তালায় প্রতিমা বিসর্জনকালে হরিষে বিষাদ : শিশুর সলিল সমাধি , সৎকার সম্পন্ন, শোকের মাতম


460 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
তালায় প্রতিমা বিসর্জনকালে হরিষে বিষাদ : শিশুর সলিল সমাধি , সৎকার সম্পন্ন, শোকের মাতম
অক্টোবর ২৪, ২০১৫ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

বিশেষ প্রতিনিধি :
হরিষে বিষাদের মত হৃদয়স্পর্শী  ঘটনা ঘটেছে সাতক্ষীরার তালায়। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা শেষে দেবীর বিসর্জনকালে কপোতাক্ষর জলে ডুবে একটি শিশুমৃত্যুর ঘটনায় সেখানে এখন শোকাবহ অবস্থা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্র এবং তালার খলিলনগর ইউপি চেয়ারম্যান প্রণব ঘোষ বাবলু জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় কপোতাক্ষ নদে প্রতিমা নিরঞ্জনকালে দুই তীরে ছিল হাজার হাজার মানুষ। এসময় ১০ বছরের একটি শিশু সান্ধ্য অন্ধকারে জলে পড়ে যায়। কিছুক্ষনের মধ্যেই সে নিখোঁজ হয়ে যায়। তিনি জানান, শিশুটির নাম কুন্তল রায়। তালার কানাইদিয়া গ্রামের মিহির কান্তি রায়ের ছেলে কুন্তল পঞ্চম শ্রেনীর ছাত্র। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে প্রতিমা বিসর্জনের আনন্দ ম্লান হয়ে যায়।বন্ধ হয়ে যায় সব ধরনের আনন্দ হিল্লোড়। শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। অবশেষে রাত সাড়ে ১২টায় কুন্তলের হিম শীতল নিথর দেহ ডুবুরিরা কপোতাক্ষর জল থেকে টেনে তোলে। তালা-কলারোয়া আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, উপজেলা চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার, ইউএনও মাহবুবুর রহমান এবং ওসি রেজাউল ইসলাম রেজা সহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা এ উদ্ধার অভিযানে অংশ  নেন।
কুন্তলের দেহ উত্তোলনের পর থেকে তালা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিসর্জনের হরিষ পরিনত হয়েছে এক হৃদয়বিদারক বিষাদে।
কুন্তুল রায়ের সৎকার সম্পন্ন : এলাকায় শোকের মাতম
——————————————-

ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমের তালা প্রতিনিধি বি.এম. জুলফিকর রায়হান জানান, নিহত স্কুল ছাত্র কুন্তুল রায়ের সৎকার সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার দুপুরে কানাইদিয়া শ্মশানে তাকে সৎকার করা হয়। এরপূর্বে হিন্দু ধর্মীয় রীতি পালন করা হয়। ছোট্ট শিশু কুন্তল’র সৎকারের সময় জাতী-ধর্ম-বর্ন নির্বিশেষে সকল মানুষ শোকাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। সৎকার করাকালে জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এম. মফিদুল হক লিটু, বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক মোড়ল আবু বক্কার, বীর মুক্তিযোদ্ধা শুকুর আলীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও এলাকার শত শত মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

মৃত্যু স্কুল ছাত্র কুন্তল রায় কানাইদিয়া গ্রামের মিহির রায়’র পুত্র। সে স্থানীয় রথখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। মিহির রায়’র দু’ পুত্র সন্তানের মধ্যে কুন্তল ছিল ছোট পুত্র। কুন্তুল রায় সাতার জানতো না।

শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে কপোতাক্ষ নদের ঘোষনগর খেয়াঘাট এলাকায় প্রতিমা বিসর্জন দেবার সময় কুন্তল রায় (১১) নদের মধ্যে পড়ে যায়। এসময় আশপাশের কয়েক ব্যক্তি বিষয়টি বুঝতে পেরে নদের পানিতে নেমে তল্লাশি চালায়। কিন্তু কুন্তল রায়কে উদ্ধারের ব্যার্থ হয়ে ডুবুরী দলকে সংবাদ দেয়। রাত ১১টার দিকে খুলনা থেকে ফায়ার সার্ভিসের ৬ সদস্য বিশিষ্ট ডুবুরী দল এসে নদীতে খোজাখুজির এক পর্যায়ে ১ টার দিকে কুন্তলের মৃত দেহ উদ্ধার করে।

এসময় স্থানীয় সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) সংসদ সদস্য অ্যাড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, তালা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার, খলিলনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রণব ঘোষ বাবলু, জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এম. মফিদুল হক লিটু, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোড়ল আব্দুর রশিদ, জালালপুর ইউনিয়ন আ.লীগ সভাপতি রবিউল ইসলাম মুক্তি, ওয়ার্কার্স পার্টির তালা উপজেলা সম্পাদক সরদার রফিকুল ইসলামসহ এলাকার হাজার হাজার মানুষ নদীর দু’ ধারে জড়ো হয়। কুন্তুলের লাশ উদ্ধারের পর এলাকায় শোকের মাতম ছড়িয়ে পড়ে।