তালায় অদ্ভুতুড়ে কাহিনীর শিকার একই পরিবারের ৭ সদস্য


2468 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
তালায় অদ্ভুতুড়ে কাহিনীর শিকার একই পরিবারের ৭ সদস্য
মার্চ ৬, ২০১৭ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

বি. এম. জুলফিকার রায়হান, তালা ::
অদ্ভুতুড়ে কাহিনীর শিকার হয়েছে তালার খলিলনগর ইউনিয়নের প্রসাদপুর গ্রামের একই পরিবারের ৭জন সদস্য। ৩দিনের ব্যবধানে পাগল হয়ে যাওয়া পুরুষদের পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখেছে গ্রামের লোকজন। আর ৪জন নারী ও শিশুকে ঘরের মধ্যে আটকে রাখা হয়েছে।

অসুস্থ্য ব্যক্তিদের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা না করিয়ে ৩দিন ধরে গ্রাম্য ওঁঝা-কবিরাজ দিয়ে ঝাঁড়ফুক দেয়া হচ্ছে। এতে দিনদিন অসুস্থ্য হয়ে পড়ছে মানষিক প্রতিবন্ধকতার শিকার (পাগল) নারী, শিশু ও পুরুষরা।

৩দিনের ব্যবধানে একই পরিবারের ৭ জন সদস্য মানষিক রোগীতে পরিনত হওয়ায় এলাকায় ব্যাপকভাবে অদ্ভুতুড়ে সব কাহিনী প্রচার বৃদ্ধি পাচ্ছে। যে কারনে এখন দুর দুরান্ত থেকে উৎসুক জনতা ওই বাড়িতে এসে ভিড় জমাচ্ছে।

সোমবার দুপুরে প্রসাদপুর গ্রামের বিশ্বাস পাড়ার মো. রহমত আলীর বাড়িতে সরজমিন গেলে দেখা যায়, রহমত আলী বিশ্বাসের ৩ ছেলের পায়ে শিকল বেঁধে ঘরের জানালার গ্রিলের সাথে আটকানো। আর গুরুতর অসুস্থ্য এক মহিলা এবং তাঁর শিশু কন্যাকে ঘরের মধ্যে আটকানো। এছাড়া একটু কম অসুস্থ্য শিশু এবং অপর এক মেয়েকে ঘরের বারান্দায় গ্রামের মহিলারা ঘিরে রেখেছে।

এবিষয়ে জানতে চাইলে গ্রামের একাধিক ব্যক্তি জানালের অদ্ভুতুড়ে এক কাহিনী। তাঁরা বলেন, প্রায় ২ বছর পূর্বে হতদরিদ্র রহমতের মেয়ে ফরিদা বেগম পুকুর’র মধ্যে একটি স্বর্নের মূর্তী পায়। আর সেইদিন রাতে ফরিদাকে স্বপ্নের মাধ্যমে স্বর্নের মূর্তী বিক্রি করে অর্ধেক টাকা মন্দির ও মসজিদে দান করতে এবং বাকি অর্ধেক টাকা নিজেদের নেবার জন্য বলা হয়। আর এই আদেশ অমান্য করলে বাড়ির সকলে পাগল হয়ে যাবে বেলও স্বপ্নে বলঅ হয়। কিন্তু ফরিদা বেগম স্বর্নের মূর্তী বিক্রি করে সব টাকা দিয়ে মাঠে জমি ক্রয় করে। এছাড়া পাঁকা বসত ঘর নির্মান সহ অনেক সম্পদ তৈরি করে। এরপর থেকে ফরিদা বেগম অসুস্থ্য হতে শুরু করে। আর গত শনিবার থেকে একে একে বাড়ির মোট ৭জন সদস্য পাগল হয়ে যায়।

