তালার জেঠুয়ায় নকশা অনুযায়ী কপোতাক্ষ নদ খননের দাবীতে মানববন্ধন


418 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
তালার জেঠুয়ায় নকশা অনুযায়ী কপোতাক্ষ নদ খননের দাবীতে মানববন্ধন
মার্চ ৮, ২০১৬ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

বি. এম. জুলফিকার রায়হান তালা :

সাতক্ষীরার তালা ও খুলনার পাইকগাছা উপজেলার সিমান্ত দিয়ে প্রবাহিত কপোতাক্ষ নদ খনন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে খনন কাজ শুরু হয়েছে। এরমধ্যে তালার জেঠুয়া, কৃষ্ণকাটি, চর কানাইদিয়া এবং পাইকগাছার রহিমপুর, হরিদাশকাটি ও ডেয়াড়া মৌজার কপোতাক্ষ নদের অংশ প্রকল্প’র নকশা বহির্ভূত খনন করা হচ্ছে। এরফলে এলাকার কয়েকশত ভূমিহীন পরিবার পথে উঠবে। পাশাপাশি একটি প্রভাবশালী মহল অবৈধ ভাবে নদের চলমান অংশ দখল করে সেখানে লবন পানির চিংড়ি ঘের করে এলাকার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্থ করে তুলবে। তাছাড়া নকশা অনুযায়ী নদ খনন না করায় ৪ কি.মি. কম খনন করে সরকারের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

এসব দূর্নীতি, অনিয়ম ও নদ দখল রুখতে এবং সুষ্ঠ ভাবে নকশা অনুযায়ী কপোতাক্ষ নদ খনন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তালা ও পাইকগাছা উপজেলার কপোতাক্ষ নদ অববাহিকার ভূমিহীনরা মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে।

সোমবার দুুপুরে কপোতাক্ষ নদ অববাহিকার তালা ও পাইকগাছা উপজেলার সিমান্তে বসবাসকারী ভূমিহীনরা চরকানাইদিয়া ওয়াপদার রাস্তায় এই মানববন্ধন করে।

এসময় পাইকগাছার ডেয়াড়া গ্রামের হাকিম গোলদার, আব্দুস সাত্তার মোড়ল, তালার চর কানাইদিয়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম, বাবুলাল বসু, জেঠুয়া গ্রামের কালু, কৃষ্ণকাঠি গ্রামের মতিয়ার রহমান মোড়ল, ফিরোজ শেখ, গফুর গাজী, জরিনা বেগম, পারভীন বেগম ও মরিয়ম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা বলেন, তালা উপজেলার জেঠুয়া, কৃষ্ণকাটি, চর কানাইদিয়া এবং পাইকগাছা উপজেলার রহিমপুর, হরিদাশকাটি ও ডেয়ারা মৌজায় কপোতাক্ষ নদের চরভরাটি খাস জমি বিধি মোতাবেক স্থায়ী বন্দোবস্ত নিয়ে সেখানে ৪৫ থেকে ৫৫ বছর পূর্বে জনবসতী স্থাপন করা হয়। বর্তমানে সেখানে ১৭০ টি সেচ পাম্প স্থাপন পূর্বক দীর্ঘ ৪০/৪৫ বছর ধরে ধান, মাছ ও শবজি চাষাবাদ করা হচ্ছে। উক্ত খাস জমির উপর দু’টি উপজেলার ৮টি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারসহ ৫ শতাধিক পরিবারের প্রায় ৩ হাজার দরিদ্র ও হতদরিদ্র মানুষ নির্ভরশীল রয়েছে।

ভূমিহীনরা অভিযোগ করে বলেন, কপিলমুনি এলাকার প্রভাবশালী ঘের ব্যবসায়ী ও চরমপন্থী অভিযোগে প্রায় ৩৫ মামলার আসামী নির্মল ঠাকুর বর্তমানে চলমান কপোতাক্ষ নদ’র জেঠুয়া, কৃষ্ণকাঠি অংশের সহ নদ ভরাটি ৮০০ বিঘা খাস জমিতে ঘের করার জন্য ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। মূলত তাকে কপোতাক্ষ নদের চলমান অংশে ও নদ ভরাটি খাস জমি দখল দিয়ে চিংড়ি করার সুযোগ দিতেই একটি মহল পরিকল্পিতভাবে নদ খননের নকশা পরিবর্তন করে কৃষি জমি এবং বসতঘর কেটে নদ খননের পদক্ষেপ নিয়েছে। তাদের পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে একদিকে সরকারে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করার সুযোগ সৃষ্টি হবে, অপরদিকে ভূমিহীনদের তাড়িয়ে দিয়ে প্রবাহমান নদ ও নদ ভরাটি খাস জমি দখল নিয়ে পরিবেশ বিরোধী লোনা পানির চিংড়ি ঘের তৈরি হবে।

ভূমিহীনরা জানান, জনস্বার্থ বিরোধি নকশা বহির্ভূত কপোতাক্ষ নদ খনন এবং চরমপন্থী নির্মল ঠাকুরের চিংড়ি ঘের করার বিষয়টি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এছাড়া নকশা অনুযায়ী সুষ্ঠভাবে নদ খননের জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ অদ্যবদী কার্যকর কোনও ব্যবস্থা গ্রহন না করে নির্মল ঠাকুরের ঘের ব্যবসার স্বার্থে ভূমিহীনদের বসত বাড়ি, ফসলী ক্ষেত ও রাস্তা কেটে নদ খনন শুরু করেছে।

উক্ত মানববন্ধনের মাধ্যমে, ভূমিহীন দরিদ্র শতাধিক মানুষ নকশা অনুযায়ী কপোতাক্ষ নদ খননের জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।