তালার জালালপুর ইউনিয়নে ছাত্রদল নেতা যখন ছাত্রলীগের সভাপতি !


801 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
তালার জালালপুর ইউনিয়নে ছাত্রদল নেতা যখন ছাত্রলীগের সভাপতি !
মে ১৫, ২০১৯ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

বি.এম. জুলফিকার রায়হান ::

তালার জালালপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সক্রিয় নেতা দেবাশীষ অধিকারী দেবকে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি মনোনিত করে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা ছাত্রলীগ বিশেষ সুবিধা প্রাপ্ত হয়ে জালালপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি অনিককে অগঠনতান্ত্রিক ভাবে বহিষ্কার করে রাতারাতি ছাত্রদল নেতাকে সভাপতি মনোনিত করে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। ছাত্রদল নেতা দেবাশীষ অধিকারী কী কপাল গুনে (!) ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি হলো তা নিয়ে ছাত্রলীগ থেকে শুরু করে উপজেলার রাজনৈতিক মহলে হৈ-চৈ চলছে।

জালালপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা নাহিদ হাসান অনিক বলেন, ২০১৮ সালের ৮ ডিসেম্বর আমাকে সভাপতি করে ২ সদস্য বিশিষ্ট জালালপুর ইউনিয়ন (আংশিক) কমিটি ঘোষনা করে তালা উপজেলা ছাত্রলীগ। ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পাবার পর থেকে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে ব্যপক কর্ম পরিকল্পনা গ্রহন করা হয় এবং সেভাবে কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল। এরইমধ্যে উপজেলা ছাত্রলীগ আমার কাছে একের পর এক অনৈতিক দাবী করতে থাকে। কিন্তু সব দাবী পুরন করতে না পারায় এক নেতা নাখোশ হয়ে কমিটি ভেঙ্গে দেয়া সহ নানান হুমকি দিতে থাকে। এমতাবস্থায় গত ৩০ এপ্রিল গভীর রাতে উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি শেখ সাদী তাঁর ফেসবুক আইডিতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি আপলোড করেন। যেখানে আমাকে (নাহিদ হাসান অনিক) অদৃশ্য অভিযোগে সাময়িক বহিষ্কার করা হয় এবং দেবাশীষ অধিকারীকে সভাপতি করে নতুন কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়। ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এর সাংগঠনিক কোনও নিয়ম-নীতিকে তোয়াক্কা না করেই এই বহিষ্কার ও নতুন সভাপতি মনোনিত করার ঘটনা ঘটানো হয় বলে অনিক জানান।
অনিক অভিযোগ করে বলেন, পূর্ব থেকে দেয়া হুমকি অনুযায়ী উপজেলা ছাত্রলীগ পরিকল্পিতভাবে আমাকে সাময়িক বহিষ্কার করার পর নিয়ম অনুযায়ী অন্য কাউকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মনোনিত করা নিয়ম ছিল। কিন্তু তা না করে একই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দেবাশীষ অধিকারী নামের এক যুবককে হাস্যকর ও অগঠনতান্ত্রিক ভাবে সভাপতি মনোনিত করে জালালপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের নতুন কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়। এই দেবাশীষ অধিকারী ১১নং জালালপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী এবং ৪নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিল। ইতোপূর্বে সে নিজের নাম এবং ছবির সাথে বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়ী বহরে হামলা মামলার আসামী হাবিবুল ইসলাম হাবিব সহ এলাকার শীর্ষ বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাদের ছবি ব্যবহার করে শুভেচ্ছা পোষ্টার ছাপিয়ে দেয়ালে দেয়ালে লাগিয়ে দেয়। ছাত্রদল নেতা দেবাশীষ অধিকারী উপজেলা ছাত্রলীগকে বিশেষ সুবিধা দিয়ে জালালপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশ করে সংগঠনকে ধ্বংস করার চক্রান্ত করছে বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে।
এব্যপারে জানতে চাইলে তালা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ সাদী বলেন, পরিকল্পিতভাবে নয়, সংগঠন বিরোধে কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকায় অনিককে বহিষ্কার করা হয় এবং কোনও অবৈধ সুযোগ সুবিধা নিয়ে দেবাশীষ অধিকারীকে সভাপতির পদ দেয়া হয়নি। দেবাশীষ এবং তার পরিবার আওয়ামীলীগ এর রাজনীতির সাথে জড়িত এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সম্পাদক সহ তালা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সে হিসেবে প্রত্যয়নপত্র দেয়ায় যোগ্য হিসেবে তাকে সভাপতি করা হয়েছে।
এবিষয়ে জালালপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ এর সাধারন সম্পাদক অধ্যক্ষ রামপ্রসাদ দাস জানান, দেবাশীষ সহ তাঁর গোটা পরিবার আওয়ামীলীগ করে। তবে ইতোপূর্বে সে জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী এম. মফিদুল হক লিটু’র পক্ষে নির্বাচনী প্রচারনায় অংশগ্রহন করেছিল।
এব্যপারে জালালপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ এর নতুন সভাপতি দেবাশীষ অধিকারী জানান, আমার পক্ষে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ’র সভাপতি ও সম্পাদকের প্রত্যয়ন রয়েছে, আমার পরিবারের সকলে আওয়ামীলীগ করে। আর আমি তখন ছোট থাকায় নাবুঝে বিএনপি নেতা লিটু’র পক্ষে চেয়ারম্যানী ভোট করেছিলাম। এছাড়া বিএনপির যে পোষ্টারে আমার ছবি রয়েছে তা আমাকে ভুল বুঝিয়ে দেয়া হয়েছিল।
জানতে চাইলে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক সৈয়দ সাদিকুর রহমান বলেন, তালা উপজেলার ১১নং জালালপুর ইউনিয়নে ছাত্রদল নেতা দেবাশীষ অধিকারীকে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি করা হয়েছে- এমন অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি জেলা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটিকে অবহিত করা হয়েছে। আর এবিষয়ে অভিযোগ পাবার পর ঘটনাটি সম্পর্কে জানার জন্য তালা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ সাদী ও সম্পাদক সুমন এর কাছে মোবাইল করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।
তিনি আরো বলেন, আমি চাইনা, ছাত্রদলের ছেলেরা অনুপ্রবেশকারী হয়ে ছাত্রলীগে আসুক। এজন্য দেবাশীষ অধিকারীকে বহিষ্কারের জন্য ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশনার সাথে আমিও একমত রয়েছি। এছাড়া কেন্দ্রের নির্দেশনা মোতাবেক ঘটনার সাথে জড়িত থাকলে তালা উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি ভেঙ্গে দেয়া হবে।

#