তালায় টানাবর্ষণে ২৫ গ্রাম প্লাবিত


398 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
তালায় টানাবর্ষণে ২৫ গ্রাম প্লাবিত
জুলাই ২৮, ২০১৫ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

মাহফুজুর রহমান মধু, পাটকেলঘাটা :
টানা বর্ষনে কপোতাক্ষ নদের অববাহিকায় পানির চাপে বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ ধসে পাটকেলঘাটাসহ উপজেলায় অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। কপোতাক্ষের উপছে পড়া পানিতে উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ২৫টি গ্রাম তলিয়ে গেছে। পানিতে ডুবে সম্পূর্ন নষ্ট হয়ে গেছে বীজ তলাসহ প্রায় দুই হাজার বিঘা জমির আমন ধান। তালা উপজেলা পরিষদ চত্বরে দেখা দিযেছে হাঁটু পানি। কয়েকটি অফিসের মধ্যে পানি ঢুকে যাওয়ায় কাজ বন্ধ হওয়ার উপক্রম মাত্র। প্রতিদিন পানি বাড়তে থাকায় ওই জনপদের মানুষ ঘরবড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ এলাকার উঁচু স্থানে ও অস্থায়ীভাবে আশ্রয় কেন্দ্রে। ভেঙে পড়েছে স্যানিটেশন ও সুপ্রেয় পানির ব্যবস্থা। গত পাঁচ- ছয় দিন ধরে ত্রানের অভাবে অভূক্ত আছে পরিবারের শতাধিক মানুষ। এলাকার বৃদ্ধ ও শিশুরা সর্দি কাশিসহ পানিবাহিত নানা রোগে ভূগছে ।
তথ্য-অনুসন্ধানে জানা গেছে,কপোতাক্ষ নদের পানির ধারণ ক্ষমতা তার চেয়ে অতিবৃষ্ঠির কারনে উজান থেকে পানি আসার কারনে বন্যা সৃষ্ঠি । সরুলিয়া ইউনিয়নের পাটকেলঘাটা সদর পশ্চিমপাড়া বাজারসহ,ধানদিয়া ইউনিয়নের উত্তর সারসা, দক্ষিণ সারসা, ওমরপুর, নগরঘাটা ইউনিয়ানের নিমতলা,গাবতলা,দক্ষিন নগরঘাটা, রাঢ়ীপাড়া, ভবানীপুর, কুমিরা মালোপাড়া, মন্দিরখোলা, জুজখোলা,কাশিপুর,ঘোনা,ইসলামকাটি,নারানপুর,কাজীডাংঙা ঘোষপাড়া, গৌর ঘোনা, ঘোষনগর, গঙ্গারামপুর, কানাইদিয়া, চরকানাইদিয়া, কৃষ্ণকাটি, কলাপোতা ও মামুদপুরসহ ২৫টি গ্রামের নিম্নাঞ্চলের অধিকাংশ বাড়ি তলিয়ে গেছে। এলাকার বেশ কিছু বাড়ির ভিতরে পানি উঠে গেছে। পানিতে তলিয়ে গেছে কৃষকের আমন বীজতলা। নষ্ট হয়েছে  শাকসবজির ক্ষেতও। এছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসের নীচে, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার অফিস, কৃষি অফিস, কৃষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, দারিদ্র বিমোচন ফাউনডেশনের ভিতরে হাঁটু পানি জমেছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অফিস, উপজেলা প্রকৌশলীর অফিস(এলজিআরডি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবন ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের অফিসের সামনে হাটু পানি। কয়েকটি জায়গায় নদীর উপর পারাপারের জন্য বাঁশ দিয়ে সাঁকো তৈরী করা হয়েছে। এসব বাঁশের সাঁকোয় কচুরিপনা আটকে থাকায় নদের পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না । পলি জমে  দুই  দশক ধরে স্রোতহীন হয়ে পড়েছে কপোতাক্ষ নদ। বৃষ্টির কারণে নদের দুই পারের একাধিক গ্রাম জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে। খনন করে দুই পারের মানুষকে জলাবদ্ধতার কবল থেকে রক্ষার সেই চেষ্টায়ও যেন শেষ রক্ষা হচ্ছে না। নিয়মিত খনন করে কপোতাক্ষর দুই পার যখন বাঁধার কাজ  চলছে, তখনই অতি বৃষ্টিতে নদের পানি উপচে তলিয়ে যাচ্ছে গ্রাম।
ইসলামকাটি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রঞ্জন রায় বলেন,  ইসলামকাটি ইউনিয়নের দুটি পয়েন্টে এমন ভাঙন দেখা দিয়েছে। জল ঢুকেছে কমপক্ষে সাতটি গ্রামে। এ অবস্থা চলতে থাকলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হতে পারে। ফাটল সৃষ্টি হওয়া বাঁধ রক্ষা করতে না পারলে ইসলামকাটির ১৬ গ্রাম ছাড়াও কুমিরা, সদর, ও তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হবে। মাগুরা, কানাইিিদয়া, ঘোষনগরসহ বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন খলিলনগর ইউপি চেয়ারম্যান প্রণব ঘোষ বাবলু।
তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহবুবুর রহমান ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমকে জানান,অতি বৃষ্টি ও  কপোতাক্ষের পানি অন্যত্র সরতে না পারায় উপকুলের গ্রামগুলি প্লাবিত হচ্ছে। এ ছাড়া পানি জমেছে উপজেলা পরিষদ চত্বরসহ কয়েকটি অফিসের মধ্যে। বাঁধ সংস্কারের বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে। তালা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার জানান, এপর্যন্ত তালা উপজেলার প্রায় ১৬শত পরিবারে পানি প্রবেশ করেছে, ২৫টির মত প্রাথমিক বিদ্যালয় ৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ১টি কলেজ পানি প্রবেশ করেছে।বাড়ীতে পানি প্রবেশ করলেও  কেউ বাড়ী ঘর ছাড়েনি। পানি নিষ্কাষনের জন্য ঘোষ নগর থেকে পাখিমারা বিল পর্য়ন্ত চ্যানেল কেটে পানি নিষ্কাষনের ব্যবস্থা চলছে। তিনি আরো বলেন, পাখিমারা বিলে টিআরএম হয়েছে। অথচ বালিয়া থেকে কাশিমনগর পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটার নদ খনন করা হয়নি। তাই সেখানে চ্যানেল কেটে পানি প্রবাহ সৃষ্টির কথা বলা হলেও করা হয়নি। ফলে পানি সরতে না পেরে তালার বেশ কয়েকটি গ্রাম ইতিমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রান পেতে তিনি ভাসমান স্কেবেটর দিয়ে বালিয়া থেকে ১৮ কিলোমিটার নদে চ্যানেল কেটে পানি সরানোর ব্যবস্থা করার দাবি জানান।