তালায় জলাবদ্ধতার কারণে রাস্তায় উপর চলছে শিশুদের পাঠদান কার্যক্রম


376 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
তালায় জলাবদ্ধতার কারণে রাস্তায় উপর চলছে শিশুদের পাঠদান কার্যক্রম
আগস্ট ৫, ২০১৫ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল হক :
কপোতাক্ষ নদের উপচেপড়া পানিতে সাতক্ষীরায় তালা উপজেলার অর্ধশতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখন কোমর পানি জমেছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়ার কোন পরিবশে নেই। তাই ইটের রাস্তার উপর চট বস্তা বিছিয়ে চলছে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া বা পাঠদান কার্যক্রম। অনেক কষ্ট শিকার করে শিক্ষকরা রাসাতর উপর দাঁড়িয়ে কোমলমতি শিশুদের ক্লাস নিচ্ছেন।
তালা উপজেলার প্রশাসন সূত্রে জানাগছে, ৫৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় অন্তত ৪৫টি স্কুলের পাঠদান বিকল্পভাবে অব্যাহত রাখা হয়েছে। কপোতাক্ষ নদের উপচেপড়া পানিতে তলিয়ে থাকায়  ১০টি স্কুলের পাঠদান কার্যক্রম বদ্ধ রাখা হয়েছে।
তালা উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, তালা উপজেলায় ২০৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩০টি মাদ্রাসা ও এনজিও পরিচালিত প্রাইমারী স্কুল আছে। ৫৫টি প্রাইমারী স্কুল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে ৩০টি সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। উপজেলার প্রাইমারী স্কুলের দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। স্কুলে পানি উঠায় স্কুলগুলোতে বিকল্প পাঠদান কার্যক্রম চালু রাখার জন্য  স্কুলের পাশে বিভিন্ন রাস্তার উপর চট বিছিয়ে সেখানে পাঠদান দিচ্ছেন শিক্ষকরা।
বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, তালা উপজেলার রাড়ীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ওই স্কুল থেকে আধা কিলোমিটার দূরে রাস্তার উপর পাঠদান দিচ্ছেন শিক্ষকরা। স্কুলের ৮ জন শিক্ষক  প্রতিদিন ৩৭৮ জন শিক্ষার্থীকে অনেক কষ্ট করে রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে তারা ক্লাস নিচ্ছের। শিক্ষার্থীরা বাড়ি থেকে নিজেদের বসার জন্য বস্তা, চট নিয়ে হাজির হন সেখানে। খোলা আকাশের নীচে চলছে স্কুল। স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান, মো. ফেরদাউস, তাজমিরা খাতুন জানান, আমাদের স্কুল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্কুলের স্যারেরা আমাদের এখানে ক্লাস নিচ্ছেন। প্রতিদিন ৫টি করে ক্লাস হয়। তারা আরো জানান, স্যারেরা আমাদের দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পড়ান। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা শিখা রানী চৌধুরী ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমকে জানান, প্রতিবছর বন্যায় আমাদের স্কুল পানিতে তলিয়ে যায়। স্কুলটি কপোতাক্ষ নদের পাড়ে হওয়ায় প্রতিবছরই এ ধরণের সমস্যা পোহাতে হচ্ছে। বিধায় স্কুলটি পরিত্যাক্ত ঘোষনা করে সেখানে স্কুল কাম সাইক্লোন সেল্টার নির্মান কররা জরুরী হয়ে পড়েছে।
তালা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা প্রণব কুমার মল্লিক জানান, তালার ৪৫টি স্কুলে এভাবে পাঠদান অব্যাহত আছে। এদিকে, বুধবার স্থানীয় সংসদ সদস্য এড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ বিভিন্ন প্রাইমারী স্কুল পরিদর্শন করে বলেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এভাবে পাঠদান অব্যাহত রাখা হয়েছে।