তালার দূর্নীতিবাজ সেটেলমেন্ট অফিসারের প্রত্যাহারের দাবীতে উপজেলা পরিষদ ঘেরাও, স্মারকলিপি প্রদান


348 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
তালার দূর্নীতিবাজ সেটেলমেন্ট অফিসারের প্রত্যাহারের দাবীতে উপজেলা পরিষদ ঘেরাও, স্মারকলিপি প্রদান
জুন ২৮, ২০১৫ আশাশুনি তালা
Print Friendly, PDF & Email

 

 

বি. এম. জুলফিকার রায়হান, তালা : তালা সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার গাজী মনিরুজ্জামান ও তার দোসর ক্লার্ক অহিদুজ্জামানের সীমাহীন দূর্নীতি এবং অনিয়মে ফুঁসে উঠেছে তালাবাসী। রোববার বেলা ১২টায় বরেন্য মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, সুশীল সমাজ প্রতিনিধি ও শত শত ভুক্তভোগী নারী পুরুষ বর্ষার মধ্যে ভিজে দূর্নীতিবাজদের বদলিঅন্তে বিভাগীয় শাস্তির দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। মিছিল শেষে ক্ষুব্ধ তালাবাসী উপজেলা পরিষদ ঘেরাও শেষে, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ভূমি সচিব, মহাপরিচালক ও বিভাগীয় কমিশনার এর নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। এসময় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের প্রতিনিধি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান, তালা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এর কমান্ডার মো. মফিজ উদ্দীন, তালা সদর মডেল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও তালা প্রেস ক্লাব সভাপতি সাংবাদিক এস. এম. নজরুল ইসলাম, তালা প্রেস ক্লাবের সাধারন সম্পাদক জলিল আহমেদ, সাতক্ষীরা জেলা জাতীয় ছাত্রসমাজের যুগ্ম আহবায়ক ও তালা রিপোটার্স ক্লাব এর সাংগঠনিক সম্পাদক বি.এম. জুলফিকার রায়হান, জাপা নেতা আবুল হোসেন মোড়ল, আবু হায়াত নিকারী সহ আ.লীগ, জাতীয় পার্টির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ সহ ভুক্তভোগীরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, শ্যামনগর উপজেলায় এই দূর্নীতিবাজ সেটেলমেন্ট অফিসার গাজী মনিরুজ্জামান থাকাকালে তার বিরুব্ধে জুতা মিছিল সহ সেটেলমেন্ট অফিস অবরুদ্ধ করা হয়। এসংক্রান্তে সেসময় দেশের বহুল প্রচাারিত প্রায় সকল দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়। শ্যামনগর থেকে স্থানীয় এমপির হাতে লাঞ্চিত হবার পর সরকার তাকে প্রত্যাহার করে নেয়। পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ তাকে গত মার্চ মাসে তালায় পোষ্টিং দেন। এখানে যোগদান করেই গাজী মনিরুজ্জামান তালা সেটেলমেন্টের আলোচিত দূর্নীতিবাজ পেশকার অহিদুজ্জামানের সাথে পরস্পর যোগসাজসে সীমাহীন দূর্নীতি আর অনিয়মের মাধ্যমে তালাবাসীকে অতিষ্ট করে তোলে। সূত্র জানায়, ১৯৯০ সালে তালা অঞ্চলে জরিপ কার্যক্রম শুরু হলেও এ দু’জনের মতো ওপেন ঘুষ গ্রহন এর আগে আর কখনও হয়নি। প্রত্যেক মামলায় বাদী বিবাদীকে নিয়ে ঘুষের দরবার, যে পক্ষ বেশী টাকা দিবেন সেই পক্ষে রায় দেয়া হয়। তালা সদর মডেল ইউনিয়নের ভায়ড়া মৌজার শুনাণী করছেন তিনি। তদন্ত করলে জানা যাবে ওই এলাকাবাসী তার হাতে হয়রানী ও  নির্যাতিত হচ্ছে। দলিল প্রতি ৫ হাজার টাকা না দিলে দলিল রেকর্ড করা হয়না। তাদের দূর্নীতিতে তালা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, তালা থানার অফিসার ইন চার্জ সহ স্থানীয় সর্বস্তরের জনগন ওই দুই ক্ষমতাধর (!) ব্যক্তির অপকর্মে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। বিধি মোতাবেক ৩০ ধারার মামলা না করলে ৩১ ধারার বিচার পাওয়া যায়না। কিন্তু মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তারা ভূয়া ৩০ ধারার মামলা দেখিয়ে ৩১ ধারার মামলা দায়ের ও সেই মামলায় বিচার করে রেকর্ড দিচ্ছেন। এভাবে বিভিন্ন পন্থায় হাতিয়ে নিচ্ছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। খোজ নিয়ে জানাযায়, সেটেলমেন্ট অফিসার গাজী মনিরুজ্জামান আশাশুনী ও শ্যামনগর উপজেলা থেকে দূর্নীতি আর অনিয়মের কারনে প্রত্যাহার হন। আর তার একান্ত সহযোগী রেকর্ড কিপার অহিদুজ্জামান ১৯৯২ সালে পাটকেলঘাটা অঞ্চলে সেটেলমেন্ট কার্যক্রম চলাকালে পরিকল্পিত ভাবে অফিসটিকে পুড়িয়ে দেয়া হয়। তাতে প্রায় ৭০টি মৌজার কাগজপত্র পুড়ে ভষ্মিভূত হয়। উক্ত অহিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে অফিস পোড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। এদিকে, বিভিন্ন পত্রিকায় তালা সেটেলমেন্ট অফিসার ও পেশকারের বিরুদ্ধে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশিত হবার পর তাদের গাত্রদাহ শুরু হয়েছে। তাদের অপকর্ম ঢাকতে এবং প্রশাসনিক তদন্ত’র সময় নিজেদের রক্ষা করতে ইতোমধ্যে দালাল নিয়োগ দেওয়া সহ টাকার ব্যাগ নিয়ে মাঠে নেমেছে। ইতোমধ্যে তারা প্রকৃত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে নিউজ করানো সহ পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়া বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিরুদ্ধে পাল্টা সংবাদ প্রকাশের তৎপরতা শুরু করেছে।