ইসলামকাটী ও কুমিরা ইউনিয়নের সিমান্তবর্তী দুটি ইউনিয়নের বারাত, মনহরপুর, কাজীডাঙ্গা, খরাইল, ইসলামকাটী, গণডাঙ্গ ও ভবানীপুরসহ ১০টি গ্রামের প্রায় ২ হাজার ৫শত বিঘা জমি নিয়ে চলশের বিল অবস্থিত। জলাবদ্ধতার কারনে এই বিলে একসময় বোরো আবাদ বন্ধ হয়ে যায়। যেকারনে বিল থেকে জলাবদ্ধতার পানি নিস্কাশন করে বোরো মৌসুমে ধান চাষের জন্য বিলের জমি মালিকরা শর্তমোতাবেক সাদা মাছের ঘের করার জন্য কেশবপুরের ঘাঘা গ্রামের জনৈক শহিদুল ইসলাম’র সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়। বর্তমানে ওই বিলে কেশবপুর উপজেলার সুফলাকাঠি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল ইসলাম মাছ চাষ করছে। চলতি মাসের ১৮ জানুয়ারী মঞ্জুরুলের ডিড এর মেয়াদ শেষ হওয়ায়, কেশবপুর উপজেলার ঘের ব্যাবসায়ী মোস্তাক হোসেন এবার তার নামে ঘেরের রেজিষ্ট্রি ডিড নিয়েছেন। এঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘের রেজিষ্ট্রির পর জনতা রেজিষ্ট্রি অফিস ঘেরাও করলে সেখানে পুলিশ ও আনসার ব্যাটালিয়ান মোতায়েন করে প্রশাসন। কিন্তু উক্ত ঘেরের মালিকানা নিতে বর্তমান ঘের মালিক মঞ্জুরুল চেয়ারম্যান, মোস্তাক হোসেন ও ইকবল খান জমি মালিকদের সাথে দেনদরবার, প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলে দৌড়ঝাপ শুরু করলে জমি মালিকরা বিভক্ত হয়ে পড়ে। এতে করেই শুরু হয় এলাকায় উত্তেজনা এবং পক্ষ, প্রতিপক্ষর দখল চেষ্টা। বর্তমান ঘের মালিক মঞ্জুরুল চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি মহব্বত হোসেন বলেন, বর্তমানে উক্ত বিলের মৎস্য ঘের তাদের দখলে রয়েছে এবং জমি মালিকরা আগামী আবার নতুন করে তাদের নামে ডিড করে দেবেন। এরমধ্যে মোস্তাক হোসেন অবৈধভাবে ঘেরের ডেয ডিড করে নিয়েছেন তা অধিকাংশ জমি মালিকরা মানেন না, যে জন্য এই ঘেরের দখল ছাড়া হবে না। অপরদিকে মোস্তাক হোসেন জানান, ঘেরের জমি মালিকরা বিধি মোতাবেক তাকে ঘেরের রেজিষ্ট্রি ডিড করে দিয়েছেন। সময়মত তিনিই ঘেরের দখল নেবেন। তবে, এধরনের দখলে না যেয়ে জমি মারিকদের কাছ থেকে ডিড নিয়ে ঘেরের দখলে যেতে চায় ইকবল হোসেন খান। এই তিন ব্যক্তির ঘের দখল নেওয়াকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে তালার চলশের বিল মৎস্য ঘের আবারও আলোচিত হয়ে ওঠে।
উক্ত ঘেরের দখল সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে শনিবার বিকালে বারাত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সমাবেশ ডাকে মোস্তাক হোসেন এর পক্ষভুক্ত জমি মালিকরা। অফরদিকে একইদিন সন্ধ্যায় পার্শ্ববর্তী মোহনা বাজারে সমাবেশ ডাকে মঞ্জুরুল চেয়ারম্যান পক্ষভুক্ত লোকজন। এনিয়ে উত্ত্বেজনা ছড়িয়ে পড়ায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহবুবুর রহমান ও তালা থানার ওসি মো. সগির মিয়া ঘটনাস্থলে যেয়ে উভয় পক্ষকে সমাবেশ বন্ধ রাখান নির্দেশ প্রদান করে। কিন্তু সেখানে উত্তেবজনা ছড়িয়ে পড়ায় এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতির আশংকায় বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত দুটি স্থানে পুলিশ ও আনসার ব্যাটালিয়ান মোতায়েন করা হয়। কিন্তু তাতে আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এলাকার লোকজন। লোকজন প্রশাসনের ভুমিক কে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এব্যপারে উক্ত বিলের জমি মালিক আ.লীগ নেতা ডা. মতিয়ার রহমান, ঢ্যামসাখোলা গ্রামের আমিনুর রহমান, মিজানুর রহমান, বারাত গ্রামের মো. আব্দুল মান্নান, কাজীডাঙ্গা গ্রামের আ. গফ্ফার ও গণডাঙ্গা গ্রামের সুনীতি মন্ডল সহ একাধিক ভ্যক্তি জানান, গত ১৮ জানুয়ারী ঘেরের ডিড শেষ হবর পরও মঞ্জুরুল চেয়ারম্যান জোর করে এখনও উক্ত ঘেরে দখল রয়েছে। ঘের থেকে মঞ্জুরুল চেয়ারম্যানের অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং বর্তমানে ডিডধারী ঘের মালিককে ঘেরের দখল বুঝে দেবার জন্য বারাত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সমাবেশের আহবান করা হয়। অপরদিকে বারাত গ্রামের ডা. অমল, আফজাল হেসেন, আইয়ুব হোসেন, ডা. আবু সাঈদ, কাজীডাংগা, গ্রামের আমিনুর রহমান, ইসলামকাটির শেখ জামাল সহ  অনেকেই জানান, মোস্তাাক গং অবৈধভাবে ঘের ডিড করে নিয়েছে। তাঁরা এই ডিড মানেনা জানিয়ে বলেন, ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করে, জলাবদ্ধ অহসায় মানুষকে ঠকিয়ে কেউ ঘের করতে আসলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবে এলাকার ভুক্তভোগী মানুষ। একারনে অধিকাংশ জমি মালিকরা উক্ত ঘেরের ডিড বাতিল এবং বিলের জমি মালিকদের দাবি অনুযায়ী প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে যে পক্ষ অধিক হারি প্রদান করবে, তাঁদের পক্ষে ঘেরের ডিড দেওয়ার দাবিতে মনহরপুর বাজারে সমাবেশের আহবান করা হয়। এ ব্যাপারে তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের খবর পেয়ে উভয় পক্ষকে সমাবেশ না করার নির্দেশ দেয়া হয়। তালা থানার ওসি মো. সগির মিয়া জানান, দুই পক্ষের দুটি সমাবেশকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখতে পুলিশ ও আনসার ব্যাটালিয়ান মোতায়েন করা হয়েছে।