তালায় মৎস্য ঘেরে অগ্নিসংযোগ ও বিষ প্রয়োগ : ১২ লক্ষ টাকার ক্ষয়-ক্ষতি


207 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
তালায় মৎস্য ঘেরে অগ্নিসংযোগ ও বিষ প্রয়োগ : ১২ লক্ষ টাকার ক্ষয়-ক্ষতি
ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২০ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

বি. এম. জুলফিকার রায়হান ::

তালা উপজেলার কেশা গ্রামের প্রায় ৪শ বিঘা আয়তনের মৎস্য ঘেরের বাসায় অগ্নিসংযোগ, বাসা ভাংচুর ও বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে। এতে ঘের মালিকের প্রায় ১২ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এঘটনায় পাটকেলঘাটা থানায় দূর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হলেও থানা পুলিশ রহস্যজনক কারনে মামলা রেকর্ড বা জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা গ্রহন করেনি। এঘটনার পর থেকে দূর্বৃত্তদের মহড়া ও হুমকির মূখে ঘের মালিক সহ জমি মালিকরা আতংকিত হয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, তালার কেশা বিলের প্রায় ৪শ বিঘা জমি ৭বছর আগে ডীড নিয়ে যৌথভাবে মাছ চাষ শুরু করেন উপজেলার বারাত গ্রামের আলহাজ¦ আফছার আলীর ছেলে মো. তৌহিদুল ইসলাম, কেশা গ্রামের দলিল উদ্দীন সরদার’র ছেলে মো. নুরুল ইসলাম ও নোয়াকাটি গ্রামের মৃত. নয়েজ উদ্দীন’র ছেলে আলাউদ্দীন সরদার। চলতি ১৪২৬ বাংলা সালে ডীড’র মেয়াদ শেষ হওয়ায় উক্ত ঘের ব্যবসায়ীরা ৯৬জন জমি মালিকের কাছ থেকে বাংলা ১৪২৭ সাল থেকে ১৪৩১ সাল পর্যন্ত আবারও একটি ডীড করে নেন। এই ডীড’র পর থেকে এলাকার একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিত ভাবে ওই ঘেরের মালিকদের হুমকি দিচ্ছিল।
ঘের মালিক তৌহিদুল ইসলাম জানান, কেশা বিলের জমি মালিকদের শুধু মাছ চাষ করার জন্য বছরে ৬ হাজার টাকা এবং ডোবা, নালা ও ক্যানেলের জন্য পুরো বছরে ২০ হাজার টাকা হারির চুক্তি করে মাছের ঘের করা হয়। তিনি বলেন, মাছ চাষ শুরুর পর থেকে এলাকার একটি মহল অনৈতিক দাবী করলে বিভিন্ন সময়ে তাদের কিছু দাবী বাধ্য হয়ে মেনে নেয়া হয়। কিন্তু সম্প্রতি তাদের অবৈধ দাবী মেনে না নেয়ায় ওই মহলটি নানান ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার, হুমকি ও হয়রানীর চেষ্টা চালাতে থাকে। এরমধ্যে গত ২৬ ফেব্রুয়ারী ৯৬ জন জমি মালিকের কাছ থেকে অ্যাফিডেভিট (নং : ৪৬১) করে আবারও ঘেরের ডীড করে নেয়া হলে ওই মহলটি নানান হুমকি দিতে থাকে। এক পর্যায়ে বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারী) সন্ধ্যায় দূর্বৃত্তরা ঘেরের ২টি বাসায় অগ্নিসংযোগ, বাসা ভাংচুর, ঘেরে বিষ প্রয়োগ ও লুটপাট করে প্রায় ১২ লক্ষ টাকার ক্ষতি করে। এঘটনায় ওই রাতে েেঘর মালিক আলাউদ্দীন সরদার পাটকেলঘাটা থানায় দূর্বৃত্ত সামছুর রহমান, বাপ্পী সরদার, বাহাউদ্দীন সরদার, রানা সরদার, মোসলেম সরদার ও রফিকুল সরদারের বিরুদ্ধে একটি এজাহার দাখিল করেন। কিন্তু একটি রাজনৈতিক মহল ও দূর্বৃত্তদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে পাটকেলঘাটা থানার ওসি ওই মামলা রেকর্ড করেনি।
এদিকে থানায় মামলা দায়ের’র চেষ্টা এবং ঘের ছেড়ে চলে যাবার জন্য দূর্বৃত্তরা ঘের’র মালিক ও ডীড দাতা জমি মালিকদের দফায় দফায় হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ঘের মালিক ও ডীড দাতা জমি মালিকরা আতংকিত হয়ে পড়েছে।
এব্যপারে পাটকেলঘাটা থানার ওসি কাজী ওয়াহিদ মুর্শেদ জানান, এবিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

#