তালার পান চাষিদের সুদিন ফিরেছে


131 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
তালার পান চাষিদের সুদিন ফিরেছে
জানুয়ারি ২১, ২০২১ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

মুজিবর রহমান ::

পান চাষিরা ভালো নেই। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় দিন দিন তারা পান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন। তবে এর বিপরীত চিত্র দেখা গেছে তালা উপজেলায়। তবে আম্পান ঝড়ের কারণে এ বছর পানের বরজের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করায় পান চাষীরা লাভের মুখ দেখতে পারেনি। এলাকায় চাষিদের মধ্যে দিন দিন পান চাষ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। চাষি ও কৃষি বিভাগের ভাষ্য, এ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পান চাষে ফলন বেশি হয়।

উৎপাদন খরচ বেশি হলেও বছরের অধিকাংশ সময়ই দাম ভালো পাওয়া যায়। তাই অন্যান্য ফসল ছেড়ে চাষিরা পান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তালা উপজেলার প্রায় সব ক’টি ইউনিয়নে পান চাষ হয়। এর মধ্যে কুমিরা, খলিষখালী, মাগুরা, তালা, ধানদিয়া, ইসলামকাটি, তালা ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি পান চাষ হয়। এ উপজেলার কুমিরা ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, ইউনিয়নটিতে অনেক পানের বরজ রয়েছে। প্রত্যেক বরজে সারি সারি পানের লতা। প্রতিটি লতা দুইপাশে পান ভরে গেছে যা দেখে ভালোলাগায় মন জুড়িয়ে যাবে। চাষিরা জানান, পান গাছ লাগানোর ৬ মাস পর থেকেই ফলন পাওয়া যায়। আর একবার লাগানো পান গাছ থেকে প্রায় ২০/২৫ বছর পান পাতা সংগ্রহ করা যায়। ধান সহ অন্যান্য ফসলের তুলনায় পান চাষে লাভের পরিমান অনেক বেশি। এ বছর আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় পানের ফলন ভালো হয়েছে। একই সংগে দাম ভাল থাকায় পান চাষিরা বেজায় খুশি।
তালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, এ বছর তালায় ৪২৫ হেক্টর জমিতে পান চাষ হয়েছে। সরকারি সহায়তা ও স্বল্পসুদে ঋণ পেলে আগামীতে এ উপজেলায় পানের চাষ আরও বাড়বে।
স্থানীয় চাষিরা জানান, পান গাছ লাগানোর ছয় মাসের পর থেকেই ফলন পাওয়া যায়। আর একবার লাগানো গাছ থেকে প্রায় ১৫-২০ বছর অনায়াসে সংগ্রহ করা যায় পান পাতা। ধানসহ অন্যান্য ফসলের তুলনায় পান চাষে লাভের পরিমাণ অনেক বেশি। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পানের ফলন ভালো হয়েছে। একইসঙ্গে বাজারে দাম ভালো পাওয়ায় খুশি পান চাষিরা।
তালা উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নের রাঢ়িপাড়া গ্রামের তবিবর রহমান সরদার খলিষখালী ইউনিয়নের অজয় দত্ত, দোহার গ্রামের আব্দুস সালাম এবং মাগুরা ইউনিয়নের দীপক, অশোক কুমার জানান, এক বিঘা পান চাষ করতে প্রায় এক লক্ষ টাকার বেশি খরচ হয়। একবার খরচ করলে বরজ থেকে ২০-২৫ বছর পান সংগ্রহ করা যায়। প্রতি বছর ৫০ থেকে ১ লক্ষ টাকার পান বিক্রি করা যায়। এবছর পানের আবাদ খুব ভালো হয়েছে। একপন পান ২০০ থেকে ২২৫ দরে বিক্রি করেছেন তারা। স্বল্পসুদে ঋণ পেলে পান চাষ আরও বাড়ানো যেত বলেও জানান তারা। কুমিরা গ্রামের তবিবর রহমান সরদার জানান আমাদের উৎপাদিত পান ঢাকা, খুলনাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয়। পান চাষ বেশ লাভজনক কিন্তু এ বছর আম্পানের কারণে পানের বরজ লন্ডভন্ড হয়ে যাওয়ায় চাষীরা বেশ লোকসানে আছে। পানের দাম পাওয়াতে চাষীরা বেশ খুশি।
তালা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি কর্মকর্তা হাজিরা বেগম বলেন, ‘নিয়মিত সঠিক পরিচর্যা করতে পারলে পান চাষ করে ভালো ফলন পাওয়া যাবে। এ বছর পানচাষিরা ভাল ফলনের পাশাপাশি ভালো দাম পেয়েছেন। আগামীতে কৃষকরা পানচাষে আরও আগ্রহী হবেন বলে আমি আশা করি। তালার পান স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন বাজারসহ বিদেশেও পাঠানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন এই কৃষি কর্মকর্তা।

#