তালায় কর্মসৃজন প্রকল্পে শ্রমিকদের মজুরি না দেওয়ায় তুলকালাম কান্ড


362 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
তালায় কর্মসৃজন প্রকল্পে শ্রমিকদের মজুরি না দেওয়ায় তুলকালাম কান্ড
আগস্ট ১৯, ২০১৮ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

 

* হতদরিদ্রদের কর্মসৃজন প্রকল্পের টাকা দিতে দেড় লাখ টাকা ঘুষ দাবি

* চরম হট্টগোল

বিশেষ প্রতিনিধি :
হতদরিদ্রদের জন্য কর্মসৃজন প্রকল্পে শ্রমিকদের মজুরি না দেওয়ায় তুলকালাম কান্ড ঘটে গেছে। রোববার তালা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে প্রকল্প কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শ্রমিক ও ইউপি সদস্যদের তোপের মুখে পড়েন। শেষ পর্যন্ত সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হলেও শ্রমিকদের প্রাপ্য টাকা এখনও পরিশোধ হয়নি।

জানা গেছে, গত চার মাস যাবত তালার নগরঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের আওতায় হতদরিদ্রদের কর্মসৃজন প্রকল্পের ২৩৮ শ্রমিক তাদের শ্রম বাবদ প্রাপ্য প্রায় ১৬ লাখ টাকার তাগিদ দিয়ে আসছিলেন। এই টাকা না দেওয়ায় শ্রমিকরা হতাশ হয়ে পড়েন। এরই মধ্যে কাজ হয়েছে কি হয়নি তা দুই দফায় তদন্তও করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এদিকে আজ রোববার নগরঘাটা ইউনিয়নের ছয়জন সদস্য শ্রমিকদের পক্ষে টাকার ব্যাপারে খোঁজখবর নিতে তালার সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে যান। সেখানে উপস্থিত প্রকল্প কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান তাদের কাছে সরাসরি দেড় লাখ টাকা ঘুষ দাবি করে বলেন‘এই টাকা এখনই দিলে শ্রমিকদের ব্যাংক হিসাবে প্রাপ্য টাকা পৌঁছে যাবে’।

প্রকল্প কর্মকর্তার ঘুষ দাবির এ ঘটনায় বিরক্ত হয়ে হই হট্টগোল শুরু হয়। এক পর্যায় শ্রমিকরা উত্তেজিত হলে এসি ল্যান্ড ও পিআইও দুজনই বাথরুমের ভিতর গিয়ে পালান। প্রায় আধা ঘন্টা ওই দুই কর্মকর্তা বাথরুমের ভিতরেই অবরুদ্ধ ছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়।

বিষয়টি জানার পরপরি সমস্যা সমাধানের জন্য শ্রমিক ও ইউপি সদস্যদের ডেকে পাঠান তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার। এরই মধ্যে সেখানে উপস্থিত হন তালা-কলারোয়া আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ।

নগরঘাটা ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান লিপু ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে জানান, বিষয়টি নিয়ে তীর্যক বাক্য ছোড়াছুড়ি চলতে থাকে। ইউপি সদস্য এবং বেশ কিছু শ্রমিক তখন প্রকল্প কর্মকর্তা মাহফুজ ও এসি ল্যান্ড অনিমেষ কুমারের ওপর চড়াও হয়ে মারমুখী হয়ে ওঠেন। এক পর্যায়ে সংসদ সদস্য ও ইউএনওর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে। অবশেষে জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী সোমবার টাকা পরিশোধ করা হবে এমন আশ্বাসের ভিত্তিতে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

এ বিষয় জানতে তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাজিয়া আফরিনের কাছে টেলিফোন করা হলে তিনি ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে বলেন, বিষয়টি পত্রিকায় দেওয়ার মত নয়। যা কিছু ঘটেছে আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধান হয়েছে। কিছু কথা কাটাকাটি হয়েছে মাত্র। তবে তার অফিসের প্রকল্প কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান দেড় লাখ টাকা ঘুষ চেয়েছেন কিনা তা তিনি জানেন না বলে উল্লেখ করেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘুষ চাওয়া ও দুর্নীতির বিষয় এড়িয়ে ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে বলেন, আমরা কাজের বাস্তবায়নের তদন্ত করতে গিয়েছিলাম। এতেই খোদ এমপি ও তার দলবল ক্ষুব্ধ হয়েছেন। এরপর যা ঘটেছে তা আর আমি বলতে পারছি না। বিষয়টি ইউএনও স্যারের কাছে জিজ্ঞাসা করতে পারেন। দেখেন তিনি কী বলেন।

এদিকে প্রকল্প কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমানের নম্বরে বারবার ফোন করা হলে তিনি তা রিসিভ করেননি। পরে কয়েকবার ফোন লাইনটি কেটেও দেন।

এ প্রসঙ্গে অভিযোগ করে ধানদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ জাহাঙ্গীর ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে বলেন, কর্মসৃজন প্রকল্পের জন্য পিআইও মাহফুজুর রহমান তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ আদায় করেছেন। তিনি তদন্তের নামে কালক্ষেপন করে এভাবেই বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে ঘুষের টাকা আদায় করছেন।

এ ব্যাপারে তালা-কলারোয়ার সংসদ সদস্য অ্যাড: মুস্তফা লুৎফুল্লাহ’র কাছে বিষয়টি জানার জন্য সন্ধ্যা থেকে একাধিক বার ( সর্বশেষ রাত ১১ টা পর্যন্ত ) যোগাযোগ করা হলে তার মোবাইল নম্বর বন্ধ ছিল।