তালায় পত্রিকা ব্যবসায়ী নূর ইসলাম মানবসেবার দৃষ্টান্ত


423 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
তালায় পত্রিকা ব্যবসায়ী নূর ইসলাম মানবসেবার দৃষ্টান্ত
মে ৯, ২০১৬ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

বি. এম. জুলফিকার রায়হান, তালা
তালার পত্রিকা ব্যবসায়ী মো. নূর ইসলাম এর মানব সেবার দৃষ্টান্তে দীর্ঘ প্রায় ১যুগ পর আপন ঠিকানা ফিওে পেলো মানুষিখ প্রতিবন্ধি “কাতলা” ওরফে ঘোষ সনৎ। তাঁর ঠিকানা ফিরে পাবার সাথে দীর্ঘ বছল পর হারানো সন্তানকে ফিরে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হতভাগ্য মা সহ পরিবারের সদস্যরা। পত্রিকা ব্যবসায়ী দরিদ্র নূর ইসলামের মহানকাজে আনন্দিত হয়েছে তালার সাধারন মানুষ।
সূত্রে জানাগেছে, প্রায় ১ যুগ পূর্বে ভাত দিতে দেরি হওয়ায় মানুষিক প্রতিবন্ধি (পাগল) ঘোষ সনৎ (৪৩) মায়ের উপর অভিমান করে বাড়ি থেকে বের হয়ে হারিয়ে যায় ঘোষ সনৎ। তারপর বিধাতার ভাগ্য লেখায় পথে পথে ঘুরতে ঘুরতে মানষিক ভারসাম্যহীন সনৎ তালা বাজারে চলে আসে। এখাণ থেকে আশ্রয় মেলে তালার পত্রিকা বিক্রেতা নুর ইসলাম এর বাড়িতে। সেময় সনৎ সনৎ তার নাম ঠিকানা কিছু বলতে না পারায় নূর ইসলাম তাকে “কাতলা” নাম দিয়ে প্রায় ১২ বছর ধরে নিজ সন্তানের ন্যায় ভরন পোষন দিয়ে লালন-পালন করে আসছে।
পত্রিকা ব্যবাসয়ী নুর ইসলাম জানান, মানষিক প্রতিবন্ধি কাতলাকে সুস্থ্য করার জন্য প্রথম থেকেই তিনি (নূর ইসলাম) সহ তার পরিবারের অন্য সদস্যরা সর্ব প্রকার সেবা দিয়ে এসেছে। সেবার কারনে গত ৬/৭দিন পূর্বে ঘুমের মধ্যে কাতলা মা-মা বলে ডাকতে থাকে। তখনও আমরা কেউই তার নাম পরিচয় জানি না। কিন্তু বুধবার হঠাৎ কাতলা তার স্মৃতি শক্তি ফিওে পায় এবং জিজ্ঞাসে তার নাম সনৎ ঘোষ, গ্রাম-সেনবাড়ি, থানা- পাংশা, জেলা-রাজবাড়ি বলে জানায়। এরপর  নূর ইসলাম বিশ্বাস তার দেওয়া ঠিকানায় গিয়ে জানতে পারে, তার পরিবার বর্তমানে ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার ভাটবাড়ীয়া গ্রামে বসবাস করে। পরে সেখানে গিয়ে জানা যায় ১২ বছর আগে নিখোঁজ হওয়া রতন ঘোষের ছেলে সনৎ ঘোষ হচ্ছে এখানকার কাতলা। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর সনৎ ঘোষের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে শুক্রবার দুপুরে তারা ছুটে আসেন তালায় নুর ইসলামের বাড়িতে। সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন মুহুর্তের। ১২ বছর পর সন্তানকে ফিরে পেয়ে সনৎ ঘোষের মা রেখা রানী চোঁখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। প্রায় আধাঘণ্টা সন্তানকে বুকে নিয়ে কান্নাকাটি করেন। মায়ের সঙ্গে ভাইকে নিতে আসেন ছোট ভাই সাগর ঘোষ, ভাতিজা, বোন জামাই ও বউদি। সম্ভ্রান্ত হিন্দু পরিবারের সদস্য কাতলা ও ঘোষ সনৎ ৪ ভাই ও ৩ বোনের মধ্যে ছিল তৃতীয়।
কাতলার মা’ ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার ভাটবাড়ীয়া গ্রামের রতন ঘোষের স্ত্রী রেখা রাণী জানান, প্রায় ১২বছর পূর্বে একদিন ভাত দিতে দেরি হওয়ায় রাগ করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় মানসিক ভারসম্যহীন ঘোষ সনৎ। তার পর থেকে সনৎ নিখোজ ছিল। এতবছর পর নিজ সন্তানকে কাছে পেয়ে আবেগ আপ্লুত বৃদ্ধা মা রেখা রাণী আনন্দে বারবার চোখ’র পানি মুছতে থাকেন।
উল্লেখ্য, তালার পত্রিকা বিক্রেতা ভূমিহীন নূর ইসলাম হযরত খাজা মঈনউদ্দীন চিশত্ী (রহ.) এর অনুসারী এবং মারফতি তরিকায় বিশ্বাসী। নূও ইসলাম বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে তালায় আগত যে কোনও গোত্র বা ধর্মের ভবঘুরে মানুষিক প্রতিবন্ধি (পাগল) নারী-পুরুষ নিজ বাড়িতে নিয়ে সন্তান ¯েœহে লালন-পালন করে থাকেন। ইতোপূর্বে নূর ইসলাম ভারতের হরিয়ানা পাঞ্জাব এলাকার জয় সিং, গুজরাটের আজগর, যশোর মাগুরা এলাকার অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য’র পুত্র উজ্জ্বল সহ অনেকে মানষিক প্রতিবন্ধিকে তার বাড়িতে নিয়ে সন্তান ¯েœহে লালন-পালন করেন। পরে সুস্থ্য হবার পর ওই সকল প্রতিবন্ধিদের তাদের নিজ পরিবারের হাতে তুলে দিয়েছেন। বর্তমানেও ৪জন মানষিক প্রতিবন্ধিকে নিজ বাড়িতে রেখে দেখভাল করছেন নূর ইসলাম বিশ্বাস ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।