তালায় নৌকায় ভোট দেওয়ায় অপরাধে হামলার শিকার আ’লীগের নেতা-কর্মীরা : অভিযোগের তীর ঘোষ সনৎ কুমারের দিকে


471 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
তালায় নৌকায় ভোট দেওয়ায় অপরাধে হামলার শিকার আ’লীগের নেতা-কর্মীরা : অভিযোগের তীর ঘোষ সনৎ কুমারের দিকে
মার্চ ২৫, ২০১৬ তালা
Print Friendly, PDF & Email

বিশেষ প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরার তালা উপজেলা সদর, খলিলনগর, মাগুরা ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। প্রকাশ্যে অস্ত্র-স্বস্ত্র নিয়ে মোহড়া দেওয়া হচ্ছে এলাকায়। ছিড়ে ফেলা হয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ছবিও। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের লালিত জামায়াত-বিএনপির ক্যাডারা ছিড়ে ফেলা ছবির উপর জুতো নিক্ষেপ করেছে। এদিকে বিদ্রোহী প্রার্থীর ক্যাডারদের ভয়ে নৌকার সমর্থকরা রিতিমত পালিয়ে বেড়াচ্ছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজা হচ্ছে তাদেরকে। ইতিমধ্যে অনেকে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। অধিকাংশ জায়গায় নৌকা পতীকে ভোট দেওয়ার অপরাধে একের পর এক সহিংসতার ঘটনা ঘটলেও কোন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। আর এসব ঘটনায় তালা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমারের সমর্থকরাই ঘটনাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতারা। সংবাদ সম্মেলন করে তারা ঘোষ সনৎ কুমারের বহিস্কারও দাবি করেছেন।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় তালা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমারের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুসছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। নিজের রাজনৈতিক স্বার্থ  উদ্ধারে দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনাকারী এই নেতার বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ইউপি নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তে বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণকারী নেতাদের তালিকা করার ঘোষণায় আশায় বুক বেধেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা। এক্ষেত্রে ঘোষ সনৎ কুমারের নাম তালিকাভূক্ত করে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে তারা। ২২ মার্চ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নৌকা প্রতীক পাওয়া প্রণব ঘোষ বাবলু তালা উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে ঘোষ সনৎ কুমারের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় নৌকার বিরোধীতা করেন সনৎ কুমার। এমনকি উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে ছয়টি ইউনিয়নে ঘোষ সনৎ কুমার ও তার অনুসারীরা নৌকা প্রতিকের বিরুদ্ধে কোথাও বিদ্রোহী, কোথাও জাতীয় পাটি, এমনকি বিএনপি-জামায়াতের পক্ষে কাজ করেছে বলে অভিযোগ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের।

Tala Picture (25.03.16)

খলিলনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান সরদার ইমান  জানান, নির্বাচনের পর বিদ্রোহী প্রার্থীর লালিত জামায়াত-বিএনপির ক্যাডাররা যে সহিংসতা শুরু করেছে, তা আগে কখনো দেখেনি। নির্বাচনে নৌকা প্রতিক পরাজিত হওয়ায় একের পর এক বিদ্রোহীর প্রার্থীর লালিত জামায়াত-বিএনপি’র ক্যাডাররা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। খলিলনগর বাজারে তারা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ছবি ছিড়ে ফেলেছে। ছবির উপর ছুড়ে মেরেছে জুতা। প্রকাশ্যে এলাকায় তারা অস্ত্র-স্বস্ত্র নিয়ে মহড়া দিচ্ছে। তাদের ভয়ে নৌকার সমর্থকরা এলাকা ছেড়ে অনেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) দুপুরে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী (নৌকা) প্রণব ঘোষ বাবলু তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি দিয়েছেন। এছাড়া একই দাবীতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের কাছে অনুরুপ স্মারকলিপি দিয়েছেন তিনি।

Tala (Satkhira) Picture 25-03-16 (2)

স্মারকলিপিতে প্রণব ঘোষ বাবলু উল্লে¬খ করেন, ২২ মার্চ অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে তালা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমারের প্রকাশ্যে সমর্থনপুষ্ট আওয়ামী লীগ থেকে বহিস্কৃত বিদ্রোহী প্রার্থী এসএম আজিজুর রহমান রাজু’র নীল-নকশার মাধ্যমে তাকে (প্রণব ঘোষ বাবলু) ১৩৮ ভোটে পরাজিত দেখানো হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার আগেই সন্ধ্যা সাত টার পর থেকে বিদ্রোহী প্রার্থী এসএম আজিজুর রহমান রাজু-এর লালিত জামায়াত-বিএনপি ও নাশকতা মামলার আসামীরা নৌকা প্রতিকের কর্মী-সমর্থকদের উপর হামলা ও বাড়ি-ঘর ভাংচুর শুরু করে। যাহা দিন দিন বেড়েই চলেছে। উপজেলা চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার ও তার সমর্থকেরা এসব হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় জড়িত বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।

