তালার বারাত বিলের ২১’শ বিঘা জমির হারিতে ডীড বিরোধ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন


569 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
তালার বারাত বিলের ২১’শ বিঘা জমির হারিতে  ডীড বিরোধ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন
ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৭ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার  ::
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার বারাত, কাজিডাঙ্গা, খরাইল, ভাবানীপুর, ও মৃজাপুর বিলের ২১৫০ বিঘা জমির অগ্রীম হারী দেওয়া ঘেরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও মিথ্যে অপপ্রচার বন্ধের দাবি  জানিয়েছেন মালিক পক্ষ। কেশবপুর এলাকার চুয়াডাঙ্গা গ্রামের ঘের মালিক মোস্তাক আহমেদের পক্ষে তালা উপজেলার বারাত গ্রামের মৃত বাসতুল¬াহ দপ্তরির ছেলে মোঃ মতিয়ার রহমান শনিবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মতিয়ার রহমান বলেন, বারাত বিলের আওতায় প্রায় ২১৫০ বিঘা জমির মালিকরা কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করত। কিন্তু কপোতাক্ষ নদ ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশনের অসুবিধার কারণে আমরা জমির মালিকগণ বারাত বিলের ওই জমি ইরি বোরো মৌসুমে পানি সেচ দেওয়ার শর্তসহ অন্যান্য শর্তে ৫বছর পূর্বে কেশবপুর পাজিয়া এলাকার হযরতের কাছে নামমাত্র মুল্যে লীজডীড প্রদান করি। কিন্তু ২বছর ঘের পরিচালনা করার পর হযরত তার ভায়রা শুকুর আলীর কাছে ওই ঘের হস্তান্তর করেন। কিন্তু ২০১৪ সালে কেশবপুর এলাকার আব্দুল হামিদ সরদারের ছেলে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এস,এম মনজুর রহমান ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে শুকুর আলীর কাছ থেকে ওই ঘের দখল করে নেয়। মনজুর এসময় জমির মালিকদের প্রাপ্য হারির টাকা না দিয়ে তাদের সঙ্গে দূরব্যবহার করতে থাকেন। জমির মালিকরা মনজুরের অত্যাচারে অতীষ্ট হয়ে তাকে ডীড না দিয়ে কেশবপুর এলাকার চুয়াডাঙ্গা গ্রামের ঘের মালিক মোস্তাক আহমেদের কাছে ডীড দেওয়ার চিন্তা করেন। বিষয়টি জানতে পেরে জামায়াত নেতা মনজুর তার অবৈধ দখল বজায় রাখতে গত ১ জানুয়ারী প্রতারণার মাধ্যমে একটি ভূয়া ডীড তৈরি করে। এদিকে প্রায় ৯৫ভাগ জমির মালিক ১৫ জানুয়ারী ইসলামকাটি সাবরেজিষ্ট্রি অফিসে গিয়ে মোস্তাক আহমেদের কাছে রেজিঃ ডীড প্রদান করে। এঘটনার পর মনজুর রহমান জমির মালিকদের উপর ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেন এবং নামমাত্র মূল্যে জোরপুর্বক ওই জমির ডীড নেওয়ার জন্য পায়তারা শুরু করেন। তিনি বলেন, জামায়াত নেতা মনজুরে ভাড়াটিয়া এলাহী বক্স গত ২ ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রকাশ করেছেন। সেখানে তিনি যে বক্তব্য প্রদান করেন তার বাস্তবসম্মত কোন ভিত্তি নেই। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এলাকার জমির মালিকরা অধিকাংশ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। মনজুর কৌশলে ভাড়াটিয়া মস্তানদের দিয়ে নিরিহ সংখ্যালঘুদের বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধামকি অব্যাহত রেখেছে। সে ও তার ভাড়াটিয়া লোকেরা প্রকাশ্যে বলছে যদি তার নামে জমি ডিড না দেওয়া হয় তাহলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকদেরকে ক্ষতি করবে, বাড়িঘর ভাংচুর করে ভারতে তাড়িয়ে দেবে। এঘটনার প্রতিকার চেয়ে গত ১ ফেব্রুয়ারি এলাকার জমির মালিকদের পক্ষে দিনেষ ঘোষ সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন। মনজুর ও  তার বাহিনীর ভয়ে বারাত বিলের জমির মালিকরা বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি বারাত বিলের ওই জমি থেকে জামায়াত-শিবির চক্রের তৎপরতা বন্ধ, মৎস্য ব্যবসাী মোস্তাক আহমেদের কাছে নায্য হারিতে দেওয়া ডীড বজায় রাখা এবং মনজুর রহমানের অত্যাচার থেকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকদের রক্ষা ও তাদের নিরাপত্তার দাবিতে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারসহ সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেন।