তালায় টিআরএম’র পানিতে ৮৫টি বাড়ি প্লাবিত


246 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
তালায় টিআরএম’র পানিতে ৮৫টি বাড়ি প্লাবিত
জুন ৫, ২০২০ তালা দুুর্যোগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

বাঁধ ভেঙ্গে আরও ক্ষতির আশংকা

বি. এম. জুলফিকার রায়হান ::

প্রলয়ংকারী ঘূর্নীঝড় আম্পানের আঘাতে তালার টিআরএম প্রকল্প’র বাঁধ’র ৭টি স্থানে ভেঙ্গে যায়। ভেঙ্গে যাওয়া ওই বাঁধ দিয়ে কপোতাক্ষ নদের পানি মাদরা গ্রামে প্রবেশ করে। তবে, বাঁধ সংলগ্নের মাধবখালী খাল দিয়ে সেই পানি শালিখা নদী দিয়ে কপোতাক্ষ নদে নিস্কাশিত হওয়ায় সেসময় এলাকা প্লাবিত হয়নি। কিন্তু কপোতাক্ষ নদে জোয়ার পানি বৃদ্ধি পেলে পানির চাপে মাধবখালী খাল উপচে এবং টিআরএম’র দূর্বল বাঁধ আরো ভেঙ্গে যেয়ে মাদরা, দোহার, গলাভাঙ্গা গ্রাম প্লাবিত হবে- এমন আশংকা বিরাজ করে সেখানকার মানুষদের মাঝে। এঘটনায় দ্রুত বাঁধ সংস্কারের দাবীতে সেখানে মানববন্ধ ও তালাতে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বাঁধ ভাঙ্গার ১ সপ্তাহ পর স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস. এম. মোস্তফা কামাল ও তালা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার সহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাগন ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেন।

স্থানীয় ভুক্তভোগী গোলাম রাব্বানী, মামুন, ও মিঠুন চক্রবর্ত্তী সহ একাধিক ব্যক্তি জানান, কপোতাক্ষ নদ খনন প্রকল্প’র টিআরএম বেড়িবাঁধ ভাঙ্গার ১৫দিন পার হলেও বাঁধ মেরামতের কার্যকর কোনও ব্যবস্থা গ্রহন করেনি কর্তৃপক্ষ। যেকারনে গ্রামবাসীর আশংকা সত্য হলো। ভরা কটালের প্রভাবে বৃহস্পতিবার রাত থেকে কপোতাক্ষের পানি মাধবখালী খাল উপচে’ লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। এতে স্থানিয় গুচ্ছগ্রামের ৪৫টি বাড়ি সহ মাদরা গ্রামের আরো ৪০টি বাড়ি প্লাবিত হয়েছে। পানিতে ভেঁসে গেছে মাছের ঘের, পুকুর ও নিম্মাঞ্চল। বাড়িগুলোর উঠোন, টিউবওয়েল ও টয়লেট প্লাবিত হওয়ায় সেখানকার মানুষগুলো বিপাকে পড়েছে।

পানিতে এলাকা প্লাবিত হবার সংবাদ পেয়ে শুক্রবার সকালে সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) সংসদ সদস্য অ্যাড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, জালালপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ’র সভাপতি রবিউল ইসলাম মুক্তি, তালা উপজেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারন সম্পাদক হিরন্ময় মন্ডল ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মনিরুল ইসলাম সহ বিভিন্ন শ্রেণির নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এদিকে, কপোতাক্ষ নদের জোয়ারের পানির চাঁপে দূর্বল হয়ে যাওয়া টিআরএম’র বাঁধের অন্য অংশ শুক্রবার রাতের যে কোনও সময় ভেঙ্গে যেতে পারে- এমন আশংকায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে বাঁধ সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা। নতুন করে বাঁধ ভেঙ্গে গেলে পানিতে এলাকার আরো শতাধিক বাড়ি প্লাবিত হবে। তাতে কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হবে।

#