খলিলনগর ইউনিয়নের দুইবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান প্রণব ঘোষ বাবলু বলেন, খলিলনগরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে ঘোষ সনৎ কুমার ও তার একান্ত অনুসারীরা নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে অবমাননা করেছেন। দল তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আশাকরি।
এলাকাবাসী জানায়, গত ২২ মার্চ সন্ধ্যায় মহান্দী গ্রামের আরশাদ মোড়লের ছেলে হাবিবুর রহমানের দোকান, বাড়ি-ঘর ভাংচুর ও লুটপাট করে বাড়ি দখল করে জামায়াত বিএনপির ক্যাডাররা। একই দিনে মহান্দী গ্রামের বাবর আলী বিশ্বাসের ছেলে রবিউল বিশ্বাসের বাড়িতে হামলা ও একই গ্রামের সচীন ঘোষ ও ভৈরব ঘোষকে লাঞ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম মোড়ল, তার ভাই কোহিনুর মোড়ল ও আওয়ামীলীগ কর্মী কিতাব শেখকে হত্যার উদ্দেশ্যে অস্ত্র-স্বস্ত্র নিয়ে খুঁজ বেড়ানো হচ্ছে।

তালা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন বিশ্বাস জানান, উপজেলা চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার ও তার একান্ত অনুসারীরা নৌকার প্রার্থী সরদার জাকিরকে পরাজিত করতে জাতীয় পার্টির প্রার্থী এস এম নজরুল ইসলামের পক্ষে প্রকাশ্যে প্রচারণা চালায়। তারা প্রশাসনের উপর প্রভাব বিস্তার করে। কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের অক্লান্ত  প্রচেষ্টায় সরদার জাকির বিজয়ী হয়েছে। আর এ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম খাঁ নৌকা প্রতিকের বিরুদ্ধে অবস্থানকারী ঘোষ সনৎ কুমারসহ অনুসারীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আওয়ামী সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

Tala (Satkhira) Picture 25-03-16 (3)

তালার নগরঘাটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নৌকার বিজয়ী চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান লিপু জানান, তার নির্বাচনে উপজেলা চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার ও তার অনুসারী উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মনোরঞ্জন মন্ডল, মিজানুর রহমানসহ অনেকেই বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

খলিষখালী ইউনিনের বিজয়ী চেয়ারম্যান মোজাফ্ফার রহমান বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যানের উস্কানীতে অশোক লাহেড়ি  বিদ্রোহী প্রার্থী না হলে তার বিজয় আরো সহজ হতো। তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের বিজয়ী চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম জানান, উপজেলা চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার ও তার অনুসারীরা উপরে নৌকা ও ভেতরে লাঙ্গল প্রতিকের নির্বাচন করেছে।

তালা উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এসএম ময়েজ উদ্দীন বলেন, তেঁতুলিয়া ইউনিয়নে নৌকা প্রতিকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন উপজেলা চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার ও তার অনুসারীরা।  তালার অধিকাংশ ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের বিরোধীতা করেছেন তিনি।

Exif_JPEG_420

তালা সদর ইউনিয়নের বিজয়ী চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক সরদার জাকির জানান, নৌকা প্রতিকের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান কারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ঘোষ সনৎ কুমার ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর জাকির হোসেন-এর দলীয় পদে থাকার কোন অধিকার নেই। তারা দু’জন সহ তাদের লোকজন প্রকাশ্যে লাঙ্গলের ভোট করেছেন। ফলে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিস্কারের দাবী জানানো হয়।

এ ব্যাপারে তালা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ঘোষ সনৎ কুমার ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমকে জানান, আমার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ করা হচ্ছে তা সঠিক নয়। আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন স্থানে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে। আমি ১২ টি ইউনিয়নে নৌকা প্রতিকের প্রার্থীদের পক্ষে থেকে নির্বাচনী কাজ করেছি। নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় আমি বা আমার কোন সমর্থক জড়িত নয়।
##