তালায় জালালপুর ইউনিয়ন আ.লীগ সভাপতির শাস্তির দাবীতে সাংবাদিক সম্মেলন


381 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
তালায় জালালপুর ইউনিয়ন আ.লীগ সভাপতির শাস্তির দাবীতে সাংবাদিক সম্মেলন
এপ্রিল ৬, ২০১৬ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

তালা প্রতিনিধি :
ব্যক্তিগত অযোগ্যতা, অদক্ষতা, স্বেচ্ছাচারিতা, অহমিকা, দাম্ভিকতা এবং ভোটারদের প্রভাবিত করার কারনে বিগত ২২ মার্চ অনুষ্ঠিত জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ দলীয় প্রার্থী রবিউল ইসলাম মুক্তি পরাজিত হয়েছেন। দলের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতা-কর্মীদের বাদ দিয়ে নিজ আত্বীয়-স্বজনদের সাথে নিয়ে নির্বাচন করার পর পরাজিত হয়ে রবিউল ইসলাম মুক্তি এখন সকল দায়ভার ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতাদের ঘাড়ের উপর চাঁপানোর চেষ্টা করছে। রবিউল ইসলাম মুক্তি নিল নক্সার মাধ্যমে দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়া এবং নির্বাচনে পরাজিত হবার কারনে এবারের জালালপুর ইউপি নির্বাচনে আওয়ামীলীগ পরাজিত হয়েছে। যে কারনে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানানো হয়েছে।
বুধবার বিকালে তালা রিপোটার্স ক্লাবে জালালপুর ইউনিয়ন আ.লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এক সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে এই দাবী জানান।
সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠকালে তালা উপজেলা আ.লীগের কার্য নির্বাহী সদস্য ইন্দ্রজীৎ দাশ বাপী বলেন, বিগত ইং ০৪/০৪/১৬ কয়েকটি আঞ্চলিক দৈনিক পত্রিকায় জালালপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের জরুরী সভা শিরোনামে একটি সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছে। যেথানে উল্লেখ করা হয়েছে, সদ্য সমাপ্ত ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করার অভিযোগে তালা উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ইন্দ্রজিত বাপ্পী এবং জাজালপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ কামাল হোসেনকে দল থেকে বহিস্কারের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদটি সম্পর্কে প্রকৃত সত্য হচ্ছে জালালপুর ইউনয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম মুক্তি নীল নক্সার মাধ্যমে ইউপি নির্বাচনে নিজে প্রার্থী হওয়ার দু:সময়ের কান্ডারী ত্যাগী পরীক্ষিত এবং নিবেদিত প্রাণ; অনেক নেতা কর্মীকে বাদ দিয়ে মনগড়া পকেট কমিটি তৈরী করেছেন। যেখানে তার আত্মীয় স্বজন, চাটুকর এবং সুবিধাভোগীদের সংখ্যাধিক্য। ইউপি নির্বাচনে অনেকের দলীয় প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা থাকলেও ঐ পকেট কমিটির মাধ্যমে বাছাই প্রক্রিয়ায় সম্মান হারানোর আশংকায় অনেকে প্রার্থী হননি। যে কারনে একক প্রার্থী হয়ে রবিউল ইসলাম মুক্তি নিজেকে জালালপুর ইউনিয়নের ভাবী চেয়ারম্যান ঘোষনা দিয়ে ভোটারদের অবজ্ঞা করে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। যেটা সাধারণ জনগন ভাল ভাবে গ্রহন করেনি। তিনি তার নিজের অযোগ্যতা, অদক্ষতা, স্বেচ্ছাচারিতা, অহমিকা এবং দাম্ভিকতার কারনে ২২ শে মার্চের অবাধ সুষ্ঠ শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে জনগন দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন। আমাদের জানামতে জালালপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের কোন নেতা কর্মী তার বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহন করেননি। এখন তিনি তার নিজের অপকর্ম অন্যের উপর চাপানোর হীন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। জাগরণী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে অনুষ্ঠিত বিগত ইং ০১/০৪/২০১৬ তারিখের সভায় আমি ইন্দ্রজীৎ দাশ বাপী এবং শেখ কামাল হোসেন কোন চিঠি পাইনি। এ বিষয়ে সাধারণ সম্পাদক রামপ্রসাদ দাশের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, সভাপতি আপনাদের দু-জনকে চিঠি দিতে নিষেধ করেছেন। পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন এ ধরনের কোন সিদ্ধান্ত বা রেজুলেশন ঐ মিটিংএ হয় নাই এবং প্রকাশিত সংবাদ সমন্ধে সাধারণ সম্পাদক হিসাবে আমি অবগত নই। ইন্দ্রজীৎ দাশ বাপী আরো বলেন, সাংবাদিকদের মাধ্যমে দলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা, কাল্পনিক এবং অপপ্রচার চালিয়ে জালালপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম মুক্তি দলীয় গঠনতন্ত্র লংঘন ও দলকে দ্বিধা বিভক্ত সহ আমাদের ব্যক্তিগত সম্মান ক্ষুুন্ন করেছেন। তার ব্যক্তিগত অযোগ্যতা, অদক্ষতা, স্বেচ্ছাচারিতা, অহমিকা, দাম্ভিকতা এবং ভোটারদের অবজ্ঞা করার কারনে এবার জালালপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ চেয়ারম্যান পদ হারিয়েছে। এসব কারনে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে রবিউল ইসলাম মুক্তির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করে দলকে ঐক্যবদ্ধ ও সুসংগঠিত করার জন্য তালা উপজেলা আওয়ামীলীগ ও সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের হস্তক্ষেপ সহ সুদৃষ্টি কামনা করা হয়।
উক্ত সাংবাদিক সম্মেলনকালে তালা উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মোড়ল আব্দুর রশীদ, জালালপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক স,ম, আহাদ, সাংষ্কৃতিক সম্পাদক সনৎ হালদার, সহ-দপ্তর সম্পাদক শেখ ছহিল উদ্দীন, কোষাধক্ষ সুকুমার ঘোষ, জালালপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি এম, রেজাউল হক রেজা, কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য ইউপি সদস্য শেখ আব্দুর রশীদ, ইউপি সদস্য পলাশ কুমার ঘোষ, বাসুদেব দাশ, সরদার মিজানুর রহমান, সরদার মুজিবর রহমান, ০৪ নং ওয়ার্ড সভাপতি ফকির আব্দুর রাজ্জাক ০৬নং ওয়ার্ড সভাপতি বিধান চন্দ্র দাশ, জালালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি আবু সাঈদ মিঠু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।