তালায় জলবদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি । কপোতাক্ষের বেড়িবাঁধ একাধিক স্থান ঝুঁকিপূর্ন । জেলা প্রশাসকের দুর্গত এলাকা পরিদর্শন


453 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
তালায় জলবদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি । কপোতাক্ষের বেড়িবাঁধ একাধিক স্থান ঝুঁকিপূর্ন ।  জেলা প্রশাসকের দুর্গত এলাকা পরিদর্শন
আগস্ট ২, ২০১৫ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

বি. এম. জুলফিকার রায়হান, তালা প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার জলাবদ্ধতার পরিস্থির দিন দিন অবনতি হচ্ছে। টানা বর্ষা  থাকায় কপোতাক্ষ নদের একাধিক স্থানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ঝুকিপূর্ন হয়ে পড়েছে। জলাবদ্ধতার সাথে দীর্ঘদিন যুদ্ধ করে হেরে যাওয়া মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিচ্ছে। রোববার দুর্যোগ  মোকাবেলায় তালায় ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক  নাজমুল আহসান রোববার বিকালে জলাবদ্ধ এলাকা পরিদর্শনে আসেন।
স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক দিনের টানা বর্ষনের কারণে কপোতাক্ষ নদ দিয়ে পানি নিস্কাশিত হতে না পেরে তালায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। রোববার আরও নতুন নতুন এলাকা প্লবিত হয়েছে। তালা উপজেলার শতাধিক গ্রামের প্রায় ২ লক্ষ মানুষ পানিবন্ধি হয়ে পড়েছে। জলাবদ্ধ এলাকায় মৎস্য ও কৃষিতে কোটি কোটি টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। ভেঙ্গে পড়েছে ব্যবসা-বানিজ্যসহ স্যানিটেশন ও শিক্ষা ব্যবস্থা। অনেক এলাকায় রাস্তার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচিছন্ন হয়ে পড়েছে। এলাকায় খাবার পানি সংকট ও পানি বাহিত রোগ দেখা দিচ্ছে। পানিবন্ধি দরিদ্র মানুষ’র কাজ কর্ম না থাকায় তাদের মধ্যে মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। টানা বর্ষায় জন-জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার জন্য শনিবার থেকে তালা উপজেলার প্রায় অর্ধশত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং মাদ্রাসাসহ কলেজ বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। এদিকে, কপোতাক্ষ নদের একাধিক স্থানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ধসে যাওয়াসহ নতুন করে একাধিক স্থান ঝুকিপূর্ন হয়ে পড়ায় আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। খেশরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এস.এম. লিয়াকত হোসেন জানান, শনিবার কপোতাক্ষ নদের পানির চাঁপে খেশরা নোনাজল বিলে ও শালিখা গ্রামে নদীর বাঁধ ভেঙ্গে আশপাশের ১৮টি গ্রাম প্ল¬াবিত হয়। এছাড়া কপোতাক্ষ নদ সংলগ্ন টিআরএমের বাঁধ চরম ঝুকির মধ্যে রয়েছে। বাঁধটি ধসে গেলে আরও নতুন করে তিনটি ইউনিয়নের ১২/১৩টি গ্রাম প্ল¬াবিত হয়ে যাবে।
খলিলনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রণব ঘোষ বাবলু জানান, কপোতাক্ষ নদ উপচে পড়া পানি বন্ধ করতে ঘোষনগর এলাকায় খুলনা-পাইকগাছা সড়কের ধারে স্কেভেটর দিয়ে বাঁধ তৈরি করা হয়েছে। এই ইউনিয়নের জাতপুর-কাশিমনগর ভায়া মহান্দি সড়ক’র একটি অংশ সম্পূর্ন পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চরম ঝুকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। ঘোষনগর এলাকায় জলাবদ্ধতার মারাতœক অবনতি হওয়ায় ১২টি পরিবারের সদস্যরা আশ্রয় কেন্দ্রে উঠেছে। তাদের জন্য ঘোষনগর বালিকা বিদ্যালয়ে আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এম. মফিদুল হক লিটু জানান, বর্ষা ও কপোতাক্ষ নদের পানিতে তাঁর ইউনিয়নের কানাইদিয়া, চরকানাইদিয়া, কৃষ্ণকাঠি ও জেঠুয়ার একটি অংশে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এই এলাকার প্রায় শতাধিক পরিকবার রোববার কৃষ্ণকাঠি ও জেঠুয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছে। জলাবদ্ধতার এই অবস্থা চলমান থাকলে আগামীতে আশ্রয় কেন্দ্রের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে। এদিকে, তালা উপজেলার জলাবদ্ধার সার্বিক পরিস্থির কারনে সংশি¬ষ্ট বিষয়ে জরুরী সভার আয়োজন করা হয়। রোববার দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে, তালা উপজেলা দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি ও এনজিও সমন্বয় সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহাবুবুর রহমানের সভাপতিত্ব করেন। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় (তালা-কলারোয়া) সংসদ সদস্য অ্যাড. মুস্তফা লুৎফুল¬াহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, তালা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার। সভায় উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, এনজিও প্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, সাংবাদিক, পানি কমিটির নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও জলাবদ্ধতায় ভুক্তভোগী মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সভায় জরুরী ভাবে জলাবদ্ধতা কবলিত মানুষের ত্রান সহযোগীতা প্রদান এবং জলাবদ্ধতার পানি নিস্কাশনের লক্ষ্যে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। অপরদিকে, তালায় জলবাদ্ধতার সার্বিক পরিস্থিতি দেখতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান রোববার বিকালে উপজেলার খলিলনগর, খেশরা এবং জালালপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন জলাবদ্ধ এলাকা ও নদীর বেড়ীবাঁধ পরিদর্শন করেন। এবং দুর্গতদের সব ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাস প্রদান করেন।