তালায় ভূমিহীনকে বসত বাড়ি থেকে অবৈধ ভাবে উচ্ছেদ ও ভাংচুরের প্রতিবাদে সাংবাদিক সম্মেলন


448 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
তালায় ভূমিহীনকে বসত বাড়ি থেকে অবৈধ ভাবে উচ্ছেদ ও ভাংচুরের প্রতিবাদে সাংবাদিক সম্মেলন
আগস্ট ১৯, ২০১৫ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

বি.এম.জুলফিকার রায়হান,তালা :
তালা উপজেলার রায়পুর গ্রামের মৃত. গোলক বিহারী রায়’র হতদরিদ্র ও তালিকা ভুক্ত ভূুমিহীন পুত্র হাজারীলাল রায় ওরফে পিন্টুকে তার বসত বাড়ি থেকে অবৈধ উচ্ছেদ করা হয়েছে। একই সাথে তার বাড়ি ও দোকান ভাংচুর ও লুটপাট করে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার দুপুরে তালা রিপোটার্স ক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে পিন্টু এই অভিযোগ করেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে হাজারীলাল ওরফে পিন্টু জানান, বসত ভিটার জমি না থাকায় দীর্ঘ ১৩ বছর যাবত রায়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে ত্রিমোড়ে সরকারি রাস্তার পাশে একটি কুড়ে ঘর নির্মান করে সেখানে স্ত্রী, সন্তান নিয়ে বসবাস করে। একই সাথে সে আয়ের জন্য বসত ঘরের সাথে ছোট্ট মুদি ও খাবারের দোকান করে কোনও রকম খেয়ে না খেয়ে জীবন যাপন করে আসছে। পরবর্তীতে বসবাসকৃত উক্ত সরকারি জমি বন্দোবাস্ত পাবার আবেদন করলে যথাযথ প্রক্রিয়ায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) পিন্টুকে উক্ত জমি ১সনা ইজারা প্রদান করেন। হাজারীলাল পিন্টু বলেন, ইজারা পাওয়া জমির পাশে সরকারি খাস জমি একই গ্রামের মৃত. নারায়ন চন্দ্র গোলদার’র পুত্র প্রভাবশালী ভূমিদস্যু তুষার গোলদার মধু অবৈধ দখল নিয়ে সেখানে পাঁকা দোকানঘর নির্মান করেছে। ইজারা পাওয়ার পর উক্ত জমি থেকে পিন্টুকে বিতাড়িত করে সমূদয় খাস জমি একাই ভোগ দখল করার জন্য তুষার গোলদার মরিয়া হয়ে ওঠে। এজন্য সে পিন্টু ও তার পরিবারের নানান হুমকি দিতে থাকে। ফলে বাধ্য হয়ে পিন্টু তালা থানায় একটি জিডি (৩৮৭, ১২/১১/১৪ ইং) করেন। পরবর্তিতে পুলিশ ও গ্রামের লোকজন’র বাঁধার কারনে তুষার গোলদার মধু পিন্টুকে জমি থেকে উচ্ছেদ করতে ব্যর্থ হয় এবং নানান ষড়যন্ত্র শুরু করে। এরই মধ্যে পিন্টুর ইজারা পাওয়া ১সনা জমির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন বছরের জন্য পুনরায় ইজারা পাবার জন্য আবেদন করেন। যা বাস্তবায়নের জন্য প্রক্রিয়াধিন আছে। বিষয়টি জানতে পেরে তুষার গোলদার মধু পাটকেলঘাটা এসিল্যান্ড অফিসে যোগাযোগ শুরু করে। সে এসিল্যান্ড অফিসকে ম্যানেজ করে গত ১৬ আগষ্ট বিকাল ৪টার দিকে তালার এসিল্যান্ড মনিরা পারভীনকে সাথে নিয়ে পিন্টুর কুড়ে ঘর ও দোকান ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়। এসময় তুষার গোলদার ও তার কাকা হরিপদ গোলদার, ভাইপো নিপ্পন গোলদার ও অন্যান্য লোকজন ঘরের বেড়া, আসবাবপত্র, দোকানের মুদি মালামাল ভাংচুর, পুকুরে ফেলে দেওয়া ও  লুটপাট করে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষয় ক্ষতি করে।
হাজারীলাল ওরফে পিন্টু অভিযোগ করে বলেন, আমি যদি অবৈধবাবে সরকারি জমির উপর থাকি তাহলে এসিল্যান্ড স্যার আমাকে জায়গা ছেড়ে দেবার জন্য নোটিশ দিতে পারতো। আমি সরকারি স্বার্থে অবশ্যয় জমি ছেড়ে দিতাম। কিন্তু এসিল্যান্ড স্যার আমাকে কোনও প্রকার নোটিশ না দিয়ে তুষার গোলদার মধু’র সাথে এসে অবৈধভাবে আমার ঘর ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছে। অথচ কোনও প্রকার ইজারা না নিয়ে মধু ত্রিমোড় এর ওই খাস জমির একাংশে রাস্তার পাশে পাঁকা দোকান ঘর নির্মান ও পুকুর করে উক্ত খাস জমি ভোগদখলে থাকলেও এসিল্যান্ড স্যার তাকে উক্ত জমি থেকে উচ্ছেদ করেননি। এসিল্যান্ড কর্তৃক উক্ত জমি থেকে উচ্ছেদ হবার পর হাজারীলাল পিন্টু তার স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে পাশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠের এক কোনায় পলিথিনের চালদিয়ে, বর্তমানে তার ভিতর অমানবিক ভাবে বসবাস করছে। এদিকে, পিন্টুকে উক্ত খাস জমি থেকে উচ্ছেদ করেই তুষার গোলদার সেই জমিতে ঘর নির্মান শুরু করার চেষ্টা করছেÑ বলে পিন্টু জানান। উচ্ছেদ, ভাংচুর ও লুটপাটের পর থেকে তুষার গোলদার ও তার লোকজন পিন্টুকে নানাবিধ হুমকি-ধামকি প্রদান করছে। যে কারনে পিন্টু নিরাপত্তাহীনতায় এবং তার জমি অপদখল হতে পারে বলে আশংকা ব্যক্ত করেন। সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে পিন্টু এ বিষয়ে প্রতিকার পেতে উর্দ্ধতন কর্র্তৃপক্ষর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।