তালার মাগুরায় পানি নিস্কাশন ড্রেন আবারও দখল : অর্ধশতাধিক পরিবার পানিবদ্ধ


163 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
তালার মাগুরায় পানি নিস্কাশন ড্রেন আবারও দখল : অর্ধশতাধিক পরিবার পানিবদ্ধ
আগস্ট ৮, ২০১৯ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

বি. এম. জুলফিকার রায়হান ::

বিগত বছরের ন্যায় এবছরও প্রভাবশালী মহল পানি নিস্কাশনের একমাত্র ড্রেন দখল করায় তালার মাগুরা বাজারের পীর শাহ জয়েন উদ্দীন (র.) এর মাজার এলাকা ও সোনালী ব্যাংক এলাকা সহ শেখ পাড়ার অর্ধ শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। প্রায় ১ মাসের বৃষ্টির পানি নিস্কাশিত হতে না পেরে এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় তলিয়ে গেছে নলকূপ। এতে কয়েকটি পরিবারকে দূর থেকে সুপেয় পানি এনে পান করতে হচ্ছে। তাছাড়া পায়খানা ঘর, উঠান ও ঘরের মধ্যে পানি বদ্ধ হওয়ায় চরম মানবেতর অবস্থার সন্মুখিন হয়েছে পরিবারগুলো। তার সাথে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো রয়েছে সাপের আক্রমন সহ পানি বাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার আতংকে।
স্থানীয় ভুক্তভোগী বাসিন্দা শেখ নিটল ও রাহেলা বেগম সহ একাধিক ব্যক্তি জানান, মাগুরা মাজার সংলগ্ন এই এলাকায় শতাধিক পরিবারের প্রায় সাড়ে ৪ শ’ মানুষের বসবাস। বর্ষা মৌসুমে এই এলাকার পানি মাগুরা-পাটকেলঘাটা সড়কের পাশের একটি ড্রেন দিয়ে বছরের পর বছর ধরে কপোতাক্ষ নদে নিস্কাশিত হয়। কিন্তু বৃষ্টির পানি নিস্কাশনের জন্য ব্যবহৃত ড্রেনটি এলাকার জালাল ফকিরের ছেলে রিপন এবং বাবু সহ গফ্ফারের ছেলে নুন্ট, মালেক মুহুরি এবং আলী বক্স’র ছেলে শহিদুল প্রায় আড়াই বছর আগে দখল করে সেখানে মাটি ভরাট করে। ফলে বর্ষা মৌসুমে এলাকার পানি নিস্কাশিত হতে না পেরে গত দুই বছর টানা জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলে শতাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়। গত বছর জলাবদ্ধতা ঠেকাতে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আব্দুল হালিম টুটুল নিজ উদ্যোগে ড্রেনটি পুনরায় খনন করে দিলে পানি নিস্কাশিত হয়। কিন্তু কিছুদিন পার হতে না হতেই ওই চক্রটি আবারও মাাটি ভরাট করে ড্রেনটি দখল করে নেয়। ফলে চলতি বছর বর্ষা মৌসুম শুরু হবার সাথে সাথে এলাকার পানি নিস্কাশিত হতে না পেরে স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এরফলে এলাকার একাধিক পরিবারের নলকূপ জলাবদ্ধতার পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া একাধিক দরিদ্র পরিবারের টয়লেট, উঠান ও বসতঘর প্লাবিত হওয়ায় পরিবারগুলো প্রায় ১মাস ধরে মানবিক জীবন যাপন করছে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকা জলাবদ্ধ থাকায় হতদরিদ্র মুনছুর সরদারের কাচা বসত ঘর ও রান্না ঘরের একটি অংশ ধ্বসে পড়েছে। তাছাড়া সিরাজুল ইসলাম’র কাঠের ফার্নিচারের দোকান সহ স্থানীয় হাফেজ সাহেব’র রিং স্লাবের দোকান ও কর্মকারের দোকান এলাকার একাধিক দোকান ও অর্ধশতাধিক বাড়ি পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এতে নিজেদের জীবন যাপন সহ গৃহপালিত পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছে মানুষগুলো। যেকারনে অবিলম্বে পানি নিস্কাশনে কার্যক্রর ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য ভুক্তভোগী মানুষ প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

#