তালায় সরকারী নির্দেশ বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কপোতাক্ষ নদের ভেড়ি বাধের মাটি কাটার অভিযোগ


439 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
তালায় সরকারী নির্দেশ বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কপোতাক্ষ নদের ভেড়ি বাধের মাটি কাটার অভিযোগ
এপ্রিল ৭, ২০১৬ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

কামরুজ্জামান মোড়ল, পাটকেলঘাটা :
তালা উপজেলার ইসলামকাটি মোড়ের মেসার্স রানী এন্ড সানি ব্রিকস মালিক সরকারী নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আবারও কপোতাক্ষ পাড়ে নির্মিত গ্রাম রক্ষা বাধের মাটি কেটে ইট ভাটায় নিচ্ছে দেদারছে। এতে করে উপকূলীয় এলাকাবাসীর মধ্যে জলাবদ্ধতার আতঙ্ক বিরাজ করছে।
গতকাল বেলা ১১ টার দিকে সরেজমিন উপজেলার বলরামপুর শশ্মানঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ইট ভাটা মালিক আলহাজ্ব আব্দুল খালেকের নির্দেশে তার ম্যানেজার রবিন পাটনি দুইটি নৌকায় ৮/১০ জন শ্রমিক নিয়ে নদের পাড়ে নির্মিত বাধের মাটি কেটে ইট তৈরীর জন্য ভাটায় নিচ্ছে। এসময় মাটি কাটা শ্রমিক রুহুল আমিন, হাসানুর রহমান, জাহাঙ্গীর হোসেন, মফিজুল ইসলাম, লাল্টু সহ ১০ জন শ্রমিকের কাছে ভেড়ি বাধের মাটি কাটার কারণ জানতে চাইলে সকলেই ইট ভাটা মালিক ও তার ম্যানেজারের নির্দেশে মাটি কাটা হচ্ছে বলে জানায়। এসময় ভেড়ি বাধের পাড়ে উপস্থিত খলিশখালী ভূমি অফিসের কর্মচারী আক্তারুজ্জামানকে নির্বিকার হয়ে দাড়িয়ে থাকার কারণ জানতে চাইলে কোনো সদুত্তর না দিয়ে স্থান ত্যাগ করে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহাবুবুর রহমানকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানানো হলে তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান। এদিকে সরকারীভাবে ভেড়ি বাধের মাটি কাটার উপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কেন মাটি কাটা হচ্ছে জানতে চেয়ে ঐ ইট ভাটা মালিকের মুঠো ফোনে কথা হলে দম্ভোক্তি করে বলেন, মাটি কাটছি, যতদিন ভাটা থাকবে ততদিন এভাবে মাটি কেটে যাব! একপর্যায়ে তিনি এ প্রতিনিধির সাথে উত্তেজিত কন্ঠে বলেন, ইটভাটা চালানোর জন্য সরকারকে টাক্স দিতে হয়। নদীর মাটি ছাড়া কি ইটভাটা চলে?
উল্লেখ্য কপোতাক্ষ নদের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ প্রকল্পের আওতায় (১ম পর্যায়) খননকৃত মাটি দ্বারা বাধ নির্মাণ করা হয়। যা স্থানীয় জনসাধারণের চলাচল এবং বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি উপচে পড়া রোধ করবে। এছাড়া টেকসই ভেড়ি বাধে বনায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বারবার ইটভাটা মালিকদের ভেড়ি বাধের মাটি না কাটার নির্দেশ দেয়। কিন্তু এসবের কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করেই সম্পূর্ণ অবৈধভাবে সরকারী নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আবারও মাটি কেটে ইট ভাটা নিয়ে যাচ্ছে দেদারছে। এতে করে তীরবর্তী  এলাকার জনসাধারণের মধ্যে জলাবদ্ধতার আতঙ্ক বিরাজ করছে।