তালায় ঘুষের টাকা ফেরৎ চাওয়ায় মেম্বরের পিটুনিতে মহিলা আহত !


579 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
তালায় ঘুষের টাকা ফেরৎ চাওয়ায় মেম্বরের পিটুনিতে মহিলা আহত !
অক্টোবর ১, ২০১৯ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

বি. এম. জুলফিকার রায়হান, তালা :
ঘুষের টাকা ফেরৎ চাওয়ায় তালা সদর ইউপি সদস্য’র নির্মম পিটুনিতে গুরুতর আহত হয়েছে শিরিনা বেগম (৩০) নামের এক হতদরিদ্র মহিলা। টিউবওয়েল বা ঘুষের টাকা ফেরৎ না পেয়ে ইউপি সদস্য মীর কল্লোল’র বিরুদ্ধে গত ২৪ সেপ্টেম্বর তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট অভিযোগ করে শিরিনা। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে মীর কল্লোল শিরিনা বেগমকে পিটিয়ে জখম করেছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মীর কল্লোল অসহায় শিরিনাকে তার নিজ বাড়িতে ধরে নিয়ে যায় এবং সেখানে বেধড়ক মারপিট করে। এসময় এলাকার মানুষ আহত শিরিনাকে উদ্ধার করে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মীর সামসুজ্জোহা আকবর কল্লোল তালা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এবং তালা উপশহরের মীর বাবলুর রহমান মাষ্টারের ছেলে। মীর কল্লোল নির্বাচিত ইউপি সদস্য হলেও সে নিজেকে তালার মেয়র পরিচয় দিয়ে আসছে।

হতদরিদ্র শিরিনা বেগম জানান, তাদের বাড়িতে টিউবওয়েল না থাকায় তার মা অলিমা বেগম একটি সরকারি টিউবওয়েল পাবার জন্য মীর কল্লোল মেম্বরের কাছে যায়। সেসময় মেম্বর সরকারি টিউওয়েল দেওয়ার কথা বলে দুই হাজার ৬০০ টাকা নেয়। দীর্ঘ দুই বছর পার হলেও মেম্বর কোনো টিউওয়েল দেয়নি। যেকারনে অলিমা বেগম ও তার মেয়ে শিরিনা বেগম বিভিন্ন সময় কল্লোল মেম্বরের কাছে সেই টাকা ফরৎ চায়। কিন্তু কল্লোল মেম্বর টাকা বা টিউবওয়েল না দেয়ায় বিষয়টি নিয়ে অলিমা বেগম তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে গত ২৪ সেপ্টেম্বর একটি অভিযোগ দেন। এরপরই ক্ষিপ্ত হয় মেম্বার কল্লোল। একপর্যায়ে মেম্বারের বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগ তুলে নিতে অলিমা বেগমের মেয়ে শিরিনাকে হুমকি দেয়। এরপরও শিরিনা বেগম মেম্বারের নামে দেওয়া অভিযোগ তুলে না নেয়ায় তাকে মারপিট করে জখম করেছে বলে অভিযোগ করেন শিরিনা।

তবে শিরিনাকে পেটানোর বিষয়টি অস্বীকার করে ইউপি সদস্য মীর সামসুজ্জোহা আকবর কল্লোল বলেন, রাস্তা থেকে শিরিনার হাত ধরে বাড়িতে নিয়ে এসেছিলাম। তাদর কাছ থেকে কোনো টাকা নেয়া বা তাকে মারার প্রশ্নই ওঠে না। একটি মহল আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।

এ ব্যপারে তালা সদর ইউনিয়ন পরিষদ’র চেয়ারম্যান সরদার জাকির হোসেন জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে আমি তালার বাইরে আছি। এসেই আমি শিরিনাকে দেখতে যাবে। ঘটনার সত্যতা পেলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইকবাল হোসেন শিরিনার মায়ের দেয়া অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।