তালায় কপোতাক্ষ নদ থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন : হুমকীর মুখে বেড়ীবাঁধ


442 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
তালায় কপোতাক্ষ নদ থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন : হুমকীর মুখে বেড়ীবাঁধ
মে ১৯, ২০১৬ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

কামরুজ্জামান মোড়ল :
কপোতাক্ষ নদের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন অবৈধভাবে হাজার হাজার ঘনফুট বালু  উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে করে সরকারের ২শত ৮৬ কোটি টাকা ব্যায়ে কপোতাক্ষ নদের জলবদ্ধতা দূরীকরন প্রকল্পের (১ম পর্যায়) আওতায় ২ধারের নির্মিত ভেড়ীবাধ হুমকীর মূখে পড়েছে। তালা উপজেলা প্রশাসন বলেছে কপোতাক্ষ নদের কোনো স্থান থেকে কাউকে বালু তোলার অনুমোদন দেওয়া হয় নি। অবৈধভাবে এই বালু উত্তলোন করে আসছেন পাটকেলঘাটা বাজারের ক্ষাদ্য শস্য চুরাই সিন্টিগেটের অন্যতম হুতা পারকুমিরা গ্রামের মৃত খগেন্দ্র নাথের পুত্র বালু দস্যু (বালু খেকো) সুকুমার ঘোষ। তার বিরুদ্ধে গত বছর থেকে পাটকেলঘাটা ও তালার নদ অববাহিকার বিভিন্ন স্থানে মেশিন স্থাপন করে লাক্ষ লাক্ষ ঘনফুট বালু উত্তলোন করে অর্ধকোটি টাকা মুনাফা লুটে নিয়েছে। গতকাল বিকাল ৪টা ২৮ মিনিট সময় কপোতাক্ষ নদের কাটাখালী গ্রাম সংলগ্ন এলাকার নদের মাঝখানে মেশিন (বোমা) স্থাপন করে অবৈধ বালু তোলা অব্যাহত রেখেছে। খোজ খবর নিয়ে জানা গেছে ঐ বালু দস্যু দুটি বোমা মেশিন স্থাপন করে প্রতিদিন ২৫-৩০ হাজার ঘনফুট  বালু উত্তলোন করে আসছেন। আর এসব বালু স্থানিয় ঠিকাদার কল্যান বসু সহ বেস কয়েক জনের সাথে চুক্তি করে প্রতি ঘনফুট বালু ৭টাকা হারে বিক্রি করে কয়েক লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। দীর্ঘ দিনের বালু দস্যু কর্মকান্ডে নদ অববাহিতায় বসবাস রত অসহায় গ্রামবাসি প্রতিবাদ করেও কোনো কাজে আসছে না। কপোতাক্ষ তির বর্তি লাখ লাখ মানুষ দস্যুর আগ্রাসনের শিকার হয়ে আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই জলবদ্ধতার আতংঙ্ক আর হতাশায় পড়েছেন। এ বালু দস্যুর প্রতাপের উৎস প্রভাবশালী ঠিকাদার এবং ক্ষমতাশীন দলের বেপরয়া হয়ে উঠেছেন। নদ অববাহিকার বিশাল জনগোষ্টির দূর্ভোগ লাঘবে সরকারের বিশাল প্রকল্প এবং মানব দূর্ভোগ থেকে পরোয়ানা না করে সারা বছর ধরে নদের তলদেশ থেকে মেশিন দ্বারা লাখ লাখ ঘনফুট বালু উত্তলোন অব্যহত রেখেছেন। বর্ষ মৌসুমের আগেই ভেড়ী বাধ দেবে জলবদ্ধতার পরিস্থিতি চরম আকার ধারন করতে পারে। ভুক্তভোগীদের দাবী জেলা-উপজেলা প্রশাসন অনতি বিলম্বে ভ্রামমান আদালতের মাধ্যমে বালুদস্যুদের জেল জরিমানার ব্যবস্থা রেখে বালু তোলা বন্ধ করতে হবে। অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে বালু খেকো সুকুমার দীর্ঘদিন যাবৎ কপোতাক্ষ নদের বিভিন্ন এলাকা থেকে বালু উত্তলোন করে থাকে। উপজেলার মাগুরা বাজারের প্রায় ২একরের কলেজ মাঠে বালু উত্তলোন করে দশ লক্ষ টাকার ব্যবসা করেছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে কপোতাক্ষ থেকে উত্তলোন করা বলু আড়ৎ তৈরি করে বিক্রি অব্যহত রেখেছে। অপর দিকে তালা ব্রিজের পূর্বপাশে জাহাঙ্গীর নামের এক ব্যক্তি একই ভাবে বালু উত্তলোন করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সহ বিভিন্ন ব্যক্তিদের কাছে বিক্রি করছে। নির্মান বা ব্যবসায়ী সার্থে বালুর প্রয়োজন। কিন্তু এর জন্য বালু মহল ও নিতি মালা রয়েছে। জেলা উপজেলা প্রশাসন সতর্কতার সাথে নদের ২ধারে ভেড়ীবাধ সুরক্ষার মাধ্যমে অববাহিকার ১০ লক্ষ মানুষের জ্বলবদ্ধতার কবল থেকে রক্ষা করবেন। নদের তলদেশ থেকে এভাবে বালু উত্তলোন অব্যহত থাকলে ভেড়ীবাধ দেবে বর্ষা মৌসুমে আবারও জ্বলবদ্ধতার শিকার হয়ে গৃহহীন হতে অববাহিকার বসবাসরত মানুষের। এ বিষয়ে বালু দস্যু সুকুমার ঘোষের সাথে যোগাযোগ করা হলে কিতি সাংবাদিককে ধামকিয়ে বলেন, বালু উত্তলোন অব্যহত থাকবে কেউ পারলে কিছু করে নেবে, তাতে তার কিছুই আসে না। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আবুল কাসেম মহিউদ্দীন জানান ইতিমধ্যে এ খবর তিনি শুনেছেন। সুকুমার ঘোষ সহ বালু উত্তলোনের সাথে যে সমস্ত বালু দস্যু (বালু খেকো) জড়িত আছে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা করা হবে।