তালার দেওয়ানীপাড়া দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষকরা ব্যস্ত রাজনৈতিক দলের সভা নিয়ে : দাখিল পরীক্ষায় পাশ করেনি কেউ


307 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
তালার দেওয়ানীপাড়া দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষকরা ব্যস্ত রাজনৈতিক দলের সভা নিয়ে : দাখিল পরীক্ষায় পাশ করেনি কেউ
মে ১৩, ২০১৮ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email
  1. তালা দেওয়ানীপাড়া দাখিল মাদ্রাসার বেহাল অবস্থা
  2. শিক্ষকরা ব্যস্ত বিতর্কীত রাজনৈতিক দলের সভা নিয়ে
  3. দাখিল পরীক্ষায় পাশ করেনি কেউ
  4. কোমলমতী শিক্ষার্থীদের দিয়ে গ্রাম থেকে সংগ্রহ করানো হয় খয়রাতীর ধান

 

বি. এম. জুলফিকার রায়হান, তালা ::
তালা উপজেলার দেওয়ানীপাড়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে চলতি বছর দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহনকারী সকল পরীক্ষার্থীরা ফেল করেছে। শিক্ষকরা পাঠদান সময়ে জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক কর্মকান্ড পরিচালনা, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের দিয়ে গ্রাম থেকে অবৈধভাবে ধান, চাল, পাট, বাঁশ সংগ্রহ করানো এবং সকল সুপার ও সহ-সুপার সহ অধিকাংশ শিক্ষকরা নিয়োমিত মাদ্রাসায় হাজির না হওয়ায় এই ফল বিপর্যয় বলে জানাগেছে। এনিয়ে অভিভাবকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সূত্রে জানাগেছে, ১৯৮৩ সালে স্থানীয় জামায়াত নেতারা দেওয়ানীপাড়া গ্রামে “দেওয়ানীপাড়া এবতেদায়ী মাদ্রাসা” নামের একটি মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। পরবর্তীতে ২০০২ সালে মাদ্রাসাটি এবতেদায়ী থেকে দাখিল মাদ্রাসায় রুপান্তরিত করা হয়। বিগত কয়েক বছর অত্র মাদ্রাসার দাখিল পরীক্ষার ফলাফল কিছুটা সন্তোষ ছিল। কিন্তু বিগত বছর থেকে মাদ্রাসার সুপার আমিনুল ইসলাম ও সহ-সুপার সামছু সহ কয়েকজন শিক্ষক মাদ্রাসার পাঠদান বন্ধ করে দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক কর্মকান্ড বৃদ্ধি ও রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। যে কারনে, নাশকতামূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ায় মাদ্রাসার সুপার আমিনুল ইসলাম ইতোপূর্বে পুলিশের হাতে আটক হয়ে জেল হাযত বাস করে। কিন্তু তারপরও থেমে নেই তাদের রাজনৈতিক কর্মকান্ড। অভিযোগ উঠেছে- সহ-সুপার সামছু মাদ্রাসার অপর এক শিক্ষককে সাথে নিয়ে দেওয়ানীপাড়া গ্রামের জামায়াত ইসলামীর নেতা আব্দুল হাকিম এর সহযোগীতায় অপর জামায়াত নেতা আবুল কালাম এর ধান কলের মধ্যে বৈঠক করেন। সহ-সুপার সহ অপর শিক্ষকের বাড়ি অন্যত্র হওয়ায় মাদ্রাসায় এসে পাঠদান না করে মাদ্রাসা চলাকালিন সময়ে তারা রাজনৈতিক সভা-বৈঠক করেন বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তাদের সন্তানদে ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত করে মানুষের মত মানুষ করার জন্য অত্র মাদ্রাসায় ভর্তি করানো হয়েছিল। কিন্তু মাদ্রাসার শিক্ষকরা পাঠদান না করিয়ে শিক্ষার্থীদের দিয়ে গ্রামের বিভিন্ন ব্যক্তির বাড়ি থেকে ধান, চাল, পাট, বাঁশ সংগ্রহ করাচ্ছে। কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের দিয়ে এহেন ভাবে সম্পদ সংগ্রহ করিয়ে তা বিক্রি করে সমূদয় টাকা শিক্ষকরা ভাগ-বাটোয়ারা করে নেন। আর শিক্ষার্থীদের গ্রাম থেকে সংগ্রহ করার মতো হীন কাজ করে মানষিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
গত বুধবার সরজমিনে গেলে দেখা যায়, মাদ্রাসায় কয়েক জন ছাত্রী বাদে সুপার ও সহ-সুপার সহ সকল শিক্ষকরা অনুপস্থিত। অপরিস্কার ও একাধিক স্থানে ছিড়ে জারাজীর্ন হওয়া জাতীয় পতাকাটি উড়ছে নিয়ম বহির্ভূত ভাবে উত্তোলন করা অবস্থায়। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে এসময় দৌড়ে এলেন আব্দুর রাজ্জাক নামের এক সহকারী শিক্ষক। তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সুপার আমিনুল ইসলাম ৪/৫দিন মাদ্রাসায় আসেননা। আর সহ-সুপার সামছু সহ মাদ্রাসার ছাত্ররা গ্রামে গিয়েছে খয়রাতী ধান সংগ্রহ করতে। সংগ্রহ করা এই ধান বিক্রি করার টাকা শিক্ষকরা বেতন হিসেবে ভোগ করবে বলেও তিনি জানালেন। এছাড়া, চলতি বছর অত্র মাদ্রাসার ২০জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহন করলেও ফল বিপর্যয় হওয়ায় কেহ পাশ করতে পারেননি বলেও তিনি জানালেন।
এসময় মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে মাদ্রাসার সুপার আমিনুল ইসলাম শিক্ষক ও ছাত্রদের দিয়ে খয়রাতীর ধান সংগ্রহ করার বিষয় স্বীকার করে বলেন, “আমি মাদ্রাসার সভাপতিকে মৌখিক জানিয়ে ছুটিতে আছি”। সহ-সুপার সামছু জানান, “আমি আজ ধান সংগ্রহে না যেয়ে খুলনায় শিক্ষক সমাবেশে যাচ্ছি”।
এদিকে, মাদ্রাসার দায়িত্বশীল দুই শিক্ষকের উক্ত অনিয়ম অভিযোগের সাথে সহ-সুপার সামছু’র বিরুদ্ধে চলতি বছর সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া একাধিক পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেবার অভিযোগ উঠেছে। খাতা পুনঃ মূল্যায়ন’র মাধ্যমে পরীক্ষায় পাশ করিয়ে দেবার কথা বলে একাধিক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৫ হাজার, ৭ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নেয় বলে অভিভাবকদের অভিযোগ। যদিও এই অভিযোগ সহ-সুপার সামছু অস্বীকার করে বলেছেন- মাদ্রাসার সুনামে ঈর্স্বান্বিত হয়ে একটি মহল এধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে।
তবে, মাদ্রাসার শিক্ষকদের পাঠদান না করিয়ে বিতর্কীত রাজনৈতিক দলের সভা, সমাবেশে অংশগ্রহন, শিশু শিক্ষার্থীদের দিয়ে খয়রাতীর ধান, বাঁশ সংগ্রহ এবং মাদ্রাসায় শিক্ষকদের অনুপস্থিতির কারনে অভিভাবকরা ক্ষুব্ধ হয়ে সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এবিষয়ে জানতে চাইলে তালা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আতিয়ার রহমান জানান, এবিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
##