তালায় চাঁদাবাজদের হুমকিতে ঘের মালিক আতংকিত


231 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
তালায় চাঁদাবাজদের হুমকিতে ঘের মালিক আতংকিত
সেপ্টেম্বর ২, ২০২০ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

বি. এম জুলফিকার রায়হান ::

চাঁদার দাবীতে তালার উত্তর বারাত বিল মৎস্য ঘের মালিককে দফায় দফায় হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চাঁদাবাজদের ১লক্ষ টাকা চাঁদা দেয়ার পরও বাকি ৫লক্ষ টাকা চাঁদা না দিলে ঘের লুটপাট সহ খুন’র হুমকি দেয়ায় ঘের মালিক মিজানুর রহমান বাবলু আত্মগোপনে রয়েছেন। এঘটনার পর থেকে ১হাজার ৪শত বিঘা আয়তনের মৎস্য ঘেরের কর্মচারী এবং উপকারভোগী জমি মালিকরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। চাঁদাবাজদের অপতৎপরতায় এলাকার সাধারন মানুষ’র মাঝে ক্ষোভ ও আতংক বিরাজ করছে।
জানাগেছে, ৫টি গ্রামের ১ হাজার ৪শ বিঘা জমি নিয়ে উপজেলার উত্তর বারাত বিল অবস্থিত। বর্ষার পানি নিস্কাসন ব্যবস্থা না থাকায় বছরজুড়ে এই বিল জলাবদ্ধ থাকায় জমি মালিকরা আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হতো। একপর্যায়ে, বিলের জমি মালিকদের সাথে চুক্তি করে কেশবপুর উপজেলার বুড়ুলিয়া গ্রামের মিজানুর রহমান বাবলু এখানে পরিকল্পিত ভাবে মাছ চাষ শুরু করেন। চুক্তি মোতাবেক বোরো মৌসুমের আগেই জলাবদ্ধতার পানি সেচ দিয়ে নিস্কাশন করে দেয়ায় বিলে এখন বোরো চাষাবাদ হচ্ছে। এরফলে বিলের ৭৩৫জন জমি মালিক ধান চাষ’র সুযোগ সহ ১৪শ বিঘা জমির বিপরীতে প্রতি বছর ১ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা হারি পেয়ে অধিক লাভবান হচ্ছেন। এছাড়া মাছ ও বোরা ধান চাষকালে এলাকার দরিদ্র কৃষি শ্রমিকরা কাজ করে আর্থিক ভাবে উপকৃত হচ্ছে।
ঘেরের ম্যানেজার আয়ুব আলী অভিযোগ করে বলেন, জনবান্ধব এই ঘেরের মালিকের কাছে সহ তার কাছে বারাত গ্রামের ইনছাপ আলী সরদারের ছেলে লালন সরদার ও কাজিডাঙ্গা গ্রামের মৃত. আমীর আলীর ছেলে মিজানুর রহমান শেখ দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা দাবী করছে। তাদের ৬ লক্ষ টাকা চাঁদা না দিলে ঘের লুটপাট সহ খুন করার হুমকি দিলে একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে ১ লক্ষ টাকা চাঁদা দেয়া হয়। বিগত মাসের ১৫ তারিখে বাকি ৫ লক্ষ টাকা চাঁদার দাবীতে আবারো হুমকি দিলে ঘের মালিক মিজানুর রহমান আতংকিত হয়ে এলাকা থেকে সরে যান। একপর্যায়ে চাঁদার বাকি টাকা না পেয়ে লালন ও মিজানুর রহমান সহ তাদের বাহিনীর চাঁদাবাজরা গত ১৮ আগস্ট গভীর রাতে ঘেরে তান্ডব ও লুটপাট চালায়।
এবিষয়ে উপজেলার বারাত গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সোবহান মাস্টার বলেন, চাঁদার বাকি টাকা না পেয়ে উক্ত মৎস্য ঘেরে লুটপাট করাকালে গ্রামের লোকজন এগিয়ে এসে লালন ও মিজানকে লুটকরা মাছসহ হাতেনাতে আটক করে। এনিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে আমরা বিষয়টির মিমাংসার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছি। বর্তমানে উক্ত চাঁদাবাজ লালন সহ তার লোকজন ঘের মালিককে নানান হুমকি দিচ্ছে জানিয়ে বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাড. কেসমোত আলী বলেন, চাঁদাবাজদের হুমকির কারনে ঘের মালিক এলাকা ছেড়ে চলে গেলে বিলের জমি মালিকরা সহ এলাকার দরিদ্র মানুষগুলো আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে। একারনে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য তিনি প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

#