তালায় টিআরএম বাস্তবায়ন ও জলাবদ্ধতার স্থায়ী নিরসন দাবীতে স্মারকলিপি প্রদান


192 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
তালায় টিআরএম বাস্তবায়ন ও জলাবদ্ধতার স্থায়ী নিরসন দাবীতে স্মারকলিপি প্রদান
অক্টোবর ২০, ২০২০ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

তালা প্রতিনিধি :
শালতা, বেতনা ও মরিচ্চাপ নদী খনন প্রকল্পে টিআরএম সংযুক্ত করা সহ তালা উপজেলায় জলাবদ্ধতা নরিসনে অতিদ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষপে গ্রহণের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১ টায় তালা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, ভূমিজ ফাউন্ডেশন, উপজেলা নাগরিক কমিটি, প্রেসক্লাব ও পানি কমিটি যৌথ ভাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলনে তালা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রাক্তন ডেপুটি কমান্ডার মো. আলাউদ্দিন জোয়ার্দ্দার বলেন, বাংলাদশেরে দক্ষণি-পশ্চমি অঞ্চলরে জলাবদ্ধতা সমস্যাটি প্রায় চার দশকব্যাপী অব্যাহত আছ।ে সমস্যাটি সমাধানরে জন্য সরকাররে পক্ষ থকেে এ যাবৎ যে সব পদক্ষপে বাস্তবায়ন করা হয়ছেে তাহলো নদী থকেে পলি অপসারণ, নদী খাল খনন, স্লুইসগেট ও বাঁধ সংস্কার, বকিল্প পথে পানি নষ্কিাশন প্রভৃত।ি কন্তিু এসব র্কাযক্রম দ্বারা জলাবদ্ধতার প্রশমন ঘটানো যায়নি বরং জলাবদ্ধতার আরও বস্তিৃতি ঘটেছে। এরফলে ক্রমশঃ বসবাসরে অনুপযোগী হওয়ায় এসব এলাকা থকেে ব্যাপক সংখ্যক মানুষ বাস্তুভটিা ছড়েে অন্যত্র চলে যাচছে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দীন জোয়াদ্দার বলেন, গত শতাব্দীর ৯০ দশকের শুরুতে তালা উপজেলায় জলাবদ্ধতা শুরু হয়। উপজেলার সব কয়টি ইউনিয়নের ৩ লক্ষাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কৃষি, মৎস্য, পশুপালন, স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ সকল সক্টেরই কম-বেশি জলাবদ্ধতা দ্বারা আক্রান্ত হয়। এই এলাকা জলাবদ্ধতা মুক্ত করার জন্য সরকার কপোতাক্ষ নদ খনন করে। একই সাথে কপোতাক্ষ অববাহিকায় টিআরএম চালু করায় নদীর নাব্যতা এখনও বহাল আছে এবং এই অববাহিকার বস্তিীর্ণ অঞ্চল এখনও জলাবদ্ধ মুক্ত রয়েছে। কপোতাক্ষ নদ খননের পর বর্তমানে তালা ও ডুমুরিয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী শালতা নদী পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধিনে খনন করা হচ্ছে। কিন্তু এই প্রকল্পের সাথে টিআরএম সংযুক্ত না থাকায় অচিরেই এ নদী আবারও পলি দ্বারা ভরাট হয়ে যাবে। ১, ২, ও ৬-৮ পোল্ডারের জন্য সরকার যে প্রকল্প গ্রহণ করেছে সেখানে বেতনা নদীর জন্য প্রস্তাবিত টিআরএমকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে এ প্রকল্পের পরিণতিও হবে পূর্ববর্তী প্রকল্প সমূহের অনুরূপ। আপার ভদ্রা অববাহিকার বিলবুড়লী ও পাথরা বিল নর্ধিারতি আছে টিআরএম বাস্তবায়নের জন্য। কিন্তু এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কোন উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি ১, ২ ও ৬-৮ পোল্ডারের জন্য গৃহীত প্রকল্পের মধ্যে বেতনা অববাহিকার জন্য টিআরএম কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করা এবং শালতা ও আপারভদ্রা অববাহিকায় টিআরএমকে যুক্ত করে প্রকল্প প্রণয়ণ, কপোতাক্ষ অববাহিকার জন্য গৃহীত দ্বিতীয় পর্যায় প্রকল্পের মধ্যে পাখিমারা বিল ও নদী ব্যবস্থাপনা এবং দরিদ্র মানুষদের জন্য পুনর্বাসন কার্যক্রম যুক্ত করা, আবদ্ধ শালিখা নদী উন্মুক্ত করে বেতনা ও কপোতাক্ষের সাথে সংযোগ, পাকুড়িয়া নদীকে কপোতাক্ষ ও বেতনার সাথে সংযোগ, আমতলী নদীর সাথে শালতার সংযোগ প্রদান, নদী-খাল-বলি-স্লুইসগেট-বাঁধ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং সকল কার্যক্রমে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবী জানান।

সংবাদ সম্মেলন শেষে তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে পানিসম্পদ মন্ত্রীর নিকট দাবী বাস্তবায়নের জন্য স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে তালা সদর ইউপি চেয়ারম্যান সরদার জাকির হোসেন, ভূমিজ ফাউন্ডেশনের সমন্বয়কারী অচিন্ত্য সাহা, উপজেলা নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম, তালা উপজেলা পানি কমিটির সাধারণ সম্পাদক মীর জিল্লুর রহমান, শালতা বাঁচাও আন্দোলন কমিটির সভাপতি সরদার ইমান আলী, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, উত্তরণ কর্মকর্তা জাহিদ আমিন শাশ^ত, দিলীপ কুমার সানা ও যুব পানি কমিটির আহবায়ক মো. রেজওয়ান উল্লাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।