তালার মুচিদাহ জলমহল ইজারা প্রদানে চলছে তুঘলকি কান্ড !


465 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
তালার মুচিদাহ জলমহল ইজারা প্রদানে চলছে তুঘলকি কান্ড !
মে ৬, ২০১৭ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

বি. এম. জুলফিকার রায়হান ::
প্রকৃত জেলেদের বাদ দিয়ে তালা উপজেলার মাগুরার মুচিদাহ খাল প্রভাবশালীদের দখল দেয়ার পায়তারা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বঞ্চিত হয়ে সমিতির প্রকৃত জেলেরা প্রতিকারের আশায় অফিসে অফিসে ঘুরছে। তালা উপজেলা জলমহল বন্দোবস্ত কমিটি বিধি মোতাবেক দলুয়া দক্ষিণ পাড়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিকে মুচিদাহ খাল (জলমহল) ইজারা দিয়ে অর্থ জমা দেওয়ার আদেশ দেন। তবে প্রভাবশালীদের চাপে উপজেলা জলমহল বন্দোবস্ত কমিটির সুপারিশকে পাশ কাটিয়ে প্রশাসন বিতর্কীত মাগুরা মৎস্যজীবী সমিতিকে বন্দোবস্ত প্রদান করার উদ্যোগ নিচ্ছে। তবে ঐ সমিতির ২৬ সদস্যদের ১৩ জন বন্দোবস্তো না পাওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এ বিষয়ে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসনের নিকট লিখিত আবেদনও করেছে। ঐ জেলেদের দাবী, বিগত দিনে তাদের পাশ কাটিয়ে প্রভাবশালীদের নিয়ে সমিতির সভাপতি ও সম্পাদক জলমহল অবৈধভাবে ভোগ করেছে। এবারও তালা একই উদ্যোগ নিয়েছে।
সূত্র জানায়, তালা উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নে শালিখা নদীর সংযোগ স্থলে মুচিদাহ খাল অবস্থিত। এ খালটি জলমহল হিসেবে সরকার প্রতি ৩ বছর অন্তর ইজারা প্রদান করেন। সর্বশেষ জলমহলটি ইজারা পান মাগুরা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি। কিন্তু সমিতির দীর্ঘ দিন কোন কার্যক্রম না থাকায় ২৬ সদস্যের মধ্যে ১৪ জন সদস্য চলতি বছর তাদের সমিতির নামে খাল ইজারা নেওয়ার বিপক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেন। এ বিষয়ে তারা সম্প্রতি উপজেলা জলমহল বন্দোবস্ত কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন। অন্যদিকে তারা জলমহলের বিষয়ে আবেদন করেননি বলে সরকারি স্টাম্পে অঙ্গীকারও করেন। সেখানে সন্তোষ বিশ্বাস, বিশ্বাজিৎ, পিন্টু মৃণালসহ ১৪ জানান, তারা জলমহল নেওয়ার জন্য কোন আবেদন করেননি। সমিতির সভাপতি মনোরঞ্জন বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক জগোদিস তাদের স্বাক্ষর জাল করে আবেদন করেছেন। এছাড়া গত তিন বছর ধরে সমিতির সভাপতি একাই জলমহলটিতে ব্যক্তিগত ভাবে মাছ চাষ করে ভোগ দখল করে। ফলে সমিতির সদস্য প্রকৃত জেলেরা সরকারি খালে মাছচাষে বঞ্চিত হয়।
সূত্র আরো জানায়, সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্থানীয় প্রভাবশালীদের নিয়ে ঐ জলমহলটি বন্দোবস্ত করার পায়তারা করছে। এ ক্ষেত্রে তাঁরা জেলা প্রশাসনসহ প্রভাবশালীদের নাম ভাঙ্গাচ্ছে আর এতে বাঁধা দেওয়ায় সমিতির সদস্য সাধারন জেলেদের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ বলা হয়েছে।
সূত্র আরো জানায়, গত ৩ মার্চ-১৭ তারিখে উপজেলা জলমহল বন্দোবাস্তো প্রদান কমিটি বিধি মোতাবেক মুচিদহ খাল’র অনুকূলে দলুয়া দক্ষিণপাড়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লি. কে রাজস্ব পরিশোধ করার জন্য চিঠি দেয়। চিঠিতে তালার সহকারী কমিশনার (ভূমি) লিটন আলী স্বাক্ষর করেন। কিন্তু জলমহল বন্দোবাস্তো প্রদান কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী উক্ত জলমহল চলতি বাংলা সন থেকে যাতে বৈধ সমিতি দখল নিতে না পারে সেজন্য উঠেপড়ে লেগেছে কূচক্রী প্রভাবশালীরা।
সূত্র আরো জানান, জলমহল বন্দোবস্ত নীতিমালায় জলমহলের পার্শবর্তী জেলে সম্প্রদায়ের পাওয়ার কথা বলা আছে। সেখানে কপোতাক্ষের তীববর্তী মাগুরা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিকে দেওয়ার পায়তারা করছে। অন্যদিকে ঐ জলমহল সংলগ্ন শালিখা নদীর তীরবর্তী দলুয়া দক্ষিণপাড়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লি. কে সুপারিশ করার পরেও এই সমিতিকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। যদিও দলুয়া দক্ষিণপাড়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লি. বিধি মোতাবেক জরমহলের জন্য ইজারা নিলামে সর্বোচ্চ দর দিয়ে জলমহলের বৈধ ইজারার মালিক। কিন্তু তারপরও প্রভাবশালী কূচক্রী মহল অবৈধ ভাবে সরকারি জলমহাল জোর দখল নেবার অপচেষ্টা শুরু করায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয় মৎস্যজীবীদের মধ্যে। ফলে প্রতিকারের আশায় বিভিন্ন সরকারি অফিসে অফিসে ঘুরছে অভিযুক্ত সমিতির ১৪ সদস্য সহ ইজারা পাওয়া সমিতির মৎস্যজীবী সদস্যরা।

###