তালায় গৃহবধু হত্যা মামলা : স্বামী ও দেবরের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি


202 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
তালায় গৃহবধু হত্যা মামলা : স্বামী ও দেবরের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি
জানুয়ারি ৭, ২০২২ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

আসাদুজ্জামান ::

সাতক্ষীরার তালায় যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন করে গৃহবধূ শিখা রানী নামে দু’ সন্তানের এক জননীকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত স্বামী, দেবর ও শ্বশুরকে শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। এদিকে, নিহতের স্বামী গ্রেপ্তারকৃত গোবিন্দ ঋষি ও তার ভাই মান্দার ঋষি শিখা হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বিচারিক হাকিম মোঃ সালাউদ্দিনের কাছে ১৬৪ ধরায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার ভোরে গোপন সংবাদে ভিত্তিতে র‌্যাব সাতক্ষীরা ক্যাম্পের একটি টিম আসামীদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা থানার বলফিল্ড মোড় এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, তালা সদর ইউনিয়নের আটারই গ্রামের নিহতের স্বামী গোবিন্দ ঋষি (৩০), বাবা অনিল ঋষি (৬০) ও তার ভাই মান্দার ঋষি (২০)।
জানা যায়, গত ৫ বছর পূর্বে তালা উপজেলার আমানুল্যাহপুর গ্রামের সূর্যকান্ত ঋষির কন্যা শিখা রানী দাসের সাথে তালা সদরের আটারই গ্রামের অনিল দাসের পুত্র গোবিন্দ দাসের বিয়ে হয়। বর্তমানে তাদের দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই গোবিন্দ ঋষি যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে প্রায়ই মারপিট করতো। বিভিন্ন সময় স্থানীয়ভাবে শালিশী বৈঠক হলেও কোন সমাধান হয়নি। একপর্যায়ে গত ১ জানুয়ারী স্বামী গোবিন্দ ঋষিসহ তার পরিবারের লোকজন তার স্ত্রীকে মারপিট করে মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর গলায় রশ্নি দিয়ে ঝুঁলিয়ে দিয়ে আতœহত্যা বলে প্রচার দেয়। এরপর তারা বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় ভিকটিমের বাবা সূর্যকান্ত ঋষি বাদী হয়ে আসামীদের বিরুদ্ধে তালা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এদিকে, নিহতের তিন বছরের কন্যা জয়ন্তী ও সাড়ে তিন মাস বয়সের প্রিয়ন্তি বর্তমানে তাদের নানা পাটকেলঘাটা থানার ছোট কাশীপুর ঋষিপাড়ার পরিতোষ দাসের বাড়িতে রয়েছে।
নিহতের মা পুষ্প রানী ঋষি বলেন, বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে জামাতা গোবিন্দ ও তার পরিবারের সদস্যরা মেয়ে শিখার উপর নির্যাতন করতো। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে মেয়ে সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ১৪৪/১৯ নং পিটিশন মামলাও করেন। ২০১৯ সালের ৩০ মে কুমিরা ইউপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে আপোষনামা করে শিখাকে সেখান থেকে বাড়িতে নিয়ে যায় গোবিন্দ। সেখান থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শিখাকে বাপের বাড়িতে আসতে দেওয়া হয়নি। মৃত্যুর ছয় মাস আগে শিখার বড় জ্যাঠামহাশয় মারা গেলেও বার বার অনুরোধ করে হাতে পায়ে ধরেও শিখাকে আসতে দেওয়া হয়নি বাপের বাড়িতে।
কথা বলার একপর্যায়ে পাগলপ্রায় পুষ্পরানী রিশি বলেন, মেয়ের শ্বশুরবাড়ির দাবিকৃত যৌতুকের টাকা দিতে তার স্বামী সূর্যকান্ত রিশি শেষ সম্বল বসতভিটাটুকু একই পাড়ার রবিন রিশির কাছে গতবছরের ৪ ডিসেম্বর বিক্রির জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়ে ৬৫ হাজার টাকা নিয়ে জামাই গোবিন্দকে দেয়ার পরও চারদিন না খাইয়ে রেখে শিখাকে নির্যাতন করে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। অথচ গলায় কাপড় বেঁধে আত্মহত্যা করেছে মর্মে প্রচার দিয়েছে।
সূর্যকান্ত ঋষির ভাইপো সঞ্জয় ঋষি বলেন, আসামীদের কাছ থেকে পুলিশ মোটা অংকের আর্থিক সুবিধা নিয়ে প্রথমে মামলা নিতে চায়নি। পরে মামলা হলেও র‌্যাব সদসরা গোবিন্দ ঋষির খালাতো ভাই সুজন শাহ গ্রামের পলাশ ঋষির মোবাইল ফোন ট্যাক করে তার সহায়তায় বৃহষ্পতিবার ভোরে পাটকেলঘাটা বলফিল্ড এলকা থেকে গোবিন্দ, তার ভাই মান্দার ও তাদের বাবা অনিল ঋষিকে আটক করে। অথচ গত পহেলা জানুয়ারি শিখা মারা গেলেও গত ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা চন্দন কুমার মন্ডল আসামী গ্রেপ্তারে কোন ভূমিকা রাখেনি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু জিহাদ ফকরুল আলম খাঁন টাকা নিয়ে মামলা নিতে না চাওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, গোবিন্দ ঋষি ও মান্দার ঋষি গৃহবধু শিখা রানী হত্যা মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত তাকার কথা স্বীকার করে শুক্রবার বিকেলে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত আলামত জব্দ করা হয়েছে। নিহত শিখার বাবা ও মা অভাবের তাড়নায় তিন বছরের জয়ন্তী ও সাড়ে তিন মাস বয়সের প্রিয়ন্তিকে নিতে রাজী না হওয়ায় গোবিন্দ ঋষির নানা পাটকেলঘাটা থানাধীন ছোট কাশীপুর ঋষিপাড়ার পরিতোষ দাস নিয়ে গেছেন।

#