তালায় খেঁজুর গাছের রস সংগ্রহে ব্যস্ত গাছিরা


181 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
তালায় খেঁজুর গাছের রস সংগ্রহে ব্যস্ত গাছিরা
নভেম্বর ১, ২০১৯ ইতিহাস ঐতিহ্য তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

॥ অমিত কুমার ॥

হেমন্তের ফসল ভরা মাঠ। গ্রাম-বাংলার আদিগন্ত মাঠে এখন চির সবুজের বুকে সোনালী রঙের আল্পনা। উত্তরের ঝিরি ঝিরি বাতাসে সোনালী ধানের শীষে দোল খাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন। শীতকালীন সবজিতে ভরে উঠছে মাঠের পর মাঠ। এমনই স্বপ্নের আলোয় দ্যুতি ছড়িয়ে হিমেল হাওয়ায় চাদর মুড়ি দিয়ে প্রকৃতির রঙ্গমঞ্চে উকি দিচ্ছে শীত।
শীতের আগমনী বার্তায় তালায় খেঁজুর গাছের রস সংগ্রহের লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছেন ‘খেঁজুর গাছের গাছিরা’। খেঁজুর গাছ প্রস্তুত করতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গাছের পাতা ঝেড়ে উপরিভাগের অংশে চাচ বা কাটতে দেখা গেছে গাছিদের। খেঁজুর গাছ থেকে রস আহরণের জন্য কোমড়ে দড়া বেঁধে দা দিয়ে নিপুণ হাতে প্রথম ধাপের কর্মযজ্ঞতা করতে দেখা গেছে। কয়েক বছর আগেও উপজেলাব্যাপী সারি সারি খেঁজুর গাছ থাকলেও কালের বিবর্তনে ও ইটভাটার আধিক্যতায় ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেছে খেঁজুর গাছ। তবে এখনো যে গাছগুলো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে সেই গাছের মালিকরা তাদের গাছ প্রস্তুত করতে শরণাপন্ন হচ্ছেন গাছিদের।
গাছিরা জানান, ‘খেঁজুরের রস সংগ্রহের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে গাছের পাতা ঝোড়ার (পাতা কাটা) কাজ শুরু করেছেন তারা। কয়েক ধাপে গাছের উপরিভাগে চাচ দেয়ার পর রস আসতে শুরু করবে। চাঁচ দেয়ার সেই স্থানে অল্পপরিমাণে নিয়মিত কাটার ফলে রস পাওয়া যায়।’
তারা আরো বলেন, ‘তবে আগের মতো গাছ নেই। যেসব গাছ আছে সেগুলোতে তেমন রসও নেই। যেটুকু রস ও পরবর্তীতে রস থেকে গুড় পাওয়া যাবে আগামি কয়েক বছর পর হয়তো সেটাও দেখা মিলবে না। খেঁজুরের রস ও গুড় দিয়ে তৈরি করা হয় হরেক রকমের পিঠা ও পায়েস।’
তালা উপজেলা কৃষি অফিসের এক কর্মকতা জানান, ‘উপজেলায় কত পরিমাণ খেঁজুর গাছ আছে বা ছিলো তার পরিসংখ্যান বলা মুশকিল। তবে এটা নিশ্চিত যে, দিন দিন খেঁজুর গাছ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।’
সবমিলিয়ে প্রতিবছর শীত মৌসুমে খেঁজুর গাছের রস, গুর, পাটালির চাহিদা টিকমতোই থাকে। তবে গাছ হ্রাস পাওয়ায় দাম থাকে চড়া। তবু এর স্বাদ নিতে ভুল করেন না অনেকে।