তালার তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন আ.লীগ সভাপতির বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ


575 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
তালার তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন আ.লীগ সভাপতির বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ
ডিসেম্বর ১১, ২০১৯ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী

বি. এম. জুলফিকার রায়হান ::

তালার তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ’র বিরুদ্ধে একটি চক্র অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং তাকে হয়রানীর চেষ্টা করছে। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন এবং ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ’র কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে একটি অশুভ চক্র জনপ্রিয় আওয়ামীলীগ নেতা আবুল কালাম আজাদকে সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবে হেয় করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগে বলা হয়। বুধবার সকালে তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ’র সাবেক সাধারন সম্পাদক এস. এম. নুরুল্লাহ অর্ধশতাধিক আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মী ও ইউপি সদস্যদের নিয়ে তালা রিপোর্টার্স ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগ করেন এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানান।
সংবাদ সম্মেলনে এস. এম. নুরুল্লাহ বলেন, তালা উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ দক্ষতা, সততা, ন্যায় ও নীতির সাথে দায়িত্ব পালন করায় যে কোনও সময়ের চেয়ে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ এখন অধিক শক্তিশালী। তিনি আগামী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ’র সম্মেলনে আবারও সভাপতি এবং আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী হবেন। এতে ক্ষিপ্ত হয় দলের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা একটি অশুভ ও কুচক্রী মহল পরিকল্পিত ভাবে আবুল কালাম আজাদকে সমাজে ও দলের মাঝে হেয় করার অপচেষ্টা চালিয়ে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ’র সাংগঠনিক কার্যক্রম দূর্বল করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
এস. এম. নুরুল্লাহ বলেন, আবুল কালাম আজাদ ছাত্র জীবনে কেশবপুর কলেজে পড়াকালীন বর্তমান কেশবপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক গাজী গোলাম মোস্তফা’র নেতৃত্বে ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন এবং ৯০’র গণ আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ছাত্র জীবন শেষ করে বেসরকারি সংস্থা উত্তরণে চাকুরীরত অবস্থায় তিনি আওয়ামীলীগের সকল কার্যক্রমে অংশগ্রহন ও আর্থিক সহযোগিতা করতেন। তিনি উত্তরণে অত্যন্ত সুনামের সাথে চাকুরী করেছেন। ২০০৭ সালে তিনি পারিবারিক কারনে স্বেচ্ছায় চাকুরী ছেড়ে দেন। পরবর্তীতে তিনি জোরালো নেতৃত্ব দিয়ে তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগকে সু-সংগঠিত করেন এবং বিরোধি দলগুলোর জ¦ালাও-পোড়াও আন্দোলন দক্ষতার সাথে মোকাবিলা করে নিজ ইউনিয়নে আওয়ামীলীগকে উজ্জীবিত রাখেন। ফলে বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এই ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ দলীয় প্রার্থী নৌকা প্রতিক নিয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে গত ০৮ ডিসেম্বর তালা উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের আড়ংপাড়া গ্রামের বিতর্কীত করিম’র পুত্র সোহরাব হোসেন তালা প্রেসক্লাবে মিথ্যা ও কূ-রুচীপূর্ন তথ্য উত্থাপন করে সংবাদ সম্মেলন করে। সেখানে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ত্যাগী ও জনপ্রিয় সভাপতি আবুল কালাম আজাদ’র বিরুদ্ধে অশ্লিল ও কূ-রুচীপূর্ন মিথ্যা এবং কাল্পনিক তথ্য উত্থাপন করা হয়। সোহরাব’র ওই সংবাদ সম্মেলন সম্পূর্ন ব্যক্তি স্বার্থ কেন্দ্রিক, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত হওয়ায় উক্ত সংবাদ সম্মেলনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তা ঘৃনা ভরে প্রত্যাখ্যান করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে এস. এম. নুরুল্লাহ বলেন, আওয়ামীলীগের নাম ব্যবহার করে যারা অবৈধ ভাবে লাভবান হয়েছেন, দূর্নীতি করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তারায় আবুল কালাম আজাদকে সামাজিক ও রাজনৈতিক হেয় প্রতিপন্ন করতে কূৎসা রটাচ্ছে। অথচ আবুল কালাম আজাদ আওয়ামীলীগ করার কারনে ৯২ সালে বিএনপির ক্যাডারদের দ্বারা নির্যাতিত হন। এছাড়া তার সুভাষিনী বাজারস্থ ঘরে আওয়ামীলীগের দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করায় ২০০৩ সালে বিএনপির ক্যাডাররা সেই ঘর ভাংচুর করে। এরপরও ২০০৩ সালে আওয়ামীলীগের ওয়ার্ড এবং ইউনিয়ন কমিটি গঠনকালে তিনি শক্তিশালী কমিটি গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। বছরের পর বছর ধরে দলের উন্নয়নে জন্য নিরলস ভাবে কাজ করায় ২০১৩ সালে কাউন্সিলররা ভোট দিয়ে ব্যাপক ব্যবধানে আবুল কালাম আজাদকে সভাপতি নির্বাচিত করেন। সভাপতি হিসেবে সফলতা অর্জন করায় তিনি তালা উপজেলা আওয়ামীলীগের দুটি সম্মেলন বাস্তবায়নে এবং উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সহ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে গুরুত্বপূর্ন ও বিশেষ দায়িত্ব প্রাপ্ত হন। এরআগে ১৯৯৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে নিজের অর্থ, সম্পদ ও শ্রম দিয়ে নিজ এলাকায় আওয়ামীলীগকে বিজয়ী করান।
পক্ষান্তরে সভাপতি আবুল কালাম আজাদ’র বিরুদ্ধে সাংবাদিক সম্মেলনকারী সোহরাব হোসেন ২০০৩ সালে আওয়ামীলীগে যোগদান করে। সে বহু অপকর্মের সাথে জড়িত এবং বিতর্কীত। তার বিরুদ্ধে দরিদ্র মানুষদের মাঝে সুদে ব্যবসা করা, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের নাম ভাঙ্গিয়ে গরীব অসহায় মানুষদের কাছ থেকে ঘর প্রদান, বয়স্ক ও বিধবা ভাতা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়া সহ ভূমিদস্যুতার অভিযোগ রয়েছে। সে বিএনপি ও জামায়াত প্যানেলের সমর্থন নিয়ে তেরছি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি হবার পর মোটা অংকের টাকা ঘুষ নিয়ে ইউনিয়ন বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদককে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ করায়। এছাড়া গত বছর আড়ংপাড়া বাজারে জুয়া খেলার সময় সে পুলিশে হাত থেকে কৌশলে পালিয়ে যায়।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ’র বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকা শংকর কুমার দাশ পূর্বে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি থাকাকালে কাটিপাড়া বটতলা কালী মন্দিরের নামে চৌদ্দ বার এবং বর্তমান এম.পির তিনবার অর্থ বরাদ্দ সমূদয় টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া ওই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকা হামিদুর, গনেশ ঘোষ, পরিতোষ রায়, তৌহিদুজ্জামান সহ কয়েকজকে এম.পি’র কথা বলে কৌশলে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের দূর্নীতি, প্রতারনা, দলের ভিতর বিচ্ছেদ সৃষ্টি, নির্বাচিত ইউনিয়ন সভাপতির বিরুদ্ধে অপপ্রচার সহ অনিয়ম’র তদন্ত পূর্বক কূচক্রীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহরে জন্য সংবাদ সম্মেলনকারীরা উর্দ্ধতন নেতৃবৃন্দদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এসময় তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ’র সদস্য মোশারফ হোসেন, বাবুর আলী গাজী, মোহাম্মাদ আলী, আলাউদ্দীন সরদার, ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সভাপতি আব্দুল খালেক, আব্দুল মোড়ল, ইবাদুল মোড়ল, আব্দুস সাত্তার, সাধারন সম্পাদক মুজিবুর রহমান, মতিয়ার রহমান, করিম মলঙ্গী, শাহাজান মোড়ল, বলয় দাশ, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতা আলতাফ হোসেন, মশিয়ার রহমান, রাশেদুল ইসলাম, এম. এ. জাফর, মো. আলাউদ্দীন, কামরুল ইসলাম, আবু সাইদ মল্লিক, আবু বক্কার, শ্যামল, দিলিপ, আয়ুব আলী, খবির উদ্দীন, মোক্তার শেখ, মান্নান শেখ ও জামের আলী মোড়ল সহ অর্ধশতাধিক আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

#