তালায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ , ৬১ গ্রাম প্লাবিত : সংবাদ সম্মেলনে পানি কমিটি


379 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
তালায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ , ৬১ গ্রাম প্লাবিত : সংবাদ সম্মেলনে পানি কমিটি
আগস্ট ২৬, ২০১৫ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

তালা প্রতিনিধি : বুধবার বিকালে তালার মুক্তিযোদ্ধা আঃ সালাম গণগ্রন্থাগারে জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে পানি কমিটির আয়োজনে এক সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তালা উপজেলা পানি কমিটির সভাপতি মোঃ ময়নুল ইসলাম।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বিগত এক দশক যাবৎ তালা উপজেলায় জলাবদ্ধতা সমস্যা অব্যাহত রয়েছে। এ বছর বন্যা ও জলাবদ্ধতায় উপজেলার প্রায় ৩০ ভাগ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। আর্থ-সামাজিক সকল সেক্টরই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জলাবদ্ধতা দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তালা উপজেলা প্রশাসনের বরাত দিয়ে তিান আরো বলেন,উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের ৬১টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার সংখ্যা ৮৫৭০। পাঠদান কক্ষে পানি ঢুকে পড়ায় ৩৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ৬৬১টি নলকূপ, মৎস্য সম্পদ ভেসে গেছে ১০৭৪.৩৫ হেক্টর, ফসলের ক্ষতি ৩০৫.৬২ হেক্টর, ক্ষতিগ্রস্থ পাঁকা সড়ক ৮ কিমি, কাঁচা সড়ক ৪১ কিমি এবং ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধ ১৪ কিমি। উপজেলার জালালপুর, খলিলনগর, সরুলিয়া ও ধানদিয়া ইউনিয়নে ১১টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩২২টি পরিবার আশ্রয় গ্রহণ করেছে।

বিভিন্ন এলাকায় স্থানভেদে ২-৬ ফুট পানি রয়েছে। এলাকায় সর্প আতংক বিরাজ করছে। খাবার পানির তীব্র সংকট ও পানিবাহিত রোগব্যাধির প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এলাকায় খাদ্য সংকট ও কর্মসংস্থানের তীব্র অভাব দেখা দিয়েছে। যে সব বসতি এলাকা এখনও জলমগ্ন সেসব এলাকায় চলাচলেও দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় এসব এলাকা থেকে পানি নামতে কমপক্ষে ২/৩মাস সময় লাগবে। জলাবদ্ধতায় সব থেকে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে দরিদ্র মানুষ, অন্ত্যজ শ্রেণী, দুস্থ, বৃদ্ধ, প্রতিবন্দী, মহিলা ও শিশুরা।

এবারের জলাবদ্ধতা ও বন্যার মূল কারণ হলো নদী খনন কাজ অসম্পূর্ণ থাকা। দেখা গেছে, কপোতাক্ষ নদের বিভিন্ন স্থানে ভাঙ্গন, কোন কোন স্থানে বাঁধ না থাকা এবং বাঁধ উপচানো নদীর পানি জনপদে প্রবেশ  করেছে। উপজেলার খেশরা ইউনিয়ন থেকে ধানদিয়া ইউনিয়ন পর্যন্ত সরেজমিনে নদীর তীর বরাবর পরিদর্শন করে দেখা গেছে কপোতাক্ষ নদের তালা উপজেলা অংশে ৩৪ টি জায়গা উপচিয়ে সেই পানি জনপদের জনবসতি এলাকায় ঢুকে পড়েছে এবং এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। যে সব এলাকায় নদীর পানি প্রবেশ করে নাই সে সব এলাকার বসত বাড়ী প্লাবিত হয়নি, জলাবদ্ধতা সে সব এলাকায় সহনশীল পর্যায়ে রয়েছে।

সাংবাদিক সম্মেলনে আরো বলা হয়,কপোতাক্ষ নদের নাব্যতা বৃদ্ধি ও জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানকল্পে ‘কপোতাক্ষ নদের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ প্রকল্পের (১ম পর্যায়)’ আওতায় এ বছর খেসরা ইউনিয়নের বালিয়া থেকে কেশবপুরের সাগরদাঁড়ি পর্যন্ত ৪৫.৫ কিঃমিঃ নদী খনন করার কথা থাকলেও খনন সম্পন্ন হয়েছে কপিলমুনির কাছিকাটা থেকে সাগরদাঁড়ি পর্যন্ত ২৮.৭ কিমি। কাছিকাটা থেকে নিম্নে বালিয়া পর্যন্ত ১৭ কিমি নদী খনন না হওয়ায় জলাবদ্ধতা দূরীকরণে নদী খনন তেমন কোন উপকারে আসেনি। নিম্নে খনন না হওয়া অংশের নদী অপ্রশস্ত ও পলি জমে নদীর বুক অস্বাভাবিক উঁচু থাকার জন্য জলাবদ্ধ পানি তেমন নিষ্কাশিত হতে পারছেনা বললেই চলে।

প্রকল্পটি যেভাবে বাস্তবায়িত হওয়ার কথা সেভাবে বাস্তবায়ন করা হয়নি। প্রকল্পে বলা হয়েছে উপজেলার পাখিমারা বিলে টিআরএম (জোয়ারাধার) চালু করার পর নদী খনন করতে হবে। তা না হলে নদী খনন কোন উপকারে আসবে না। নিম্ন অববাহিকা থেকে নদী খনন করতে করতে উপরের দিকে যেতে হবে। যান্ত্রিকভাবে নদী খননের পাশাপাশি খনন কাজে এলাকার শ্রমিকদের যুক্ত করতে হবে এবং শ্রমিক দ্বারা খননকৃত মাটি দ্বারা দু’পাশে মজবুত বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। অভ্যন্তরীণ পানি নিষ্কাশনের জন্য বাঁধের উপর আউটলেট পাইপ স্থাপন করতে হবে।

কিন্তু প্রকল্পের শর্ত অনুযায়ী টিআরএম চালু না করে নদী খনন করা হয়েছে। নিম্ন অববাহিকা থেকে নদী খনন শুরু করা হয়নি। খনন ও বাঁধ নির্মাণ কাজে শ্রমিকদের নিযুক্ত করা হয়নি এবং বাঁধে আউটলেট পাইপ বসানো হয়নি। তাছাড়া প্রকল্পের মূল ডিজাইন পরিবর্তন করে নদীকে অপ্রশস্ত করা হয়েছে এবং সাইড স্লোপ হৃাস করা হয়েছে। যে ২৮.৭ কিমি নদী খনন করা হয়েছে তাও অসম্পূর্ণ। অনেক জায়গায় বাঁধ নির্মাণ করা হয়নি। কপোতাক্ষ নদের উজানের প্রায় ১লক্ষ ১৫ হাজার হেক্টর এলাকার বর্ষার পানি এসে এখন নদীর খনন হওয়া অংশে চাপ সৃষ্টি করছে, নিম্নের নদী খনন না হওয়ায় এ পানি নিষ্কাশিত হতে পারছেনা। বিশাল এলাকার পানি অপ্রশস্ত নদীর মধ্যে এসে বাঁধ ভেঙ্গে বা উপচিয়ে এলাকা প্লাবিত করছে। যদি প্রকল্পে শ্রমিক নিয়োগ করা হতো তাহলে যথাসময়ের মধ্যে বাঁধ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা যেতো এবং নিম্ন অববাহিকা থেকে যদি নদী খনন কাজ শুরু করা হতো তাহলে এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। ফলে পরিস্থিতির আরো অবনতি হওয়ার আশংকা রয়েছে।