তালার জাতপুর মৌজার ৩১ ধারার আপিল কেসের তঞ্চকি রায় বাতিলের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন


446 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
তালার জাতপুর মৌজার ৩১ ধারার আপিল কেসের তঞ্চকি রায় বাতিলের দাবিতে  সংবাদ সম্মেলন
অক্টোবর ১৫, ২০১৫ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার :
বৈধ কাগজ পত্র থাকা সত্বেও সাতক্ষীরার তালা সহকারি সেটেলমেনন্ট কর্মকর্তা শামছুর রহমান মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময় উপজেলা জাতপুর গ্রামের কয়েকজন হতদরিদ্র কৃষক, শ্রমিক ও দিনমজুরের পৈত্রিক সম্পত্তির ৩১ ধারায় আপলি কেসের রায় এলাকার দুই ভূমিদস্যুর পক্ষে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন তালা উপজেলার জাতপুর গ্রামের আব্দুস সামাদ বিশ্বাসের স্ত্রী রাহেলা খাতুন, আবুল হোসেন, আনোয়ারা বেগম, ও করিমোন্নেসা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আব্দুস সামাদ বিশ্বাসের স্ত্রী রাহেলা খাতুন বলেন, পৈত্রিক সূত্রে জাতপুর মৌজার সিএস ১৩২, ১৩৩, ১৪১, ১৪২ ও ২৫৫ এবং এসএ ১০৬, ১১৭, ১২৬, ১৮৫, ২২১ ও ২২৮ খতিয়ানের ১০ টি  দাগের মোট সম্পত্তির একরে তিন অংশের মালিক তারা স্বামীরা তিন ভাই ও দুই বোন। উক্ত জমির কিছু অংশে বসতভিটা, পুকুর ও কবরস্থান রয়েছে। প্রতিপক্ষ আমজাদ হোসেন ও আব্দুর রাজ্জাক তাদের জমি ডিপি ৬২, ১১১, ২৪৩, ৫১,৩৯৫ও ১৪৯ নং খতিয়ানে কৌশলে রেকড করিয়ে নেয়। বিষয়টি জানতে পেরে তারা ৩০ ধারা ও পরে ৩১ ধারায় আপিল কেস দায়ের করে। বৈধ সকল কাগজপত্র দেখিয়ে শুনানি করা হয়। কিন্তু আপিল কর্মকর্তা শামছুর রহমান মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময় তার স্বামীর পৈত্রিক স্বত্ব দখলীয় সম্পত্তি প্রতিপক্ষের অনুকূলে রেকড বহাল রেখে রায় দিয়েছেন।

ভুক্তভোগি আবুল হোসেন বলেন, জাতপুর মৌজার এসএ ২৮৫ খতিয়ানে ৩৮৬ দাগে ৫৪ শতকের মধ্যে ২৭ শতক, এসএ ৪৪ নং খতিয়ানে ৩৩৭ দাগে ৪ শতক, ৩৩৪ দাগে ৭ শতক, ৩১৬ দাগে ১৬ শতক জমি তিনি ওয়ারেশ, ক্রয় ও এওয়াজ সূত্রে মালিক। উক্ত জমিতে তিনি বসতঘর নির্মাণ করে পরিবার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। কিন্ত প্রতিপক্ষ আমজাদ হোসেন ও আব্দুর রাজ্জাক গংরা চলমান জরিপে প্রভাব খাটিয়ে গোপনে ওই জমি তাদের নামে রেকড করিয়ে নেয়। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ৩০ ধারা ও পরে ৩১ ধারায় আপিল কেস দায়ের করেন। কিন্ত আপিল কর্মকর্তা শামছুর রহমান মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময় বেআইনিভাবে তাদের বসতবাড়ি ও কবরস্থানের জমি প্রতিপক্ষের অনুকূলে রায় দিয়েছেন। উক্ত তঞ্চকি রায়ের বলে প্রতিপক্ষরা তাদের বাড়িঘর জোরপূর্বক দখল করে নেয়ার হুমকি দিচ্ছে।  তিনি উক্ত তঞ্চকি রায় বাতিল করে পুনঃবিচারের মাধ্যমে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ক্ষতিগ্রস্থ আনোয়ারা বেগম জানান, জাতপুর মৌজার সিএস ১৫৩ ও এসএ ১২৭ নং খতিয়ানের ৩১৭ ও ৩১৮ দাগে একর তিন অংশের মোট ১৯ শতক জমি ওয়ারেশ সূত্রে তিনি ও তার মেয়ে পারভীন মালিক। ভূয়া কাগজ সৃষ্টি করে ওই জমি প্রতিপক্ষ আমজাদ হোসেন ও আব্দুর রাজ্জাক রেকড করিয়ে নেয়। জানতে পেরে ৩১ ধারায় ডিপি ৬২ ও ১১১ খতিয়ানে আপলি কেস দায়ের করি। শুনানীতে বৈধ কাগজ দেখানোর পরও আপিল কর্মকর্তা শামছুর রহমান মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময় প্রতিপক্ষের অনুকূলে রায় দিয়েছেন।

গৃহবধূ করিমোন্নেছা জানান, , জাতপুর মৌজার সিএস ৪১৮ ও এসএ ৩৫৬ নং খতিয়ানের ৪২৪  দাগে এক দশমিক ৬৩ একর জমি মালিক আমানত রসুয়া। তার মৃত্যুর পর রহিম বক্স ও মজিদ এবং মেয়ে আয়জান এর নামে এস্এ রেকড হয়। কিছু জমি ভূল রেকড হলেও তারা শান্তিপূর্নভাবে উক্ত জমিতে বসবাস করে আসছিল। উক্ত জমিতে বসত ঘর,পুকুর ও কবরস্থান রয়েছে। কিন্তু র্ভয়া কাগজপত্র দৃষ্টে আমজাদ হোসেন ও আব্দুর রাজ্জাক  চলমান জরিপে ওই জমি রেকড করিয়ে নেয়। জানতে পেরে তিনি ৩১ ধারায় আপিল কেস দায়ের করেন। কিন্তু আমজাদ গংরা মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময় আপিল কর্মকর্তা শামছুর রহমানকে ম্যানেজ করে কেসের রায় তাদের পক্ষে করে নিয়েছে। এখন তারা বাস্তচ্যুত হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

তিনি আপিল কেচের রায় পুনঃবিবেচনা করে ন্যায় বিচার দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জাতপুর মৌজার চলমান ৩১ ধারায় উল্লেখিত আপিল কেসগুলোর তঞ্চকি রায় বাতিল পূর্বক পুনঃ বিবেচনায় ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক, জোনাল সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা ও তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশিলষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেন।