তালায় মাজরা পোকার আক্রমণে আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি: কৃষকেরা দিশেহারা


833 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
তালায় মাজরা পোকার আক্রমণে আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি: কৃষকেরা দিশেহারা
অক্টোবর ২০, ২০১৫ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

কামরুজ্জামান মোড়ল :
আমন ধানের ফসলি ক্ষেতে হঠাৎ নতুন ধরনের মাজরা পোকার আর্বিভাব হওয়ায় দু:শ্চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে তালা উপজেলার কৃষকরা। সাধারন কৃষকরা সময়, শ্রম আর হাজার হাজার টাকা ব্যয় করে শেষ মুহুর্তে মাজরা পোকার আক্রমণে বর্তমানে কৃষকের মাথায় হাত উঠার উপক্রম হয়েছে।

সরেজমিনে জানা যায়, তালা উপজেলা সকল আমনি ক্ষেতে নতুন এই পোকার আক্রমণ মারাতœক ভাবে দেখা যাচ্ছে। তবে কোথা থেকে কিভাবে এর আর্বিভাব অনুসন্ধানে কোন তথ্য মেলেনি। যদিও আমন চাষের একেবারেই শুরুতে যে সকল কৃষক পাতা রোপন করা হয় সেসকল জমির ফসলই কেবল মাজরা পোকার হাত থেকে তারা রক্ষা পেয়েছে। উপজেলার কায়েমখোলা গ্রামের কৃষক শরিফুল ইসলাম জানান, আমার চাষী জীবনে এমন পোকার আক্রমণ কখনো দেখিনি। আর এই মাজরা মারার কীটনাশক ঔষধ এখনও তৈরী হয়নি বলে দোকানীরা জানাই। কোন উপায় না পেয়ে বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক বিষ প্রয়োগ করে ২/৩ হাজার টাকা খরচ করলেও কোনো লাভ হয়নি। সপ্তাহ খানেক পূর্বে আমন ক্ষেতে মাজরা পোকার আর্বিভাব ঘটে। এই পোকা ধানের থোড় (বাইল)) চুষে খেয়ে ফেলছে। চারার প্রত্যেকটি পাতায় অবস্থান করে পাতার মাঝ হতে খেয়ে সাদা করে ফেলছে। দেখা মেলে চর, মাঠ এবং বিলজুড়ে হাজার হাজার বিঘা আমন ফসলি জমির একই অবস্থা। একটি ধানও কৃষকরা ঘরে তুলতে পারবে না কলে মহা দঃুশ্চিন্তায় দিনাতিপাত করছে।

কয়েকজন ভূক্তভোগী কৃষকের সন্ধান মেলে কুমিরা গ্রামের আব্দুস সালামের পূত্র শহিদুল ইসলাম, নওয়াবালী শেখের পূত্র আব্দুস সাত্তার, যুগিপুকুরিয়া গ্রামের আতিয়ার মোড়লের পূত্র রুহুল আমিন, রাঢ়ীপাড়া গ্রামের নুর আলী গাজী, হারান দাশ, পার কুমিরার সঞ্জিত চক্রবর্তী জানান, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে সমস্থ অর্থ ব্যয় করে আমন চাষ করেছি। কিছুদিন আগেও ধান গাছের চেহারা দেখে মন জুড়িয়ে যেত। মাজরার আক্রমণে যা অবস্থা তাতে ফসল ঘরে তুলতে পারব বলে সন্দেহ। কুমিরা দায়পাড়ার আব্দুল দফাদারের পূত্র শহিদুল ইসলাম জানান, দুইদিন যাবত ধান ক্ষেতে ¯েপ্র করছি বিরামহীনভাবে। দেখা যাক আল্লাহপাক কি করেন। অভয়তলা গ্রামের বিশিষ্ট সার ও কীটনাশক ঔষধ ব্যবসায়ী মাশরেকুল আলম মিলন জানান, গত ৩/৪ দিনে ২০ হাজার টাকার কীটনাশক ঔষধ বিক্রি করেছি। যা আমার জীবনে এত স্বল্প সময়ে ঔষধ বিক্রির রেকর্ড। এতে লাভবান হলেও আমি আদৌ খুশি না। কেননা আমিও একজন ভূক্তভোগী। তিনি জানান, মাজরা মারার ঔষধ এখনও তৈরী হয়নি। তবে উপজেলা কৃষি অফিস হতে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দিয়েছে।

উপজেলা কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা ইসহাক মোল্ল্যা জানান, কৃষককূলের বেগতিক অবস্থায় আমি নিজেও উদ্বিগ্ন। তবে নতুন ধরনের মাজরা পোকা মারার জন্য মার্শাল এবং ভিরতাকো নামক কীটনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছি। অতিদ্রুত গবেষণা পূর্বক সঠিক ঔষধ তৈরীর জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের নেক নজর কামনা করেছেন ভূক্তভোগী কৃষক মহল।