তালায় দুগ্ধ পল্লীতে তৈরি হচ্ছে গরুর নকল দুধ !


257 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
তালায় দুগ্ধ পল্লীতে তৈরি হচ্ছে গরুর নকল দুধ !
আগস্ট ২, ২০২২ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

৭শ’ কেজি জেলি জব্দ : গরুর নকল দুধ তৈরি চক্রের হোতার অর্থদন্ড

বি. এম. জুলফিকার রায়হান ::

দুগ্ধপল্লী খ্যাত তালা উপজেলার একাধিক দুগ্ধ খামারে প্রতারকচক্র দীর্ঘ বছর ধরে গরুর নকল দুধ তৈরি করে আসছে। নকল এই দুধ গরুর খাটি দুধের সাথে মিশিয়ে তা দেশের বড় বড় ব্রান্ডের কোম্পানীর চিলিং সেন্টারে বিক্রি করছে। চিলিং সেন্টারগুলোর অসাধু ম্যানেজার ও কর্মচারীরা মাস শেষে কমিশন নিয়ে ভেজাল দুধ সংগ্রহ করছে। যা’ খাটি দুধ হিসেবে ঢাকা সহ দেশের বড় বড় শহরে বাজারজাত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের মতে, ভেজাল মিশ্রিত এই দুধ পান করে ব্লাড প্রেশার, ডায়াবেটিস, কিডনি সহ নানান রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ।
তালার জেয়ালা, মহান্দি, হরিশ্চন্দ্রকাঠি সহ সংলগ্ন এলাকার প্রতারক চক্রর নকল দূধ তৈরি করে বাজারজাত করার বিষয়টি উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা অবগত রয়েছে। কিন্তু এই প্রতারকচক্রের হাত অনেক দুর লম্বা হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন নিয়োমিত অভিযান বা ব্যবস্থা নিতে পারছেনা। যেকারনে বছরের পর বছর ধরে নকল দুধের রমরমা ব্যবসা চলছে তালাতে। নকল দুধের ব্যবসা করে অনেকেই এখন কোটিপতী হয়েছে।
সূত্র জানায়, ভারতীয় নি¤œ মানের গুড়ো দুধ, গ্লুকোজ পাওডার, শ্যাম্পু, সয়াবিন তৈল মিশ্রন করে বাড়িতে তৈরি হয় গরুর নকল তরল দুধ। এই দুধ পরে খাটি তরল দুধের সাথে মিশিয়ে দেয়া হয়। নকল দুধ তৈরির উপাদান গ্লুকোজ পাওডার ও গুড়ো দুধ ভর্তি ইঞ্জিন ভ্যান মাঝে মাঝে তালা থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আটক করে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক কোনও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন না হওয়ায় বহাল তবিয়তে চলছে নকল দুধের উৎপাদন ও ব্যবসা।
সোমবার সন্ধ্যায় তালা থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার শাহাপুর বাজার থেকে গরুর নকল দুধ তৈরির জন্য ব্যবহৃত ৭০০ কেজি ভেজাল জেলি উদ্ধার করে। একই সাথে জেলি মালিক গৌর শংকর ঘোষকে পুলিশ আটক করে। গৌর শংকর ঘোষ ওরফে বাবু ঘোষ উপজেলার মহান্দী গ্রামের চিত্তরঞ্জন ঘোষের ছেলে। সে নকল দুধ তৈরির অন্যতম হোতা। বাজারে সয়াবিন তৈল’র মূল্য বৃদ্ধির কারনে এখন তৈল এর পরিবর্তে মিষ্টি জাতীয় এই জেলি নকল তরল দুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। এই জেলি যশোরের বড় বাজার থেকে আনা হয় এবং এটি মূলত দুধে ফ্যাট বাড়িয়ে দেয়। যা মেশিনে পরীক্ষাকালে ভেজাল দুধকে উন্নতমানের দুধে পরিনত করে। গ্রামে এই জেলিকে আঠা নাম বলা হয়।
তালা থানার ওসি আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শাহাপুর বাজারে অভিযান চালিয়ে মাহেন্দ্র ভর্তি গরুর নকল দুধ তৈরির নতুন উপকরন- ১৪ বস্থায় ৭০০ কেজি জেলি সহ ভেজাল দুধ ব্যবসায়ী গৌর শংকর ঘোষকে আটক করা হয়। এসময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ভোক্তা অধিকার আইনে জেলি বাজেয়াপ্ত করেন এবং গৌর শংকর ঘোষকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। ভেজাল দুধ তৈরির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক তৎপরতা চলমান রয়েছে বলে ওসি আবু জিহাদ ফখরুল আলম জানান।

#