তালার লাউতাড়া গ্রামে বালাই নাশক ভেজাল ওষুদ তৈরির অভিযোগ


189 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
তালার লাউতাড়া গ্রামে বালাই নাশক ভেজাল ওষুদ তৈরির অভিযোগ
নভেম্বর ২১, ২০২০ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

বি. এম. জুলফিকার রায়হান ::

তালার লাউতাড়া গ্রামে বহু অপকর্মের হোতা জাহাঙ্গীর হোসেন’র বিরুদ্ধে এবার বালাই নাশক ভেজাল ওষুদ তৈরির অভিযোগ উঠেছে। চিহ্নিত প্রতারক জাহাঙ্গীর হোসেন’র তৈরি ওই ওষুদ কেনার পর কৃষকরা কাংখিত ফলাফল না পেয়ে আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
জানাগেছে, কেশবপুর উপজেলার পাজিয়া গ্রামের আব্দুল মজিদ’র ছেলে প্রতারনার কারনে এলাকা থেকে উৎখাত হয়ে বিগত ৫/৬ বছর তালার লাউতাড়া গ্রামে বসবাস করছে। লাউতাড়া উত্তর বিলে নামসর্বস্ব একটি মৎস্য ঘের করে জাহাঙ্গীর ও তার আপন ভাই আলমগীর হোসেন এখন জমজমাট প্রতারনার ব্যবসায় চালাচ্ছে। তাদের দু’ ভায়ের অভিনব সব প্রতারনার শিকার হচ্ছে নিরিহ এবং সহজ-সরল মানুষগুলো।
এলাকার সরদার মশিয়ার, তালার মনিরুল মন্টু সহ একাধিক ব্যক্তি জানান, প্রতারক জাহাঙ্গীর হোসেন লাউতাড়া গ্রামে তার কথিত মাছের ঘেরের বাসায় ঘাঁস সহ ক্ষেতের অবাঞ্চিত উদ্ভিদ নিধনে কৃষকদের প্রয়োগ করার বালাই নাশক ওষুধ তৈরি করছে। বাজার থেকে বালাই নাশক ওষুদ কিনে এনে সেই ওষুধের সাথে পানি সহ অন্যান্য রাসায়নিক মিশিয়ে ভেজাল ওষুধ তৈরি করে তা প্রতিষ্ঠিত ওষুদ কোম্পানির নামে বাজারজাত করছে। এলাকার বিভিন্ন সার ও কীটনাশকের দোকান থেকে কৃষকরা ওই ভেজাল ওষুধ কিনে প্রতারিত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, জাহাঙ্গীর হোসেন ও তার ভাই আলমগীর হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ভেজাল ওষুধ তৈরির পাশাপাশি অভিনব ভাবে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে কোটি টাকার মালামাল হাতিয়ে নিয়েছে। চুরি সহ বিভিন্ন শো-রুম থেকে টিভি, ফ্রিজ, বড় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সার, মাছের খাদ্য ও কীটনাশক সহ মূল্যবান মালামাল প্রতারনার মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তার প্রতারনার শিকার হয়ে শতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান কোটি টাকা হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে। জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে অর্ধশত ভুক্তভোগী প্রতারনার মামলা করলেও কিছুদিন জেল-হাজত বাস করে আদালত থেকে জামিনে এসে সে বহাল তবিয়তে প্রতারনার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এঘটনায় এলাকার সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এবিষয়ে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর হোসেন মুঠো ফোনে বলেন, আমি একটি কোম্পানীর ওষুদ এনে আমার ঘেরের বাসায় রাখি এবং এখান থেকে বিক্রি করি। এছাড়া কোটি টাকার প্রতারনার অভিযোগ’র বিষয় জানতে চাইলে তিনি কোনও উত্তর দিতে না পেরে “দেখা করবেন” বলে জানিয়ে নিউজটা না করার অনুরোধ জানান।
এবিষয়ে তালা উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবীদ হাজিরা খাতুন জানান, লাইসেন্স ছাড়া ওষুধ উৎপাদন করার সুযোগ নেই। তাছাড়া ভেজাল ওষুধ উৎপাদন করার বিষয়ে এই পর্যন্ত কোনও অভিযোগ পাইনি। তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এব্যপারে তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সরদার রফিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি কমবেশি আমি শুনেছি। এবিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তিনি প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন।

#