তালায় ট্রাক ভর্তি ৩০৫ বস্তা চাল জব্দ : ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য প্রভাবশালী মহলের দৌড়-ঝাপ


1302 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
তালায় ট্রাক ভর্তি ৩০৫ বস্তা চাল জব্দ : ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য প্রভাবশালী মহলের দৌড়-ঝাপ
আগস্ট ২০, ২০১৬ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

বি. এম. জুলফিকার রায়হান / কামরুজ্জামান মোড়ল :
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার জাতপুর বাজার থেকে স্থানীয় জনগণ ট্রাক ভর্তি ৩০৫ বস্তা (প্রায় ১৬ মেট্রিক টন) সরকারি চাল জব্দ করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। এসব চাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৭ টার দিকে তালার জাতপুর বাজারে হামিদ চৌধুরীর রাইচ প্রোসেসিং মিলে আনলোড করার জন্য আনা হয়েছিল। চাল প্রোসেসিং মিলে ট্রাকটি বেপরোয়া ভাবে যাবার সময় স্থানীয় মানুষের সন্দেহ হলে তারা জাতপুর পুলিশ ক্যাম্পের পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে চাল ভর্তি ট্রাক জব্দ করে এবং পরবর্তিতে তালা থানায় প্রেরন করে। পুলিশ ট্রাক (ঝিনাইদহ -ট-১১-০০৩৭) এর ড্রাইভার কেশবপুরের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের মৃত স্বদেশ চন্দ্র দাশের পুত্র বাবু দাশকে আটক করেছে এবং চাল ভর্তি ট্রাক জব্দ করেছে।

খুলনার দৌলতপুরের চাল ব্যবসায়ী ডি. এম. আলাউদ্দীনের মালিকানাধিন সোনালী এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার, শহিদুল ইসলাম এই চাল জাতপুরে নিয়ে আসে।

এদিকে, চাল জব্দ হওয়ার পর সরকারি চাল কলো বাজারে বিক্রি সিন্ডিগেটের মূলহুতা ডুমুরিয়া উপজেলার আরশনগর গ্রামের রাজিবুল মেম্বরের নেতৃত্বে একটি মহল পুলিশের কাছ থেকে চাল সহ ট্রাক ছড়িয়ে নেওয়ার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালাচেছ বলে জানাগেছে।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (শুক্রবার রাত সাড়ে ১১ টা) রাজিবুল মেম্বরের নেতৃত্বে (সরকারি চাল কলো বাজারে বিক্রি সিন্ডিগেটের সদস্যরা) একটি প্রভাবশালী মহল থানার আশপাশে অবস্থান নিতে দেখা যায়।

রাতেই তারা ভূয়া বিল-ভাউচার তৈরী করে সরকারি চাল গুলো ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানাগেছে।

ধারণা করা হচ্ছে, জব্দকৃত এসব চাল সরকারী ত্রান হিসেবে পাওয়া। সরকারি চাল কালো বাজারে বিক্রি সিন্ডিগেটের সদস্যরা এসব চাল কেশবপুরের বন্যা কবলিত এলাকা থেকে তালার জাতপুরে নিয়ে আসে। যা প্রসেসিং করে খোলা বাজারে অধিক মূল্যে বিক্রি করা হতো অথবা চলতি চাল সংগ্রহ মৌসুমে চাল সিন্ডিগেট এসব চাল সরকারি খাদ্য গুদামে বিক্রি করতো।

যশোরের কেশবপুর বা মনিরামপুর উপজেলার বন্যা কবলিত মানুষের জন্য এসব চাল বরাদ্ধ পাওয়া বলে স্থানীয়রা ধারণা করছে। তারা বিষয়টি যথাযথ ভাবে খতিয়ে দেখার জন্য জোর দাবী জানিয়েছে ।

ট্রাক ড্রাইভার বাবু দাশ জানায়, যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার পাজিয়া বাজারের বিকাশ পালের চালের দোকান থেকে এসব চাল নিয়ে আসা হয়েছে। তবে সরকারি চাল কি-না তা তার জানা নেই।

তালা থানার ওসি সগির মিয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে শুক্রবার রাতে ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে জানান, জব্দকৃত চাল থানায় এনে রাখা হয়েছে। চাল গুলো ব্যক্তি মালিকানার বলে দাবী করা হচ্ছে। তবে এখনও তার সপক্ষে কোন ধরণের কাগজপত্র তারা দেখাতে পারেনি। তারা বলছে কাগজপত্র আনতে খুলনাতে গেছে। ওসি আরো জানান, রাতে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। শনিবার সকালে ইউএনও সাহেব এসে কাগজপত্র দেখবেন। তার পরে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে। ট্রাক ড্রাইভার বাবু দাশকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে। চাল গুলো সরকারি ত্রানের চাল কি-না পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে।

শনিবার বিকেল পর্যন্ত তাদের সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন এ ব্যাপারে এখনও সিদ্ধান্ত নিতে নেয়নি। তালা থানা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ হোসেন শনিবার বিকেলে ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে জানান, তিনি একনও কাগজপত্র নেখেননি। ওসির কাছে তারা ভাউচার জমা দিয়েছেন শুনেছেন। জব্দকৃত চাল সরকারি কি-না তা যাচাই বাছাই করেই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। কেউ যাতে হয়রানি না হয় সে বিষয়টি যেমন দেখা হবে, তেমনি সরকারি ত্রানের চাল হলে ছাড় দেওয়া হবে না। কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।