তালায় লাল স্বর্ণা ধানের বীজের চারায় দু’সপ্তাহে শীষ : কৃষকদের মাথায় হাত


926 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
তালায় লাল স্বর্ণা ধানের বীজের চারায় দু’সপ্তাহে শীষ : কৃষকদের মাথায় হাত
সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৮ কৃষি তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার ::
তালায় চলতি আমন মৌসুমে নিম্মমানের লাল স্বর্ণার ধান বীজে ধরা খেয়েছে তৃণমূলের কৃষকরা। বীজতলা থেকে চারা রোপনের ১৫-২০ দিনে শীষ গজানোয় (ফুলে যাওয়ায়) মাথায় হাত উঠেছে কৃষকদের। স্থানীয় তালার শাহপুর বাজার থেকে লাল স্বর্ণা ধানের বীজ কিনে আবাদ করে মৌসুমি ফসলের লোকসানে বিক্রেতার কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন তারা। অধিক মুনফা লাভের আশায় বীজ বিক্রেতা মৃত বিলায়েত আলী মহলদারের ছেলে হায়দার আলী মহলদার বীজ ডিলার সেজে নিজের চাষকৃত নিম্মমানের বীজ স্বর্ণা বলে বিক্রয় করছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, তালা উপজেলার ভায়ড়া, আগোলঝাড়া ও শাহপুরসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় কৃষকরা আমন আবাদ করতে স্থানীয় শাহপুর বাজার থেকে লাল স্বর্ণা ধান বীজ কিনে বীজতলা করেন। এরপর রোপন উপযোগী হলে বীজতলা থেকে চারা রোপনের মাত্র ১৫/২০ দিনের মধ্যে ধান গাছে শীষ (ফুলে যাওয়ায়) গজানোয় উৎপাদন নিয়ে রীতিমত সংকটে পড়েছেন তারা। তাদের আশংকা অল্প দিনে ফুলে যাওয়ায় কোনভাবেই কাক্সিক্ষত উৎপাদন সম্ভব না। এমতাবস্তায় কিছু কিছু ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক তড়িঘড়ি করে শীষ গজানো ধান তুলে নতুন করে অন্য বীজের ধান রোপন করছেন।
এব্যাপারে উপজেলার ভায়ড়া এলাকার বীজ বিক্রেতা মৃত বিলায়েত আলী মহলদারের ছেলে হায়দার আলী মহলদারের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা গ্রামভিত্তিক বীজ তার জানামতে বীজটির ফলন ভাল বলে প্রতি কেজি পঞ্চাশ টাকা দরে কৃষকদের নিকট বিক্রয় করেছেন।
এমনকি তিনি নিজেও লাল স্বর্ণা আবাদ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। ‘স্বর্ণা’ ভারতীয় উচ্চফলনশীল (উফশী) জাতের আমন ধান। স্বর্ণা ধান চাষে সাধারণত ২০/২২ মণ প্রতি বিঘায় ফলন হয়। তাহলে গ্রাম ভিত্তিক বীজ হলে লাল স্বর্ণা নাম দিলেন কেন?এমন প্রশ্নে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। এ ছাড়া হায়দার আলী বীজ বিক্রয়ের লাইসেন্স দেখতে চাইলে তিনি দেখাতে পারেনি। কি ভাবে তিনি বীজের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রশ্ন স্থানীয় এলাকাবাসির।
এব্যাপারে তালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, কেউ এমন ধরণের নিম্মমাণের বীজ বিক্রয় করেছেন তা তার জানা নেই। যদি এমনটি কেউ করে থাকে অবশ্যই তিনি তদন্তপূর্বক সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে এ প্রতিনিধিকে জানান।
এ ব্যাপারে তালা উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত শাহপুর এলাকার আজিজ গোলদার, মুজিবর রহমান, মোহাম্মদ শেখ, আব্দুল মান্নান জানান, তারাপ্রায় ১৫ একর জমিতে লাল স্বর্ণা বীজ কিনে ধানের বীজতলা তৈরী করেছিলেন। তাদের সকলেরই অবস্থা একই। সবার ক্ষেতে ১৫/২০ দিনের মধ্যে ফুঁলে গেছে। এমন অবস্থায় তাদের আশংকা, মৌসুমী ফসল ধানের আবাদে তারা সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তারা বীজ বিক্রেতাদের কাছে এর ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। এব্যাপারে তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।