তালায় মানবিক সহায়তার তালিকাকালে ঘুষ গ্রহন : সহকারী নায়েবসহ ৩ প্রতারককে গণধোলাই


456 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
তালায় মানবিক সহায়তার তালিকাকালে ঘুষ গ্রহন : সহকারী নায়েবসহ ৩ প্রতারককে গণধোলাই
মে ১২, ২০২০ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

বি. এম. জুলফিকার রায়হান ::
মহামারী করোনা ভাইরাসের কারনে তালার মাগুরা ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্থ দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা কার্যক্রম যাচাই-বাছাইকালে ঘুষ গ্রহনকালে দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী নায়েব আব্দুল জলিল ও তার অপকর্মের ২ সহযোগীকে গণধোলাই দিয়েছে এলাকার মানুষ। বিক্ষুব্ধ জনতা তাদের দীর্ঘক্ষন আটকিয়ে রাখার পর স্থানীয় মাগুরা ইউপি চেয়ারম্যান গনেষ দেবনাথ সহ ইউপি সদস্যরা তাদের উদ্ধার করেন। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামে।

একাধিক সূত্রে জানাগেছে, করোনা ভাইরাস এর কারনে দরিদ্র মানুষদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা হিসেবে আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা প্রদান করবেন। এজন্য ইতোমধ্যে তালিকা তৈরী করা হয়েছে। উক্ত তালিকা সঠিকভাবে নিরুপন করা হয়েছে কিনা সেটা দেখার জন্য তালা উপজেলা প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন করে সরকারী কর্মকর্তা (ট্যাগ অফিসার) নিয়োগ দেয়া হয়। তালার মাগুরা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডে রঘুনাথপুর গ্রামে উক্ত তদন্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন তালা মুড়াকুলিয়া গ্রামের মৃত. শেখ তায়েজুল ইসলামের ছেলে ও মাগুরা ইউনিয়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত খলিশখালী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (সহকারী নায়েব) আব্দুল জলিল। সেই সুযোগে আব্দুল জলিল সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির আওতায় ভাতাভোগীদের নাম বাদ দেয়া এবং নতুন নাম অন্তর্ভূক্ত করার কথা বলে দরিদ্র মানুষদের কাছ থেকে ১ হতে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করে। তবে, আব্দুল জলিল সরাসরি নিজে টাকা আদায় না করে তার পোষ্য মাগুরা ভূমি অফিসের জমি জোর দখলকারী চিহ্নিত দালাল ও প্রতারক প্রদীপ বিশ^াস সহ রঘুনাথপুর গ্রামের আকবরকে দিয়ে গত ২দিনে প্রায় ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। এছাড়া যারা টাকা কম দেয় তাদের নাম তালিকা থেকে কেটে দেবার হুমকি দিয়ে গাছের পাকা লিচু পর্যন্ত হাতিয়ে নেয় এবং তাদের বাকি টাকা মাদক ব্যবসায়ী মাগুরা বাজারের প্রদীপ বিশ^াসের কাছে দেবার জন্য নির্দেশনা দেয়।

রঘুনাথপুর গ্রামের বেলায়েত গাজীর স্ত্রী শাহিদা বেগম (৬০) ও মৃত শামসু শেখ এর পুত্র রাজু শেখ (৩৩) বলেন, সহকারী নায়েব জলিল তালিকা হতে নাম কেটে দেয়ার ভয় দেখিয়ে আমাদের কাছ থেকে প্রদীপ ও আকবর ১ হাজার টাকা করে নিয়েছে। আব্দুল গফুর জানান, আমার নামে কার্ড করে দেবে বলে ১হাজার টাকা এবং ৫কুড়ি লিচু নিয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ইয়াছিন শেখ বলেন, সহকারী নায়েব জলিল তার ২ সহযোগী প্রদীপ ও আকবরের মাধ্যমে মানবিক সহায়তার কার্ড দেয়ার নাম করে প্রায় ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। এছাড়া যারা টাকা দিতে পারেনি তাদের টাকা প্রদীপের কাছে দেয়ার জন্য বলে।
একপর্যায়ে বিষয়টি জানাজানি হবার পর মঙ্গলবার দুপুরে স্থানীয় জনগন প্রতারক প্রদীপ বিশ^াস ও আকবরকে হাতে-নাতে আটক করে গণধোলাই দেন। একইসাথে সহকারী নায়েব আব্দুল জলিলকেও মারধর করে এবং আটকিয়ে রাখে। বিষয়টি তৎক্ষনাত উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইকবাল হোসেনকে জানানো হয়। পরে প্রতারকরা উপস্থিত কয়েকজনকে টাকা ফেরৎ দেয়।

এ বিষয়ে, মাগুরা ৭,৮,৯ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত ইউপি সদস্য রেহেনা বেগম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, শাহিদা বেগম নামের এক মহিলার কাছে নায়েব জলিল ও তার লোকেরা টাকা চাইলে শাহিদা আমার কাছ থেকে ধার নিয়ে তাদের দেয়। এ বিষয়ে মাগুরা ইউপি চেয়ারম্যান গনেষ দেবনাথ বলেন, ঘটনা সম্পূর্ন সত্য। সহকারী নায়েব ও তার সহযোগীরা মানুষের নিকট হতে কার্ডের যাচাই বাচাই এবং মানবিক সাহায্য দেওয়ার নাম করে টাকা গ্রহন করেছে। তবে ঘুষ গ্রহনের অভিযোগ অস্বীকার করে সহকারী নায়েব মো. আব্দুল জলিল বলেন, আমার নাম ভাঙ্গিয়ে প্রদীপ ও আকবর মানুষদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়। যা পরে ফেরৎ দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইকবাল হোসেন বলেন, সহকারী নায়েব জলিল এর সম্পর্কে আমি শুনেছি। তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। আপনারা অতিদ্রুত সেটা জানতে পারবেন।