অসুস্থ্য ফরিদার মা’ নবীজান বেগম ও ভাই হায়দার আলী বিশ্বাস জানান, প্রায় ৯ বছর পূর্বে ফরিদাকে ঝিনেদাহ জেলার বুয়া ভাটিয়া গ্রামে বিয়ে দেয়া হয়। বিয়ের পর থেকে স্বামী সহ শশুর বাড়ির লোকজন ফরিদার উপর নির্যাতন চালাতো। গত কয়েক মাস ধরে ফরিদাকে পাগল আখ্যায়িত করে তার উপর অমানুষিক নির্যাতন করতো স্বামী।

হায়দার আলী বিশ্বাস জানান, গত ৯/১০দিন আগে ফরিদার স্বামী ফোন করে জানায়, ফরিদা পাগল হয়ে গেছে এবং তাকে নিয়ে যাও। এসময় ঝিনেদাহ থেকে ফরিদা ও তার শিশু কন্যা আয়েশা খাতুনকে প্রসাদপুরে আনার সময় পথিমধ্যে যশোর এলাকায় পৌছলে ফরিদা জানায় তার স্বামী তাকে ওঁঝা-কবিরাজ দিয়ে কুফরী জাদু করে পাগল করে দিয়েছে। তাকে প্রসাদপুরের পিতার বাড়িতে নেয়া হলে বাড়ির সকলে পাগল হয়ে যাবে।

সেই ভাবে গত শনিবার দুপুরে ফরিদার ভাই আব্দুস সবুর বিশ্বাস (২৫), রোববার ভোরে হালিম বিশ্বাস (২৮) দুপুরে গোফুর বিশ্বাস (১৬), সন্দ্যায় ফরিদা বেগমের মেয়ে আয়েশা (৭) পাগল হয়ে যায়। আর সোমবার সকালে ফরিদার বোন সালেহা খাতুন (১৪) পাগলামী শুরু করে। এছাড়া একই দিন দুপুরে বড় বোনের ছেলে মেহেদী হাসান বিশ্বাস (১৩) অসুস্থ্য হয়ে পড়ে তবে তার অবস্থা গুরুতন নয়।

অদ্ভুতুড়ে রোগে আক্রান্তরা বাড়ি-ঘর ওআসবাবপত্র ভাংচুর, চিৎকার চেঁচামেচি, মানুষের উপর হামলা চালানো সহ নানাবিধ অনাকাংখিত ঘটনা ঘটাচ্ছে। যে কারনে ফরিদার ৩ ভাইকে শিকল দিয়ে বেঁধে, ফরিদা ও তার শিশু কন্যাকে ঘরের মধ্যে আটকিয়ে এবং অন্যদের পাহারার মধ্যে রাখা হয়েছে বলে গ্রামবাসী জানিয়েছে।

এদিকে, এলাকার কোনও জনপ্রতিনিধি বা সচেতন মানুষ অসুস্থ্যদের উন্নত চিকিৎসার জন্য কোন ব্যবস্থা করেনি। তাদের হাজরাকাঠি গ্রামের ওঁঝা-কবিরাজ খোকন মৌলভী, জেয়ালা গ্রামের বায়োজিত হোসেন ও কপিলমুনির সাত্তার মাওলানা দিয়ে ঝাঁড়পুক করানো হয়েছে। কিন্তু তাতে কোনও উপকার হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
তবে, রহমত আলী বিশ্বাসের ৩ ছেলে, দুই মেয়ে ও ২ শিশু নাতী-নাতনী এমন অদ্ভুতুড়ে রোগে আক্রান্ত এবং শিকলে বন্ধি থাকার বিষয়টি ভয়েস অব সাতক্ষীরা’র পক্ষ থেকে তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফরিদ হোসেনকে অবহিত করলে, তিনি তৎক্ষনাত তালা থানার ওসি মো. হাসান হাফিজুর রহমানকে সাথে নিয়ে প্রসাদপুর গ্রামে যান।

পরবর্তি অবস্থা আসছে………