করোনায় খাদ্য সংকট রোধে তালায় গ্রাম ভিত্তিক “ফুড ব্যাংক” স্থাপিত


251 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
করোনায় খাদ্য সংকট রোধে তালায় গ্রাম ভিত্তিক “ফুড ব্যাংক” স্থাপিত
জুলাই ২৯, ২০২০ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

উত্তরণ ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ

বি. এম জুলফিকার রায়হান ::

করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) এর খাদ্য সংকট মোকাবেলায় মহতী উদ্যোগ গ্রহণ করে অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে স্থানীয় জনগণ। বে-সরকারী সংস্থা উত্তরণ’র সহযোগিতায়, তালা উপজেলার ৬টি ও পাশর্^বর্তী কেশবপুরের ১টি গ্রামের জনগণ নিজ উদ্যোগে আপদকালীন খাদ্য ভান্ডার (ফুড ব্যাংক) গড়ে তুলে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
তালা উপজেলার জাতপুর গ্রামের হেদায়েত উল্লাহ মুকুল, তামজীদ বিশ^াস, গোপালপুরের তীর্থ কুমার দে, ডাংগানলতা গ্রামের কামাল হোসেনসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, করোনা ভাইরাসের এই ভয়াবহ সময়ে বিশেষ করে দরিদ্র মানুষদের খাদ্য সংকট দূর করতে প্রাথমিকভাবে ৭টি গ্রাম ও দু’টি শহরকে মডেল হিসেবে নিয়ে একটি কর্মকৌশল গঠন করা হয়। গ্রামের উৎসাহী যুবকদের নিয়ে এজন্য শক্তিশালী একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি গ্রামবাসীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা, ক্ষুধা নিবারণ ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রচার-প্রচারণা চালাবে। এছাড়া আপদকালীন সময়ের জন্য খাদ্য সংগ্রহ, মজুদ করা ও খাদ্য সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়া দরিদ্র পরিবারগুলোর মাঝে খাদ্য সরবারহ সহ স্বাস্থ্য সামগ্রী বিতরণ করবে এই কমিটি।

কমিটির উপদেষ্টা তালা শহরের অচিন্ত্য সাহা, শেখ শফিকুল ইসলাম জানান, করোনার প্রাদূর্ভাব মোকাবেলায় গ্রামবাসী নিজেদের উপলদ্ধি থেকে সংগঠিত হয়ে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই লক্ষ্যে গ্রামের সাহসী যুব সমাজকে নিয়ে যুব কমিটি এবং অভিজ্ঞ-প্রজ্ঞাবান বয়স্ক ব্যক্তিদের নিয়ে উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হয়েছে। এই উভয় কমিটির সদস্যরা উত্তরণ’র সাথে আলোচনা সাপেক্ষে স্ব-স্ব গ্রামের জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং গ্রামের হতদরিদ্র ও কর্মহীন মানুষরাা যাতে খাদ্য সংকটের সম্মূখীন না হয় তার জন্য নীতিমালা প্রণয়ন করে। চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে শুরু হওয়া উক্ত কার্যক্রমে এ পর্যন্ত ৭টি গ্রামের প্রায় ৮ হাজার ৭ শত ৫০ জনগণকে স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক কার্যক্রমের আওতায় আনা হয়। এছাড়া, হতদরিদ্র কর্মহীন প্রতিবেশীরা যাতে খাদ্য সংকটের মুখোমুখী না হয় তার জন্য গ্রাম কমিটির উদ্যোগে স্ব-স্ব গ্রামের স্বচ্ছল ব্যক্তিদের কাছ থেকে খাদ্য ও অর্থ সংগ্রহ করে আপদকালীন গণ-খাদ্য ভান্ডার গড়ে তুলেছে। প্রতিটি খাদ্য ভান্ডারে বে-সরকারি সংস্থা উত্তরণ খাদ্য ক্রয়ের জন্য ৫০ হাজার টাকা নগদ প্রদান করেছে। এই গণখাদ্যভান্ডারগুলো থেকে ইতিমধ্যে হতদরিদ্র ও কর্মহীন ২৭৭টি পরিবারের মধ্যে পরিবার প্রতি ১০-২০ কেজি চাল, ২-৪ কেজি ডালসহ কিছু কিছু গ্রামে ১ লিটার সোয়াবিন তেল ইতোমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।
এ কার্যক্রমে উপকারভোগী জাতপুর গ্রামের স্বামীহারা মাছুরা বেগম বলেন, “আমি একজন দুঃস্থ মানুষ। গ্রাম কমিটি থেকে খাবার পেয়ে আমি খুব খুশী। আমি জানি পর পর ৩/৪ মাস আমাকে খাবার দেয়া হবে। কমিটি যদি খাবার না দিত তাহলে মাঝে মাঝে আমাদের না খেয়ে থাকতে হতো।”
এই কার্যক্রমে উত্তরণ’র সমন্বয়ক জাহিদ আমিন শ^াশত বলেন, “আমাদের গ্রামীণ সমাজ ব্যবস্থা অত্যন্ত শক্তিশালী। পূর্বে গ্রামীণ সমাজ যখন বিভিন্ন ধরনের সংকটের সম্মুখীন হয়েছে তখন গ্রামবাসীরা পরস্পর সহযোগিতার মাধ্যমে সংকট মোকাবেলা করেছে। আমি বিশ^াস করি, করোনাকালীন এই মহাদুর্যোগের সময়ে প্রতি গ্রামের জনগণ যদি ঐক্যবদ্ধ হয়ে করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করে তাহলে বাংলাদেশের সকল গ্রাম তথা আমাদের প্রিয় দেশ একদিন অবশ্যই করোনা মুক্ত হবে।”
এব্যপারে স্থানীয় জনগণের মহতী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইকবাল হোসেন বলেন, সরকারের একার পক্ষে সকলকে সহযোগিতা করা সম্ভব হয়ে ওঠেনা। গ্রাম ভিত্তিক গড়ে তোলা এ কার্যক্রম থেকে স্থানীয় মানুষ অবশ্যই উপকৃত হবে।

#