তালায় এসএসসি’র ব্যবহারিক শিক্ষার্থীদের কম নম্বর দেয়ার হুমকি দিয়ে টাকা আদায়


368 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
তালায় এসএসসি’র ব্যবহারিক শিক্ষার্থীদের কম নম্বর দেয়ার হুমকি দিয়ে টাকা আদায়
মার্চ ২৩, ২০১৭ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

কামরুজ্জামান মোড়ল  :
তালায় ২০১৭ সালে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে ব্যবহারিক পরীক্ষায় অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে একবার ব্যবহারিক পরীক্ষার ফি নেয়া হলেও আবারো ব্যবহারিক পরীক্ষার ফি দাবি করে নম্বর কম দেয়ার হুমকি দিয়ে বিষয় প্রতি ৫০ টাকা এবং শিক্ষার্থী প্রতি ৪’শ থেকে ৫’শ টাকা আদায় করা হয়েছে।
সরেজমিন পরীক্ষা কেন্দ্র গুলোতে ঘুরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা হলে সকলের অভিযোগ লিখিত পরীক্ষা শেষ না হতেই ব্যবহারিক পরীক্ষার ফি দাবি করছেন বিষয় ভিক্তিক শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকরা । ধার্য্যকৃত ফি না দিলে ব্যবহারিক পরীক্ষায় নম্বর কম দেয়া এমনকি ফেল করিয়ে দেয়ার হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিভাবক মহল ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। যশোর শিক্ষা বোর্ডের নিয়ন্ত্রক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে যারা মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে তাদের ফরম পুরণ করতে শিক্ষার্থী প্রতি সর্বোচ্চ ১’হাজার ৮৯৫ টাকা ফি নির্ধারন করা হয়। এর সাথে বার্ষিক ক্রীড়া মঞ্জুরি ফি ধরা হয়েছে ৩’শ টাকা । এর বাইরে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রতিষ্ঠান প্রধানের বিরুদ্ধে শাস্তি মূলক ব্যবস্থার নেয়ার বিধান রয়েছে। সূত্রটি আরো জানায়, মানবিক বিভাগে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ১ হাজার  ৯’শ ৫ টাকা নির্ধারন করেছে শিক্ষাবোর্ড। আর বিজ্ঞান বিভাগে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য ১ হাজার ৮৯৫ টাকা,অনিয়িমিতদের জন্য ২ হাজার ৯৫ টাকা এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে নিয়মিতদের জন্য ১ হাজার ৮শ ৫ টাকা ও অনিয়মিতদের জন্য ২ হাজার ৫ টাকা নির্ধারন করা হয়েছে। এই হারে ব্যবহারিক পরীক্ষা ও কেন্দ্র ফি সহ সর্বোচ্চ ফি  বলে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে উপজেলা শিক্ষা অফিসের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৬৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চলতি ২০১৭ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি)’র ২ হাজার ৯’শ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয় । এছাড়া সমমান দাখিল পরীক্ষায় ৬শ ৩২জন এবং  কারিগরি বিভাগের ৫টি প্রতিষ্ঠান থেকে ১’শ ২৫ জন অংশ গ্রহন করে ।
তথ্যানুসন্ধান করে বেশ কয়েক জন অভিভাবকও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা হলে সকলের অভিযোগ এসএসসি ব্যবহারিক পরীক্ষায় শিক্ষার্থী প্রতিজনের নিকট থেকে ৩’শ থেকে ৪’শ টাকা আদায় করা হয়েছে। পাটকেলঘাটা আমিরুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক বাবলু রহমান মল্লিকের সঙ্গে কথা হলে প্রতি শিক্ষার্থীর নিকট থেকে ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য কেন্দ্র খরচ জোগাতে ২’শ করে টাকা নেয়া হয়েছে বলে স্বীকার করেন। তবে তিনি অভিযোগ করে বলেন,অন্য স্কুলে বিশেষ করে কুমিরা বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে সবচেয়ে বেশি টাকা আদায় করেছেন। ঐ  বিদ্যালয়ের টাকা আদায়কারী শারিরিক  শিক্ষা বিভাগের শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেনের কাছে টাকা আদায় এবং নম্বর কম দেয়ার অভিযোগ সংক্রান্তে জানতে চাইলে তিনি সত্যতা স্বীকার করে প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে টাকা আদায় করা হয়েছে বলে এ প্রতিনিধিকে জানান। কুমিরা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্র সচিব গৌতম কুমার দাশ বোর্ড খরচ বাবদ প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে যৎসামান্য টাকা নেয়া হয়েছে বলে জানান। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক সূকৃতি কুমার রায়ের সঙ্গে কথা হলে তিনি ব্যবহারিক পরীক্ষার বোর্ড খরচ হিসেবে নিয়েছেন বলে জানান। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: আতিয়ার রহমান জানান, ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য কোন রকম টাকা নেয়া যাবে না । এ বিষয়ে যশোর শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধব চন্দ্র রুদ্্র ব্যবহৃত সেল ফোনে কথা হলে টাকা নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। যদি কোনো স্কুলের শিক্ষক বা কেন্দ্র সচিব ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য কোনো শিক্ষার্থীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে থাকলে বা প্রমাণ পেলে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।